শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন ২০ ফেব্রুয়ারি শুক্রবার চাঁদপুরের কচুয়া উপজেলার মধ্যে স্থানীয় প্রশাসনের সঙ্গে বৈঠকে রাত্রিকালীন অযাচিত কিশোর ঘোরাঘুরি বন্ধের নির্দেশনা দেন। তিনি জানান, রাত্রে রাস্তায় ঘুরে বেড়ানো কিশোরদের এখন পুলিশ জিজ্ঞাসাবাদ করবে এবং তাদের গন্তব্য ও উদ্দেশ্য জানাবে।
মিলন বলেন, যদি কোনো কিশোরের ঘোরাঘুরি সংবিধান লঙ্ঘনের শর্তে হয়, তবে তা পরবর্তী পর্যায়ে যথাযথভাবে পরীক্ষা করা হবে। তিনি জোর দিয়ে বলেন, এই নীতি কোনো বিকল্প ছাড়া কার্যকর হবে এবং তা অবিলম্বে প্রয়োগে আনতে হবে।
বক্তব্যটি স্থানীয় প্রশাসনের কর্মকর্তাদের সঙ্গে মতবিনিময়ের সময় দেওয়া হয়। দুপুরের বৈঠকে কচুয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মাহমুদুল হাসান রাসেল, থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা বোরহান উদ্দিন, পুলিশ সুপার রবিউল হাসান এবং জেলা প্রশাসক মো. নাজমুল ইসলাম সরকার উপস্থিত ছিলেন।
মিলন একই সময়ে নিজের অখণ্ডতা বজায় রাখার প্রতিজ্ঞা পুনর্ব্যক্ত করেন। তিনি বলেন, তিনি জীবনে কোনো দুর্নীতি করবেন না এবং অন্যকে দুর্নীতি করতে দেবেন না, এটিই তার সর্বোচ্চ প্রতিশ্রুতি।
প্রতিশ্রুতি মানতে না পারলে, তিনি সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বদলি হওয়ার অনুরোধ করেন। “যারা আমার এই প্রতিজ্ঞার সঙ্গে থাকতে পারবেন না, তারা দয়া করে অন্যত্র বদলি হয়ে যান,” তিনি বলেন এবং প্রয়োজনে নিজে বদলি করার কথাও উল্লেখ করেন।
মিলন জোর দিয়ে বলেন, কচুয়া এলাকাকে তিনি পবিত্র রাখতে চান এবং এই নীতি তার দায়িত্বের অংশ হিসেবে বিবেচনা করেন। তিনি উল্লেখ করেন, রাত্রিকালীন অযাচিত ঘোরাঘুরি বন্ধ করা যুবকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি সামাজিক শৃঙ্খলা বজায় রাখার একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ।
স্থানীয় কর্মকর্তারা শিক্ষামন্ত্রীর এই নির্দেশকে স্বাগত জানিয়ে বলেন, এটি যুবকদের নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করতে সহায়ক হবে। তারা জানান, পুলিশ জিজ্ঞাসাবাদ প্রক্রিয়া দ্রুত এবং ন্যায়সঙ্গতভাবে পরিচালনা করা হবে।
এই নীতির বাস্তবায়ন কচুয়া এলাকার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতিতে ইতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে বলে বিশ্লেষকরা অনুমান করেন। রাত্রিকালীন ঘোরাঘুরি কমে গেলে স্থানীয় অপরাধের হারও হ্রাস পেতে পারে।
মিলন উল্লেখ করেন, সংবিধান লঙ্ঘনের ক্ষেত্রে পরবর্তী পর্যায়ে প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তিনি বলেন, এই প্রক্রিয়া স্বচ্ছ এবং ন্যায়সঙ্গতভাবে পরিচালিত হবে।
বৈঠকের শেষে, জেলা প্রশাসক মো. নাজমুল ইসলাম সরকার শিক্ষামন্ত্রীর সিদ্ধান্তকে সমর্থন জানিয়ে বলেন, স্থানীয় প্রশাসন ও পুলিশ একসাথে কাজ করে এই নীতি কার্যকর করবে।
শিক্ষামন্ত্রীর এই ঘোষণা কচুয়া এলাকার রাত্রিকালীন নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি যুবকদের দায়িত্বশীল আচরণ গড়ে তোলার লক্ষ্যে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হবে।



