হলিউডের নতুন মুখ মাইলস ক্যাটন, ২০ বছর বয়সী অভিনেতা-গায়ক, রায়ান কুগলারের অস্কার-নামকরণপ্রাপ্ত চলচ্চিত্র ‘সিনার্স’‑এ প্রধান চরিত্রে অভিনয় করে আন্তর্জাতিক মঞ্চে নজর কেড়েছেন। এই ছবিটি সর্বাধিক অস্কার নোমিনেশন অর্জনকারী চলচ্চিত্রের তালিকায় স্থান পেয়েছে, ফলে ক্যাটনের ক্যারিয়ার এক নতুন স্তরে পৌঁছেছে।
ক্যাটন ২০২২ সালে বিখ্যাত গায়িকা এইচ.ই.আর.‑এর ট্যুরে ব্যাকআপ ভোকালিস্ট হিসেবে কাজ করেন। সেই সময়ে তিনি সঙ্গীত জগতে নিজের নাম গড়ে তুলছিলেন এবং লাইভ পারফরম্যান্সে হাজারো দর্শকের সামনে গাইছিলেন। ট্যুর শেষ হওয়ার পর তিনি নিজের স্বপ্নকে আরও এগিয়ে নিতে সিদ্ধান্ত নেন।
একই বছর তিনি রায়ান কুগলারের তখনো গোপন প্রকল্পের জন্য ভিডিও অডিশন পাঠান। অডিশনটি দ্রুতই কুগলারের দৃষ্টিতে পড়ে এবং ক্যাটনকে প্রধান চরিত্রের জন্য শর্তহীনভাবে নির্বাচন করা হয়। এই সুযোগটি তার জন্য এক ধরনের ‘শুটিং দ্য শট’ ছিল, যা শেষ পর্যন্ত তার জীবনের সবচেয়ে বড় ভূমিকা হয়ে দাঁড়ায়।
‘সিনার্স’‑এ ক্যাটন ‘স্যামি মুর’ চরিত্রে অভিনয় করেন, যার সঙ্গে মাইকেল বি. জর্ডান প্রধান ভুমিকায় আছেন। ছবিটি কুগলারের পূর্ববর্তী কাজের তুলনায় আরও বৃহত্তর স্কেলে তৈরি হয়েছে এবং তার অভিনয়শৈলীকে নতুন দৃষ্টিকোণ থেকে উপস্থাপন করে। ক্যাটনের পারফরম্যান্সকে সমালোচক ও দর্শক উভয়ই প্রশংসা করে, যা তার আত্মবিশ্বাসকে আরও বাড়িয়ে দেয়।
‘সিনার্স’ বর্তমানে সর্বাধিক অস্কার নোমিনেশন অর্জনকারী চলচ্চিত্রের রেকর্ড ভাঙার পথে রয়েছে। এই সাফল্য ক্যাটনের জন্য কেবল একটি ব্যক্তিগত মাইলফলক নয়, বরং হোলিউডে নতুন প্রতিভার উত্থানকে নির্দেশ করে। তার এই অর্জনকে শিল্পের বিভিন্ন স্তরে স্বীকৃতি দেওয়া হয়েছে।
ক্যাটন নিজে বলেন, গত এক বছর তার জন্য এক বিশাল পরিবর্তনের সময় ছিল। তিনি নিজের বিকাশে গর্ব অনুভব করছেন এবং নতুন চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হতে প্রস্তুত। তার মতে, এই অভিজ্ঞতা তাকে শিল্পের বিভিন্ন দিক বুঝতে সাহায্য করেছে, বিশেষ করে অভিনয় ও সঙ্গীতের সমন্বয়।
তিনি আরও উল্লেখ করেন, তার চরিত্র ‘স্যামি মুর’ এবং নিজের জীবনের পথের মধ্যে বেশ কিছু সাদৃশ্য রয়েছে। উভয়ই স্বপ্নের পেছনে ছুটে গিয়ে কোনো পূর্ব অভিজ্ঞতা না থাকলেও দৃঢ়সংকল্পের মাধ্যমে লক্ষ্য অর্জন করেছে। এই সাদৃশ্য তাকে চরিত্রে আরও গভীরভাবে প্রবেশ করতে সহায়তা করেছে।
ভূমিকা গ্রহণের আগে ক্যাটন ব্যাপক প্রস্তুতি নেন। তিনি চরিত্রের মানসিকতা ও শারীরিক বৈশিষ্ট্য বিশ্লেষণ করে অভিনয়ের জন্য বিশেষ প্রশিক্ষণ নেন। পাশাপাশি, সঙ্গীতের পটভূমি তাকে চরিত্রের আবেগকে সঠিকভাবে প্রকাশ করতে সাহায্য করে। এই সমন্বিত প্রস্তুতি তাকে স্ক্রিনে স্বতন্ত্র উপস্থিতি প্রদান করে।
‘সিনার্স’ চলচ্চিত্রের পুরস্কার মৌসুমে ব্যাপক প্রশংসা পেতে শুরু করার পর ক্যাটন তার অনুভূতি প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, পুরস্কার শোতে উপস্থিতি এবং স্বীকৃতি পাওয়া তার জন্য স্বপ্নের বাস্তবায়ন। তিনি ছোটবেলা থেকেই পুরস্কার অনুষ্ঠান দেখতেন, আর এখন নিজে সেখানে অংশ নিতে পারা এক অবিশ্বাস্য অভিজ্ঞতা।
অস্কার ও অন্যান্য পুরস্কার অনুষ্ঠানে উপস্থিতি তার জন্য এক ধরনের আত্মবিশ্বাসের উত্স। তিনি উল্লেখ করেন, এই মুহূর্তগুলোতে তিনি নিজের অতীতের সংগ্রাম ও বর্তমান সাফল্যের মধ্যে একটি সেতু অনুভব করেন। এই সেতু তাকে ভবিষ্যতে আরও বড় প্রকল্পে কাজ করার প্রেরণা জোগায়।
ক্যাটন ভবিষ্যতে সঙ্গীত ও অভিনয়ের সমন্বয় করে আরও বহুমুখী কাজ করতে চান। তিনি নতুন রেকর্ডিং ও চলচ্চিত্র প্রকল্পের পরিকল্পনা করছেন, যাতে তার শিল্পী হিসেবে বহুমুখিতা আরও প্রকাশ পায়। তার লক্ষ্য হল আন্তর্জাতিক মঞ্চে নিজের নামকে আরও দৃঢ় করা এবং নতুন প্রজন্মের শিল্পীদের জন্য উদাহরণ স্থাপন করা।
মাইলস ক্যাটনের ‘সিনার্স’‑এ সফলতা তার ক্যারিয়ারের নতুন অধ্যায়ের সূচনা করেছে। অস্কার নোমিনেশন এবং বিশ্বব্যাপী স্বীকৃতি তাকে হোলিউডের উজ্জ্বল তারকা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছে। তার যাত্রা দেখায় যে সঠিক সময়ে সঠিক সুযোগ গ্রহণ করলে স্বপ্ন বাস্তবে রূপ নিতে পারে।



