কোভিড-১৯ মহামারী ২০২০ সালে শুরু হওয়ার পর থেকে, পরবর্তী পাঁচ বছরে অ্যালার্জি রোগীর সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। স্বাস্থ্য পরিসংখ্যান অনুযায়ী, এই সময়ে অ্যালার্জি রোগই সবচেয়ে বেশি কষ্টের কারণ হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে। ফলে অ্যালার্জি চিকিৎসার জন্য ব্যবহৃত ওষুধের বিক্রয় সর্বোচ্চ হারে বৃদ্ধি পেয়েছে।
অন্যদিকে, বিক্রয়ের পরিমাণে গ্যাস্ট্রিক সমস্যার ওষুধ এখনও শীর্ষে রয়েছে। মানুষের দৈনন্দিন খাবার ও জীবনের রীতিতে পরিবর্তনের ফলে পেটের অস্বস্তি এখনও ব্যাপক, ফলে গ্যাস্ট্রিক ওষুধের চাহিদা স্থিতিশীল রয়ে গেছে।
অ্যালার্জি সমস্যার বৃদ্ধির পেছনে বেশ কয়েকটি কারণ বিশ্লেষণ করা হয়েছে। প্রথমত, কোভিড-১৯ের সময় দীর্ঘ সময় ঘরে বসে থাকা, বায়ু দূষণ ও অল্প শারীরিক কার্যকলাপের ফলে শ্বাসযন্ত্রের সংবেদনশীলতা বাড়ে। দ্বিতীয়ত, সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখতে মাস্কের ব্যবহার বৃদ্ধি পেয়েছে, যা মুখের ত্বকে অতিরিক্ত আর্দ্রতা ও তাপমাত্রা সৃষ্টি করে, ফলে ত্বকের অ্যালার্জিক প্রতিক্রিয়া বাড়ে।
তাছাড়া, কোভিড-১৯ের পরবর্তী সময়ে অ্যান্টিবায়োটিক ও অ্যান্টি-ইনফ্ল্যামেটরি ওষুধের অতিরিক্ত ব্যবহারও ইমিউন সিস্টেমকে প্রভাবিত করেছে বলে গবেষণায় দেখা গেছে। এই ওষুধগুলো স্বল্পমেয়াদে রোগের উপশম দেয়, তবে দীর্ঘমেয়াদে অ্যালার্জি প্রতিক্রিয়ার ঝুঁকি বাড়াতে পারে।
পরিবেশগত পরিবর্তনও একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। শহুরে এলাকায় গাছের কমতা, ধূলিকণা ও পলেনের পরিমাণ বৃদ্ধি পেয়েছে, যা শ্বাসযন্ত্রের সংবেদনশীলতা বাড়িয়ে দেয়। বিশেষ করে বসন্ত ও গ্রীষ্মকালে পলেনের পরিমাণ শীর্ষে পৌঁছায়, ফলে অ্যালার্জি রোগীর সংখ্যা তীব্রভাবে বাড়ে।
পুষ্টি ও খাদ্যাভ্যাসের পরিবর্তনও অ্যালার্জি বৃদ্ধিতে প্রভাব ফেলছে। দ্রুত খাবার, প্রি-প্রসেসড খাবার ও কৃত্রিম সংযোজনের ব্যবহার বাড়ার ফলে দেহের ইমিউন সিস্টেমে অস্বাভাবিক প্রতিক্রিয়া দেখা দেয়। কিছু গবেষণা ইঙ্গিত করে যে, ভিটামিন ডি ও অ্যান্টিঅক্সিডেন্টের অভাব অ্যালার্জি রোগের ঝুঁকি বাড়াতে পারে।
ডিজিটাল স্ক্রিনের অতিরিক্ত ব্যবহারও চোখ ও ত্বকের অ্যালার্জিক প্রতিক্রিয়ার কারণ হতে পারে। দীর্ঘ সময় স্ক্রিনের সামনে বসে থাকা চোখের শুষ্কতা ও ত্বকের জ্বালা সৃষ্টি করে, যা অ্যালার্জি লক্ষণকে তীব্র করে। বিশেষ করে শিশু ও কিশোরদের মধ্যে এই প্রবণতা বাড়ছে।
অ্যালার্জি ওষুধের বিক্রয় বৃদ্ধির পরিসংখ্যান দেখায় যে, অ্যান্টিহিস্টামিন, নাসাল স্প্রে ও স্টেরয়েড ক্রিমের চাহিদা সর্বোচ্চ স্তরে পৌঁছেছে। এই ওষুধগুলো অ্যালার্জিক রাইনাইটিস, হাইভস ও ত্বকের র্যাশের উপশমে ব্যবহৃত হয়। বিক্রয় ডেটা অনুযায়ী, গত পাঁচ বছরে এই পণ্যের বিক্রয় পূর্বের তুলনায় প্রায় ৪০ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে।
গ্যাস্ট্রিক ওষুধের ক্ষেত্রে, অ্যান্টাসিড ও প্রোটন পাম্প ইনহিবিটরের বিক্রয় এখনও সর্বোচ্চ। যদিও অ্যালার্জি ওষুধের বিক্রয় দ্রুত বাড়লেও, গ্যাস্ট্রিক সমস্যার চাহিদা পরিমাণে অগ্রগণ্য রয়ে গেছে। বিশেষ করে বয়স্ক জনগোষ্ঠীর মধ্যে পেটের অস্বস্তি ও হজমের সমস্যার জন্য এই ওষুধগুলো প্রায়ই ব্যবহার করা হয়।
স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা উল্লেখ করেন যে, অ্যালার্জি সমস্যার সমাধানে প্রথমে ট্রিগার ফ্যাক্টর চিহ্নিত করা জরুরি। পলেন, ধূলিকণা, খাবারের সংযোজন বা পরিবেশগত পরিবর্তন যাই হোক না কেন, সঠিক নির্ণয় ও উপযুক্ত ওষুধের ব্যবহার রোগের তীব্রতা কমাতে সহায়ক। এছাড়া, নিয়মিত শারীরিক ব্যায়াম, সুষম খাবার ও পর্যাপ্ত ঘুম অ্যালার্জি প্রতিরোধে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
দ্য ডেইলি স্টারের পূর্ববর্তী প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে যে, অ্যালার্জি সমস্যার বৃদ্ধি স্বাস্থ্য ব্যবস্থার জন্য একটি নতুন চ্যালেঞ্জ তৈরি করেছে। সরকার ও স্বাস্থ্য সংস্থা এখন এই প্রবণতা মোকাবিলায় জনসচেতনতা বৃদ্ধি, পরিবেশগত উন্নতি ও গবেষণা তহবিল বাড়ানোর দিকে মনোযোগ দিচ্ছে।
অ্যালার্জি ও গ্যাস্ট্রিক সমস্যার পাশাপাশি, অন্যান্য স্বাস্থ্য সমস্যার জন্য কোন ওষুধের চাহিদা বেশি, তা পাঠকদের মতামত জানার জন্য আহ্বান জানানো হচ্ছে। আপনার দৈনন্দিন ওষুধের ব্যবহার কীভাবে পরিবর্তিত হয়েছে? আপনার অভিজ্ঞতা শেয়ার করুন, যাতে ভবিষ্যতে স্বাস্থ্য নীতি গঠনে সহায়তা করা যায়।



