আজ জামালপুর, দিনাজপুর ও যশোরে তিনটি পৃথক সড়ক দুর্ঘটনা ঘটেছে, যার ফলে মোট পাঁচজনের মৃত্যু এবং একজনের আঘাত হয়েছে। সব ঘটনাই ট্রাক ও মোটরসাইকেল জড়িত, এবং স্থানীয় পুলিশ ঘটনাস্থলে তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছে।
জামালপুরে ঘটেছে প্রথম দুর্ঘটনা, যেখানে শেরপুরের কেঁদুয়ার চর এলাকার ৬০ বছর বয়সী দেলওয়ার হোসেন ও তার ৩২ বছর বয়সী পুত্র ইশতিয়াক আহমেদ জুম্মা নামাজের পর বাড়ি ফেরার পথে ট্রাকের নিচে ধসে গিয়ে মৃত্যুবরণ করেন। দুজনই তাদের মোটরসাইকেলে যাত্রা করছিলেন এবং জামালপুর‑শেরপুর সড়কের একটি পুলিশ চেকপয়েন্টের কাছাকাছি ট্রাকের সঙ্গে সংঘর্ষে তাদের গাড়ি উল্টে গিয়েছিল।
স্থানীয় সূত্র অনুযায়ী, চেকপয়েন্টে শেরপুরের দিকে যাওয়া ট্রাককে থামাতে পুলিশ সিগন্যাল দিয়েছিল। তখন একটি মোটরসাইকেল ওই ট্রাককে অতিক্রম করার চেষ্টা করছিল, আর বিপরীত দিক থেকে আসা অন্য একটি ট্রাক সেই মোটরসাইকেলকে ধাক্কা দিয়ে উল্টে দেয়। দুর্ঘটনা ঘটার পর স্থানীয় বাসিন্দারা রাস্তায় প্রতিবাদ করে, প্রায় তিন ঘণ্টা রাস্তাটি বন্ধ রাখে।
দিনাজপুরে দ্বিতীয় দুর্ঘটনা ঘটে, যেখানে সলিকদাহা গ্রাম, ঘোড়াঘাট উপজেলার ৩৫ বছর বয়সী সাজিব হাসান ও তার ৩৪ বছর বয়সী সঙ্গী এঝারুল ইসলাম রাব্বি একই সময়ে ট্রাকের আঘাতে মারা যান। তারা দিনাজপুর‑গোবিন্দগঞ্জ সড়কের টি অ্যান্ড টি চৌকিতে গাড়ি চালাচ্ছিলেন, যখন একটি ট্রাক তাদের মোটরসাইকেলকে পেছন থেকে ধাক্কা দেয়। দুজনই বীরামপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে মৃত ঘোষিত হয়।
পুলিশ জানায়, দুজনই সাজিবের শাশুড়ির বাড়ি থেকে ফিরছিলেন এবং ট্রাক চালক ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায়। অপরিচিত চালকের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়েছে এবং তদন্ত চলমান।
যশোরে তৃতীয় দুর্ঘটনা ঘটে, যেখানে ৪৫ বছর বয়সী রাবিউল ইসলাম ও তার ভাগ্নে আবদুর রহমান মোটরসাইকেল চালিয়ে যশোর শহর থেকে গ্রাম পথে যাচ্ছিলেন। মহিদিয়া বাজার, যশোর সদর উপজেলায় তাদের গাড়ি অন্য একটি যানবাহনের সঙ্গে ধাক্কা খায়। রাবিউল গাড়ি থেকে নামার সঙ্গে সঙ্গে মারা যান, আর তার ভাগ্নে আহত হয়ে যশোর জেনারেল হাসপাতালের জরুরি বিভাগে ভর্তি হন।
হাসপাতালের ডাক্তার রাবিউলের মৃত্যুকে ‘ডেথ অন অ্যারাইভাল’ (প্রবেশের সঙ্গে সঙ্গে মৃত্যু) হিসেবে ঘোষণা করেন। আহত ভাগ্নের চিকিৎসা চলমান, এবং স্থানীয় পুলিশ ঘটনাস্থলে প্রাথমিক তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছে।
এই তিনটি দুর্ঘটনা নিয়ে সংশ্লিষ্ট জেলা পুলিশ অফিসারগণ তদন্তের অগ্রগতি জানিয়ে বলেছেন যে, ট্রাক চালকদের ট্র্যাফিক নিয়ম লঙ্ঘনের অভিযোগে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে। জামালপুরে ট্র্যাফিক নিয়ন্ত্রণে ত্রুটি নির্দেশ করে, দিনাজপুরে অপরিচিত চালকের বিরুদ্ধে ফৌজদারি মামলা দায়ের করা হয়েছে, আর যশোরে ঘটনার কারণ নির্ণয়ের জন্য গতি বিশ্লেষণ ও সাক্ষী বিবৃতি সংগ্রহ করা হচ্ছে।
অধিকাংশ ক্ষেত্রে ট্রাক চালকরা ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যাওয়ার অভিযোগ রয়েছে, যা পুলিশকে আরও কঠোরভাবে অনুসরণ করতে বাধ্য করেছে। স্থানীয় জনগণও ট্র্যাফিক নিরাপত্তা বাড়াতে এবং একই রকম দুর্ঘটনা রোধে কঠোর শাস্তির দাবি জানাচ্ছেন।
সামগ্রিকভাবে, আজকের তিনটি সড়ক দুর্ঘটনা দেশের ট্র্যাফিক নিরাপত্তা ব্যবস্থার দুর্বলতা ও ট্রাক চালকদের অবহেলার দিকে ইঙ্গিত করে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দ্রুত তদন্ত ও আইনি পদক্ষেপের মাধ্যমে ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধের প্রত্যাশা করা হচ্ছে।



