ক্যান্ডিতে শুক্রবার অনুষ্ঠিত টি২০ বিশ্বকাপের শেষ গ্রুপ ম্যাচে অস্ট্রেলিয়া ৯ উইকেটের পার্থক্যে ওমানকে পরাজিত করে টুর্নামেন্টের সমাপ্তি ঘটায়। অস্ট্রেলিয়ার ক্যাপ্টেন মিচেল মার্শ ৩৩ বলে ৬৪ রান তৈরি করে দলকে দ্রুত লক্ষ্য অর্জনে নেতৃত্ব দেন। ওমান ১০৪ রান জমা দিয়ে অস্ট্রেলিয়ার সামনে বড় চ্যালেঞ্জ তৈরি করতে ব্যর্থ হয়।
ওমানের ইনিংস শুরুতে অমির কালিমকে প্রথম বলেই এক্স-ওয়ে করে এক্সভিয়ার বার্টলেট, যিনি ২ উইকেটের ২৭ রান দিয়ে ১০ ওভারে দায়িত্ব নেন। ওমানের ব্যাটিং লাইনআপ মোট ১০৪ রান স্কোর করে, যার মধ্যে কোনো বড় অংশীদারিত্ব দেখা যায়নি। অস্ট্রেলিয়ার বলিং ইউনিটের শৃঙ্খলা ও দ্রুত রিফার্মেশন ওমানকে সীমিত রাখতে সহায়তা করে।
বাটিংয়ে মার্শের আক্রমণাত্মক পদ্ধতি স্পষ্ট ছিল; তিনি পাওয়ার প্লে শেষের আগেই অর্ধশতক পূর্ণ করে চারটি ছয় এবং সাতটি চার দিয়ে দ্রুত রেট বাড়িয়ে দেন। শটের বৈচিত্র্য ও শক্তি তাকে ৩৩ বলে ৬৪ রান অর্জনে সক্ষম করে, যা টার্গেটের চেয়ে ৪ রান বেশি। মার্শের পারফরম্যান্স দলকে আত্মবিশ্বাসী অবস্থায় রাখে।
অস্ট্রেলিয়ার অন্য উন্মুক্ত ব্যাটসম্যান ট্র্যাভিস হেড ৩২ রান যোগ করেন, আর জোশ ইনগ্লিস অপ্রতিদ্বন্দ্বী ১২ রান নট আউট রেখে শেষ করেন। দুজনের সংযোজন মোট ৪৪ রান তৈরি করে, যা মার্শের আক্রমণকে সমর্থন করে। ওমানের বোলিং চাপের মুখে অস্ট্রেলিয়া ১০ ওভারের বেশি সময় বাকি রেখে ১০৮-১ স্কোরে জয় নিশ্চিত করে।
এই জয় অস্ট্রেলিয়ার টুর্নামেন্টের সামগ্রিক পারফরম্যান্সের তুলনায় সামান্য সান্ত্বনা দেয়। দলটি পূর্বে জিম্বাবুয়ে ও শ্রীলঙ্কার বিরুদ্ধে পরাজিত হয়ে দ্বিতীয় পর্যায়ে প্রবেশের সুযোগ হারিয়েছে, যা টুর্নামেন্টের ইতিহাসে মাত্র দ্বিতীয়বার ঘটেছে। এছাড়া পাকিস্তানে ৩-০ পরাজয়ের পর দলটি গুরুত্বপূর্ণ খেলোয়াড় প্যাট কমিন্স এবং জোশ হ্যাজলউডের অনুপস্থিতিতে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছে।
মার্শের প্রথম দুই ম্যাচে অনুপস্থিতি টেস্টিকুলার রক্তপাতের কারণে ঘটেছিল, যা তার পারফরম্যান্সে প্রভাব ফেলেছিল। মিডিয়ার সমালোচনা বিশেষত ক্যামেরন গ্রিনের ফর্মের অবনতি এবং টিম ডেভিডকে হ্যামস্ট্রিং আঘাতের পর থেকে না খেলা অবস্থায় চার নম্বরে রাখার সিদ্ধান্তকে লক্ষ্য করেছে। গ্লেন ম্যাক্সওয়েল রান সংগ্রহে সমস্যায় পড়ে, যা দলের ব্যাটিং গভীরতায় প্রভাব ফেলেছে।
ম্যাট রেনশো প্রথম দুই গ্রুপ ম্যাচে শীর্ষ স্কোরার হলেও শ্রীলঙ্কার সঙ্গে অপরিহার্য ম্যাচে বাদ পড়ে, যা নির্বাচন সংক্রান্ত বিতর্ককে তীব্র করে। অস্ট্রেলিয়া দু’বারের বেশি সময়ের জন্য দুই বছর প্রস্তুতি নিয়ে আসার কথা বললেও, মূল ম্যাচগুলোতে প্রত্যাশিত পারফরম্যান্স না দেখাতে পারা দলকে হতাশ করেছে। মার্শের মতে, “বিটারড চেঞ্জ রুম” এবং “দুই বছর গড়ে তোলা পরিকল্পনা” সত্ত্বেও গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তে সেরা ক্রিকেট না খেলা দলের দুর্বলতা প্রকাশ করে।
অস্ট্রেলিয়া শেষ গ্রুপ ম্যাচে ১০ ওভারের বেশি সময় বাকি রেখে লক্ষ্য অর্জন করে, তবে টুর্নামেন্টের সামগ্রিক ফলাফল নিয়ে প্রশ্ন রয়ে যায়। দলটি এখন টি২০ বিশ্বকাপের শেষ পর্যায়ে প্রবেশের স্বপ্ন থেকে দূরে, এবং পরবর্তী আন্তর্জাতিক শিডিউলে পুনর্গঠন প্রয়োজন হবে। ওমানের ২০তম র্যাঙ্কের দলকে পরাজিত করা সত্ত্বেও, অস্ট্রেলিয়ার সামগ্রিক পারফরম্যান্স সমালোচনার মুখে।
এই ম্যাচের পর অস্ট্রেলিয়া টুর্নামেন্ট থেকে বেরিয়ে যাবে, এবং বিশ্লেষকরা দলের কৌশল, খেলোয়াড়ের ফিটনেস এবং নির্বাচন প্রক্রিয়ার পুনর্মূল্যায়নের আহ্বান জানাচ্ছেন। ভবিষ্যতে দুই বছর গড়ে তোলা পরিকল্পনা বাস্তবায়নের জন্য স্বাস্থ্য ও ফর্মের সামঞ্জস্য বজায় রাখা গুরুত্বপূর্ণ হবে। অস্ট্রেলিয়ার এই শেষ পারফরম্যান্স টি২০ বিশ্বকাপের ইতিহাসে একটি কঠিন অধ্যায় হিসেবে রয়ে যাবে।



