23.7 C
Dhaka
Saturday, February 21, 2026
Google search engine
Homeরাজনীতিঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশন নামফলক‑সাইনবোর্ডে বাংলা বাধ্যতামূলক ঘোষণা

ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশন নামফলক‑সাইনবোর্ডে বাংলা বাধ্যতামূলক ঘোষণা

ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশন (ডিএসসিসি) গতকাল শহরের সকল ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ও অন্যান্য সংস্থাকে নামফলক, সাইনবোর্ড এবং ডিজিটাল বিজ্ঞাপনফলকে বাংলা ভাষা ব্যবহার করতে বাধ্য করার নির্দেশ জারি করেছে। এই নির্দেশের ভিত্তি হল হাইকোর্টের আদেশ, যা বাংলা ভাষার সর্বজনীন প্রচলন নিশ্চিত করার লক্ষ্যে নেওয়া হয়েছে। ডিএসসিসি কর্তৃক প্রকাশিত গণবিজ্ঞপ্তিতে স্পষ্টভাবে বলা হয়েছে যে, উচ্চ আদালতের নির্দেশ অনুসরণ করে নির্দিষ্ট শর্তে সব প্রতিষ্ঠানের সাইনবোর্ডে বাংলা লেখা বাধ্যতামূলক হবে।

বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে যে, ডিএসসিসি এলাকার ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলো সম্প্রতি ইংরেজি বা অন্যান্য বিদেশি ভাষায় নামফলক ব্যবহার করছে, যা বাংলা ভাষার ব্যবহার হ্রাসের দিকে ইঙ্গিত করে। তাই কর্পোরেশন কর্তৃপক্ষ সকল প্রতিষ্ঠানের মালিককে অনুরোধ করেছে যে, তারা যত দ্রুত সম্ভব ইংরেজি লেখা সাইনবোর্ডকে বাংলা লিখে প্রতিস্থাপন করবে। এই পরিবর্তন না করলে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান ও মালিকের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে সতর্কতা জারি করা হয়েছে।

ডিএসসিসি কর্তৃক জারি করা নির্দেশের আইনি ভিত্তি হল হাইকোর্টের আদেশ, যা বাংলা ভাষার ব্যবহারকে সর্বস্তরে নিশ্চিত করার জন্য প্রণীত। আদালতের এই আদেশের পরিপ্রেক্ষিতে ডিএসসিসি শহরের সাইনবোর্ড, নামফলক এবং ডিজিটাল বিজ্ঞাপনফলকে বাংলা ভাষায় রূপান্তর করার দায়িত্ব গ্রহণ করেছে। হাইকোর্টের এই নির্দেশনা মূলত সাংস্কৃতিক ও ভাষাগত ঐতিহ্য রক্ষার উদ্দেশ্যে নেওয়া, যা দেশের সরকারি নীতি ও ভাষা আইনের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ।

নির্দেশের আওতায় সকল ব্যবসা প্রতিষ্ঠান, রেস্তোরাঁ, শপিং সেন্টার, ক্লিনিক, হোটেল এবং অন্যান্য বাণিজ্যিক সংস্থা অন্তর্ভুক্ত, তবে দূতাবাস, বিদেশি সংস্থা ও তৎসংশ্লিষ্ট ক্ষেত্রগুলোকে বাদ দেওয়া হয়েছে। এই ব্যতিক্রমের কারণ হল আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক মিশন ও বিদেশি সংস্থার ক্ষেত্রে ভাষা নীতি ভিন্নভাবে প্রয়োগ করা হয়। তাই ডিএসসিসি শুধুমাত্র দেশের অভ্যন্তরীণ বাণিজ্যিক কার্যক্রমকে লক্ষ্য করে এই নির্দেশ জারি করেছে।

ডিএসসিসি কর্তৃপক্ষের মতে, বাংলা ভাষা দেশের জাতীয় পরিচয়ের মূল ভিত্তি এবং শহরের সব স্তরে এর ব্যবহার নিশ্চিত করা জরুরি। সাইনবোর্ড ও নামফলকে বাংলা ব্যবহার না করলে তা ভাষা নীতির লঙ্ঘন হিসেবে গণ্য হবে এবং আইনগত শাস্তির মুখে পড়তে পারে। এই প্রেক্ষাপটে কর্পোরেশন কর্তৃক প্রকাশিত বিজ্ঞপ্তিতে স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছে যে, কোনো ব্যতিক্রম ছাড়া সব প্রতিষ্ঠানের সাইনবোর্ডে বাংলা লেখা বাধ্যতামূলক।

