বিএনপি নতুন সরকার গঠনের পর প্রথম মন্ত্রিসভা বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়, যেখানে উপদেষ্টাদের উপস্থিতি নিয়ে বিতর্ক শুরু হয়। বৈঠকটি বুধবার বিকাল ৩টায় সচিবালয়ের এক নম্বর ভবনে অনুষ্ঠিত হয় এবং প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে পরিচালিত হয়।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সভার সূচনা করেন এবং মন্ত্রিসভার কার্যক্রমের মূল দিকগুলো তুলে ধরেন। তবে বৈঠকের শেষে প্রধানমন্ত্রী উপদেষ্টা জাহেদ উর রহমানের মন্তব্যে স্পষ্ট হয়, এই সভা আনুষ্ঠানিক ক্যাবিনেট মিটিং নয়, বরং মন্ত্রীরা ও উপদেষ্টাদের সমন্বয়ে একটি সৌজন্যমূলক মিটিং ছিল।
উদ্যোগের অংশ হিসেবে জাহেদ উর রহমান উল্লেখ করেন, উপদেষ্টারা ক্যাবিনেটের অংশ নয় এবং তাই বৈঠকটি ফরমাল ক্যাবিনেট মিটিং হিসেবে গণ্য করা যাবে না। তিনি তদুপরি প্রধানমন্ত্রীর বার্তা পুনরায় উল্লেখ করেন, সরকারকে স্বচ্ছ ও কার্যকরী রাখতে জনগণের প্রত্যাশা পূরণে সকলকে সতর্ক করা হয়েছে।
উপদেষ্টারা গোপনীয়তার শপথ নেন না, এই বিষয়টি নিয়ে প্রশ্ন ওঠে যে তারা গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রিসভা বৈঠকে অংশ নিতে পারবে কিনা। বিশেষজ্ঞরা জানান, বাংলাদেশে এই ধরনের বিষয় প্রথা ও প্রধানমন্ত্রীর সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভরশীল। তাই উপদেষ্টার উপস্থিতি শেষ পর্যন্ত প্রধানমন্ত্রী ও তার সিদ্ধান্তের উপর নির্ভর করবে।
বৈঠকে রমজান মাসের আগমনের সঙ্গে যুক্ত চ্যালেঞ্জগুলোও আলোচিত হয়। জাহেদ উর রহমান উল্লেখ করেন, রমজানে মূল্যস্ফীতি, বিদ্যুৎ সরবরাহ, এবং কর্মীদের ঘরে ফেরার মতো সমস্যাগুলো যথাযথভাবে মোকাবেলা করা প্রয়োজন। তিনি এ বিষয়ে সরকারের প্রস্তুতি ও দ্রুত পদক্ষেপের আহ্বান জানান।
এছাড়া তিনি ১৮০ দিনের জন্য বিএনপির একটি পরিকল্পনা তৈরির কথা উল্লেখ করেন, যা ইতিমধ্যে প্রণয়ন করা হয়েছে এবং শীঘ্রই জনগণের সামনে উপস্থাপন করা হবে। এই পরিকল্পনা অনুযায়ী সরকার কী কী অবিলম্বে কাজ করবে তা স্পষ্ট করা হবে, যাতে জনগণ তৎক্ষণাৎ বুঝতে পারে।
সংবিধানের ৫৫(২) অনুচ্ছেদে বলা আছে, “প্রধানমন্ত্রী কর্তৃক বা তাঁর কর্তৃত্বে সংবিধান‑অনুযায়ী প্রজাতন্ত্রের নির্বাহী ক্ষমতা প্রয়োগ করা হবে।” আর ৫৫(৩) অনুচ্ছেদে উল্লেখ আছে, “মন্ত্রিসভা যৌথভাবে সংসদের নিকট দায়ী থাকবে।” এই বিধানগুলো অনুসারে, মন্ত্রিসভার কেন্দ্রবিন্দু হল প্রধানমন্ত্রী ও মন্ত্রীগণ, এবং তারা সম্মিলিতভাবে সংসদের কাছে দায়বদ্ধ।
মন্ত্রিসভা বৈঠকের কার্যপ্রণালী সংবিধানের ভিত্তিতে গৃহীত সরকারের রুলস অব বিজনেস (কার্যবিধিমালা), ১৯৯৬‑এ নির্ধারিত হয়েছে। এই নথিতে মন্ত্রিসভা বৈঠকের আয়োজন, অংশগ্রহণকারী, এবং সিদ্ধান্ত গ্রহণের পদ্ধতি স্পষ্টভাবে বর্ণিত আছে।
উপদেষ্টার উপস্থিতি সংক্রান্ত আলোচনাটি সরকারী রীতি ও সংবিধানিক কাঠামোর মধ্যে কীভাবে সামঞ্জস্যপূর্ণ হবে, তা ভবিষ্যতে স্পষ্ট হবে। বর্তমান সময়ে, প্রধানমন্ত্রী ও তার পরামর্শদাতাদের মধ্যে সমন্বয় এবং রমজানের চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় গৃহীত পদক্ষেপগুলোই দেশের রাজনৈতিক দিকনির্দেশনা নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
বিএনপি সরকারের প্রথম মন্ত্রিসভা বৈঠকের এই দিকগুলো পরবর্তী ক্যাবিনেট মিটিং এবং নীতি নির্ধারণে প্রভাব ফেলবে বলে বিশ্লেষকরা অনুমান করছেন। সরকার কীভাবে উপদেষ্টাদের ভূমিকা নির্ধারণ করবে এবং রমজান‑সাময়িক সমস্যাগুলোর সমাধানে কী পদক্ষেপ নেবে, তা দেশের রাজনৈতিক পরিবেশে নজর রাখার বিষয় হবে।



