দ্য হান্ড্রেডের নতুন সিজনের জন্য প্রথমবারের মতো নিলাম পদ্ধতি চালু হয়েছে। এই উদ্যোগে মোট ৭১০ জন আন্তর্জাতিক ক্রিকেটার নিলামে নাম লিখিয়েছেন, যার মধ্যে ২৩ জন বাংলাদেশি খেলোয়াড় অন্তর্ভুক্ত। নিলামটি ইংল্যান্ডের টেমস ভ্যালি স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত হবে এবং আটটি ফ্র্যাঞ্চাইজি তাদের দলে খেলোয়াড় বাছাই করবে। এই পরিবর্তনটি পূর্বের ড্রাফট সিস্টেমের তুলনায় খেলোয়াড়দের বাজারমূল্য নির্ধারণে স্বচ্ছতা আনবে বলে আশা করা হচ্ছে।
ড্রাফট পদ্ধতিতে দলগুলোকে খেলোয়াড়ের তালিকা থেকে স্বয়ংক্রিয়ভাবে বাছাই করা হতো, তবে এবার খেলোয়াড়দের নিজস্ব রিজার্ভ প্রাইস নির্ধারণের সুযোগ দেওয়া হয়েছে। রিজার্ভ প্রাইস হল ন্যূনতম মূল্য, যার নিচে কোনো দল খেলোয়াড়কে অর্জন করতে পারবে না। এই মডেলটি আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে জনপ্রিয় এবং দ্য হান্ড্রেডের ফ্র্যাঞ্চাইজিগুলোকে তাদের বাজেট অনুযায়ী কৌশলগত সিদ্ধান্ত নিতে সহায়তা করবে।
বাংলাদেশের দ্রুতগতি পেসার মোস্তাফিজুর রহমান সর্বোচ্চ রিজার্ভ প্রাইস ১ লাখ পাউন্ডের ক্যাটাগরিতে তালিকাভুক্ত। তার এই মূল্যমান নির্দেশ করে যে ফ্র্যাঞ্চাইজিগুলো তার দক্ষতা ও অভিজ্ঞতাকে উচ্চ মূল্যায়ন করছে। মোস্তাফিজুরের পাশাপাশি ৭৫,০০০ পাউন্ডের রিজার্ভ প্রাইসের তালিকায় রিশাদ হোসেন অন্তর্ভুক্ত, যিনি স্পিনের ক্ষেত্রে বিশেষজ্ঞ হিসেবে পরিচিত।
৩১,০০০ পাউন্ডের রিজার্ভ প্রাইসে বেশ কয়েকজন বাংলাদেশি খেলোয়াড়ের নাম রয়েছে। নাসুম আহমেদ, তাসকিন আহমেদ, জাকের আলী অনিক, লিটন দাস, শেখ মেহেদি, মেহেদি হাসান মিরাজ, তানজিম হাসান সাকিব, তানজিদ হাসান তামিম, সাইফ হাসান, শামিম হোসেন পাটোয়ারি, পারভেজ হোসেন ইমন, নাজমুল হোসেন শান্ত এবং তাওহীদ হৃদয়—all ৩১,০০০ পাউন্ডের ক্যাটাগরিতে তালিকাভুক্ত। এই খেলোয়াড়রা ভিন্ন ভিন্ন ভূমিকা—বাটিং, স্পিন এবং ফাস্ট বোলিং—সম্পন্ন করে, যা ফ্র্যাঞ্চাইজিগুলোর জন্য সমন্বিত দল গঠনকে সহজ করবে।
শরিফুল ইসলাম, তাইজুল ইসলাম, নাহিদ রানা, হাসান মাহমুদ, রিপন মন্ডল, নাঈম শেখ, সাব্বির রহমান এবং সৌম্য সরকারও নিলামের তালিকায় নাম রেখেছেন, যদিও তাদের ভিত্তিমূল্য একই ৩১,০০০ পাউন্ড নির্ধারিত হয়েছে। এই খেলোয়াড়দের মধ্যে কিছু আন্তর্জাতিক অভিজ্ঞতা অর্জন করেছে, অন্যরা দেশীয় লিগে উজ্জ্বল পারফরম্যান্সের মাধ্যমে দ্য হান্ড্রেডের দৃষ্টিগোচর হয়েছে। তাদের অংশগ্রহণ বাংলাদেশি ক্রিকেটের গ্লোবাল দৃশ্যপটে উপস্থিতি বাড়াবে বলে বিশ্লেষকরা অনুমান করছেন।
ইন্টারন্যাশনাল ক্রিকেট কাউন্সিলের এক মুখপাত্র উল্লেখ করেছেন, দ্য হান্ড্রেড সব পুরুষ ও নারী ক্রিকেটারকে স্বাগত জানায় এবং আটটি ফ্র্যাঞ্চাইজি তাদের দলে খেলোয়াড় বাছাই করবে। তিনি আরও জানান, এই নিলাম প্রক্রিয়ায় প্রায় এক হাজার ক্রিকেটার ১৮টি দেশের প্রতিনিধিত্ব করছেন। এতে অস্ট্রেলিয়া, দক্ষিণ আফ্রিকা, নিউজিল্যান্ড, পাকিস্তান এবং ওয়েস্ট ইন্ডিজের মতো শক্তিশালী ক্রিকেটিং জাতির খেলোয়াড়দেরও অংশগ্রহণ রয়েছে।
নিবন্ধিত খেলোয়াড়ের সংখ্যা ১,০০০ এর কাছাকাছি, যার মধ্যে ন্যূনতম ৫০ জন ক্রিকেটার অস্ট্রেলিয়া, দক্ষিণ আফ্রিকা, নিউজিল্যান্ড, পাকিস্তান এবং ওয়েস্ট ইন্ডিজের প্রতিনিধিত্ব করছেন। এই বৈচিত্র্য দ্য হান্ড্রেডকে একটি সত্যিকারের আন্তর্জাতিক টুর্নামেন্টে রূপান্তরিত করেছে, যেখানে প্রতিটি ফ্র্যাঞ্চাইজি বিভিন্ন দেশের ট্যালেন্টের সঙ্গে মিশ্রণ করে শক্তিশালী দল গঠন করতে পারবে। বাংলাদেশি খেলোয়াড়দের এই বৃহৎ প্ল্যাটফর্মে অংশগ্রহণ তাদের ক্যারিয়ারকে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা তৈরি করে।
নিলামের ফলাফল প্রকাশের পর ফ্র্যাঞ্চাইজিগুলো শীঘ্রই তাদের দলে খেলো