বাণিজ্যিক সংস্থাগুলোর মধ্যে কিছু প্রতিষ্ঠান এই নির্দেশকে আর্থিক ও কার্যকরী দৃষ্টিকোণ থেকে চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখছে। তারা যুক্তি দিচ্ছে যে, ইংরেজি সাইনবোর্ডের পরিবর্তে বাংলা লিখতে অতিরিক্ত খরচ ও সময়সাপেক্ষ কাজ হতে পারে, বিশেষ করে ছোট ব্যবসার জন্য। তবে ডিএসসিসি এই উদ্বেগকে স্বীকার করে বলেছে যে, ভাষা নীতি বাস্তবায়নের জন্য প্রয়োজনীয় সহায়তা ও সময়সীমা প্রদান করা হবে, যাতে প্রতিষ্ঠানগুলো অপ্রয়োজনীয় চাপের মুখে না পড়ে।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা উল্লেখ করছেন যে, এই পদক্ষেপটি সরকারী ভাষা নীতি ও সাংস্কৃতিক সংরক্ষণের ধারাবাহিকতা হিসেবে দেখা যেতে পারে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে আওয়ামী লীগ সরকার বাংলা ভাষার উন্নয়ন ও ব্যবহারকে অগ্রাধিকার দিয়েছে, এবং এই ধরনের স্থানীয় উদ্যোগগুলোকে সমর্থন করা হচ্ছে। একই সঙ্গে, বিরোধী দল ও কিছু ব্যবসা গোষ্ঠী ভাষা নীতি সম্পর্কে ভিন্নমত প্রকাশ করতে পারে, যা রাজনৈতিক আলোচনার নতুন দিক উন্মোচন করতে পারে।

ডিএসসিসি ভবিষ্যতে এই নির্দেশের কার্যকরী পর্যবেক্ষণ ও প্রয়োগের জন্য একটি তদারকি কমিটি গঠন করার পরিকল্পনা করেছে। কমিটি সাইনবোর্ডের পরিবর্তন প্রক্রিয়া, সময়সীমা এবং আইনগত শাস্তির প্রয়োগের বিষয়গুলো তদারকি করবে। এছাড়া, প্রয়োজনে অতিরিক্ত নির্দেশনা ও সহায়তা প্রদান করে প্রতিষ্ঠানগুলোকে সুষ্ঠুভাবে পরিবর্তন সম্পন্ন করতে সহায়তা করবে।

এই নীতির বাস্তবায়ন শহরের ভাষা পরিবেশে পরিবর্তন আনবে বলে আশা করা হচ্ছে। বাংলা সাইনবোর্ডের বৃদ্ধি শহরের পরিচয়কে আরও স্বদেশীয় রঙে রাঙাবে এবং নাগরিকদের মধ্যে ভাষার প্রতি গর্ব বাড়াবে। একই সঙ্গে, ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলোকে নতুন নীতির সাথে মানিয়ে নিতে হবে, যা দীর্ঘমেয়াদে দেশের ভাষা সংরক্ষণে সহায়ক হবে।

ডিএসসিসি কর্তৃক জারি করা এই নির্দেশের ফলে শহরের বাণিজ্যিক দৃশ্যপটের পরিবর্তন এবং ভাষা নীতির বাস্তবায়ন প্রক্রিয়ায় নতুন দৃষ্টিকোণ যোগ হবে। আইনগত পদক্ষেপের সম্ভাবনা ও ব্যবসা সম্প্রদায়ের প্রতিক্রিয়া উভয়ই এই নীতির সফলতা নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। ভবিষ্যতে ডিএসসিসি কীভাবে এই নির্দেশকে কার্যকর করবে এবং কী ধরনের সমন্বয়মূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করবে, তা দেশের ভাষা নীতি ও স্থানীয় প্রশাসনের মধ্যে সমন্বয়ের সূচক হবে।

৮০/১০০ ১টি সোর্স থেকে যাচাইকৃত।
আমরা ছাড়াও প্রকাশ করেছে: ইত্তেফাক
রাজনীতি প্রতিবেদক
রাজনীতি প্রতিবেদক
AI-powered রাজনীতি content writer managed by NewsForge
RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments