নাসা আর্টেমিস II মিশনের জন্য ৬ মার্চ (যুক্তরাষ্ট্রে) অথবা ৭ মার্চ (যুক্তরাজ্যে) লঞ্চের পরিকল্পনা করেছে। চারজন মহাকাশচারী চাঁদের অন্ধকার দিকের চারপাশে দশ দিনের একটি ভ্রমণ সম্পন্ন করবে এবং পৃথিবীতে ফিরে আসবে। এই মিশন ৫০ বছরের বেশি সময়ে প্রথমবার মানবকে চাঁদের চারপাশে পাঠাবে, যা মানব ইতিহাসের সর্বোচ্চ দূরত্বের মহাকাশযাত্রা হিসেবে গণ্য হবে।
লঞ্চের নির্ধারিত তারিখটি যুক্তরাষ্ট্রের পূর্ব সময়ে ৬ মার্চ এবং যুক্তরাজ্যের সময়ে ৭ মার্চ নির্ধারিত হয়েছে। উভয় সময়সূচি আন্তর্জাতিক সময়ের পার্থক্য বিবেচনা করে প্রকাশ করা হয়েছে, যাতে বিশ্বব্যাপী পর্যবেক্ষকরা সঠিক সময়ে ঘটনাটি অনুসরণ করতে পারেন।
এই মিশনটি আর্টেমিস প্রোগ্রামের দ্বিতীয় পর্যায় এবং চাঁদে মানব অবতরণে পথপ্রদর্শক হিসেবে কাজ করবে। আর্টেমিস II সফল হলে, নাসা ভবিষ্যতে চাঁদের পৃষ্ঠে স্থায়ী বেস স্থাপনের পরিকল্পনা এগিয়ে নিতে পারবে, যা দীর্ঘমেয়াদী মহাকাশ অনুসন্ধানের ভিত্তি গড়ে তুলবে।
লঞ্চের তারিখ নির্ধারণের আগে নাসা একটি গুরুত্বপূর্ণ পূর্বপরীক্ষা সম্পন্ন করেছে, যা ‘ভেজা ড্রেস রিহার্সাল’ নামে পরিচিত। এই পরীক্ষায় রকেটের ট্যাঙ্কে জ্বালানি ভর্তি করা হয় এবং পূর্ণ গণনা প্রক্রিয়া অনুসরণ করে লঞ্চের সিমুলেশন করা হয়। সফল রিহার্সাল মানে রকেটের সকল সিস্টেম প্রত্যাশিতভাবে কাজ করছে এবং লঞ্চের ঝুঁকি উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেছে।
‘ভেজা ড্রেস রিহার্সাল’ নাসার জন্য একটি অপরিহার্য ধাপ, কারণ এতে জ্বালানি ভর্তি অবস্থায় রকেটের কাঠামোগত স্থিতিশীলতা, ইলেকট্রনিক নিয়ন্ত্রণ এবং নিরাপত্তা প্রোটোকল পরীক্ষা করা হয়। রকেটের ইঞ্জিন, গাইডেন্স সিস্টেম এবং যোগাযোগ সরঞ্জাম সবই এই পর্যায়ে যাচাই করা হয়, যাতে লঞ্চের সময় কোনো অপ্রত্যাশিত ত্রুটি না ঘটে।
এটি আর্টেমিস দলের কেএসসি, ফ্লোরিডা-তে পরিচালিত দ্বিতীয় রিহার্সাল। প্রথম রিহার্সালটি পূর্বে অনুষ্ঠিত হয়েছিল, তবে কিছু প্রযুক্তিগত সমন্বয়ের প্রয়োজন দেখা গিয়েছিল, যার ফলে অতিরিক্ত পরীক্ষা করা হয়। দ্বিতীয় রিহার্সাল সফল হওয়ায় নাসা লঞ্চের তারিখ চূড়ান্ত করতে সক্ষম হয়েছে।
কেএসসি স্পেস সেন্টারে রকেটের প্রস্তুতি কয়েক সপ্তাহের কঠোর কাজের ফল। রকেটের মূল অংশগুলো সমাবেশ, পরীক্ষা এবং পুনরায় যাচাই করা হয়েছে, এবং শেষ পর্যন্ত লঞ্চের জন্য প্রস্তুত অবস্থায় রাখা হয়েছে। এই প্রক্রিয়ার সময় টেকনিশিয়ান এবং ইঞ্জিনিয়াররা রকেটের প্রতিটি উপাদান সতর্কতার সঙ্গে পর্যালোচনা করেছেন।
মিশনে অংশগ্রহণকারী চারজন মহাকাশচারী মোট দশ দিন চাঁদের চারপাশে ঘুরে দেখবে। তারা চাঁদের অন্ধকার দিকের পেছনে অবস্থিত অঞ্চলগুলো পর্যবেক্ষণ করবে, যা পূর্বে মানবের জন্য অপ্রাপ্য ছিল। মিশনের শেষে তারা পৃথিবীর বায়ুমণ্ডলে পুনঃপ্রবেশ করে নিরাপদে অবতরণ করবে।
আর্থেমিস সিরিজের এই মিশন ভবিষ্যতে চাঁদে মানব অবতরণ এবং সম্ভাব্যভাবে মঙ্গল গ্রহে যাত্রার জন্য গুরুত্বপূর্ণ প্রযুক্তিগত অভিজ্ঞতা সরবরাহ করবে। নাসা এই মিশনের মাধ্যমে ল্যান্ডার, সেবা মডিউল এবং দীর্ঘমেয়াদী বাসস্থান নির্মাণের জন্য প্রয়োজনীয় জ্ঞান সংগ্রহ করবে।
এই সংবাদটি ক্রমাগত আপডেট করা হচ্ছে; সর্বশেষ তথ্যের জন্য পৃষ্ঠাটি পুনরায় রিফ্রেশ করা উচিৎ। নাসার অফিসিয়াল ওয়েবসাইট এবং সংশ্লিষ্ট সামাজিক মাধ্যম চ্যানেলগুলোতে মিশনের অগ্রগতি সম্পর্কে রিয়েল-টাইম আপডেট পাওয়া যাবে।
পাঠকগণকে আহ্বান করা হচ্ছে, আর্টেমিস II মিশনের অগ্রগতি অনুসরণ করে ভবিষ্যৎ মহাকাশ অনুসন্ধানের দিকে দৃষ্টিপাত করতে। আপনার মতামত বা প্রশ্ন থাকলে মন্তব্যে শেয়ার করুন; একসাথে আমরা মহাকাশের নতুন দিগন্তে পা বাড়াতে পারি।



