শামা ওবায়েদ, পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী, ২০ ফেব্রুয়ারি শুক্রবার বিকেল পাঁচটায় ফরিদপুর জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত হয়ে নিজের কাজের পদ্ধতি স্পষ্ট করেন। তিনি উল্লেখ করেন যে, তিনি মন্ত্রী হিসেবে নয়, বরং সকলের সহকর্মী হিসেবে কাজ করতে চান এবং সমন্বিত প্রচেষ্টা ছাড়া জেলা উন্নয়ন সম্ভব নয়।
সভায় উপস্থিত বিভিন্ন দপ্তরপ্রধানকে সরাসরি সমস্যার কথা জানাতে আহ্বান জানিয়ে শামা ওবায়েদ বলেন, কোনো বাধা বা অসুবিধা হলে তা তার কাছে তুলে ধরতে পারবে। এভাবে দ্রুত সমাধান নিশ্চিত করা সম্ভব হবে বলে তিনি আশাবাদ প্রকাশ করেন।
দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণের ক্ষেত্রে সরকার ইতিমধ্যে পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে বলে তিনি জানান। সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়গুলোকে উদ্যোগ নিতে এবং মাঠপর্যায়ে দায়িত্ব পালনকারী কর্মকর্তাদের পরামর্শকে গুরুত্ব দিতে নির্দেশ দেন।
রমজান মাসে আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখার গুরুত্বের ওপরও জোর দিয়ে তিনি বলেন, রোজা ও ঈদ পালনকারী জনগণকে শান্তিপূর্ণ পরিবেশে এই পবিত্র মাসটি কাটাতে হবে। এ জন্য প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা ব্যবস্থার সমন্বয় করা হবে।
শামা ওবায়েদ দীর্ঘ আন্দোলন-সংগ্রাম ও ত্যাগের পর বর্তমান সরকার দায়িত্ব গ্রহণের কথা উল্লেখ করে, নির্বাচনের সময় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সহায়তায় জনগণ শান্তিপূর্ণভাবে ভোট দিতে পেরেছে বলে উল্লেখ করেন। তিনি সরকারের এই সাফল্যকে দেশের রাজনৈতিক স্থিতিশীলতার সূচক হিসেবে তুলে ধরেন।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে নতুন প্রত্যাশার দিগন্ত গড়ে উঠেছে বলে শামা ওবায়েদ মন্তব্য করেন। বিভিন্ন সংগ্রামের পর গঠিত বর্তমান সরকারের প্রতি জনগণের উচ্চ প্রত্যাশা রয়েছে এবং দায়িত্ব পালনকে অবহেলা করা যাবে না, এ কথায় তিনি জোর দেন।
মাদক সমস্যার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, মাদক সেবনকারী অনেকেই নিজেই ভুক্তভোগী। তবে মাদক ব্যবসায় জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে এবং সামাজিক সচেতনতা বাড়ানোর জন্য বিশেষ উদ্যোগ নেওয়া হবে।
প্রশাসনিক ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে তিনি উল্লেখ করেন, কোনো অপরাধীকে দলীয় পরিচয়ে ছাড় দেওয়া হবে না। অপরাধী যেই দলীয় সদস্য হোক না কেন—বিএনপি, আওয়ামী লীগ বা জামায়াত—আইনের আওতায় আনা হবে। এটাই সরকারী নীতি এবং সকলকে ন্যায়সঙ্গত ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হবে।
অবকাঠামো ও স্বাস্থ্যসেবার দিক থেকে শামা ওবায়েদ জানান, সরকার ইতিমধ্যে এলাকার সমস্যাগুলো সম্পর্কে সচেতন এবং ভাঙা সড়কগুলো দ্রুত মেরামতের পরিকল্পনা করেছে। গ্রামাঞ্চলের সড়কের অবস্থা উন্নত করতে প্রয়োজনীয় কাজ চালু রয়েছে।
স্বাস্থ্যখাতে তিনি উল্লেখ করেন, রোগীর সেবা নিশ্চিত করতে স্বাস্থ্যকেন্দ্র ও হাসপাতালের সুবিধা বাড়ানো হবে এবং জরুরি সেবা প্রদানকে ত্বরান্বিত করা হবে। এ জন্য প্রয়োজনীয় তহবিল ও মানবসম্পদ বরাদ্দ করা হবে।
শামা ওবায়েদ শেষ বক্তব্যে বলেন, সরকার দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকে অল্প সময়ের মধ্যে বহু ক্ষেত্রেই অগ্রগতি অর্জন করেছে এবং ভবিষ্যতে আরও উন্নয়নমূলক কাজের পরিকল্পনা রয়েছে। তিনি সকল কর্মকর্তাকে একসাথে কাজ করার আহ্বান জানান এবং বলেন, সহযোগিতার মাধ্যমে ফরিদপুরকে উন্নত ও সমৃদ্ধ করা সম্ভব হবে।
এই সভা শেষে উপস্থিত কর্মকর্তারা শামা ওবায়েদের বক্তব্যের প্রতি সম্মতি জানিয়ে, প্রস্তাবিত পরিকল্পনা বাস্তবায়নে তৎপরতা প্রকাশ করেন। ভবিষ্যতে এই ধরনের মতবিনিময় সভা ধারাবাহিকভাবে চালিয়ে যাওয়া হবে বলে সরকারী সূত্রে জানানো হয়েছে।



