২০ ফেব্রুয়ারি শুক্রবার দুপুরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্র ইউনিয়নের একাংশের সভাপতি মেঘমল্লার বসু একসঙ্গে বিশটি ঘুমের ট্যাবলেট গিলে আত্মহত্যার চেষ্টা করেন এবং সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি হন। তিনি ট্যাবলেট গ্রহণের পর শারীরিক অস্বস্তি বোধ করেন, ফলে জরুরি সেবার মাধ্যমে হাসপাতালে পৌঁছান।
মেঘমল্লার বসু বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্র ইউনিয়নের গুরুত্বপূর্ণ নেতা হিসেবে পরিচিত। তার নেতৃত্বে বিভিন্ন ছাত্র কার্যক্রম পরিচালিত হয় এবং তিনি তরুণ শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রভাবশালী ব্যক্তিত্ব হিসেবে স্বীকৃত।
ঘটনাস্থলে জানা যায়, বসু একবারে বিশটি ঘুমের ট্যাবলেট গিলে আত্মহত্যার ইচ্ছা প্রকাশ করেন। ট্যাবলেটের প্রকার ও ব্র্যান্ড সম্পর্কে স্পষ্ট তথ্য পাওয়া যায়নি, তবে সাধারণত ঘুমের ওষুধে সেডেটিভ ও হিপনোটিক উপাদান থাকে, যা অতিরিক্ত মাত্রায় গ্রহণ করলে শ্বাসনালী দমন, হৃদস্পন্দন হ্রাস এবং অচেতনতা ঘটতে পারে।
সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পৌঁছানোর পর, জরুরি বিভাগে তৎক্ষণাৎ শ্বাসযন্ত্রের পর্যবেক্ষণ, রক্তের গ্লুকোজ ও ইলেক্ট্রোলাইট স্তর পরীক্ষা করা হয়। চিকিৎসা দল রোগীর শ্বাসপ্রশ্বাস স্থিতিশীল করতে অক্সিজেন সাপোর্ট এবং গ্যাস্ট্রিক ডি-কন্টেনশন (অ্যাক্টিভেটেড চারকোল) প্রদান করে।
হাসপাতালের তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে রোগীর অবস্থা স্থিতিশীল এবং তীব্র জটিলতা দেখা যায়নি। তবে চিকিৎসা দল রোগীর শারীরিক অবস্থা পর্যবেক্ষণ চালিয়ে যাচ্ছে এবং প্রয়োজনীয় সাপোর্টিভ থেরাপি প্রদান করছে।
ঘুমের ট্যাবলেটের অতিরিক্ত গ্রহণের ফলে সৃষ্ট ওভারডোজের সাধারণ লক্ষণগুলোর মধ্যে শ্বাসকষ্ট, বমি, মাথা ঘোরা, দৃষ্টিশক্তি ঝাপসা এবং অচেতনতা অন্তর্ভুক্ত। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (WHO) অনুযায়ী, সেডেটিভ ও হিপনোটিক ওষুধের অপ্রয়োজনীয় ব্যবহার বা অতিরিক্ত ডোজে মৃত্যুর ঝুঁকি বাড়ে। তাই জরুরি অবস্থায় দ্রুত চিকিৎসা গ্রহণ করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
হাসপাতালে রোগীর মানসিক স্বাস্থ্যের মূল্যায়নও করা হয়। আত্মহত্যার প্রচেষ্টা নির্দেশ করে যে মানসিক চাপ বা ডিপ্রেশন থাকতে পারে। মানসিক স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞের মতে, বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ে স্ট্রেস, একাডেমিক চাপ এবং সামাজিক প্রত্যাশা তরুণদের মধ্যে মানসিক সমস্যার ঝুঁকি বাড়ায়।
এই ধরনের ঘটনা থেকে শিক্ষা নেওয়া যায় যে, মানসিক অস্বস্তি বা আত্মহত্যার চিন্তা হলে অবিলম্বে পেশাদার সাহায্য নেওয়া উচিত। বাংলাদেশে মানসিক স্বাস্থ্য সেবা কেন্দ্র, হটলাইন (১৬২৬) এবং বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের কাউন্সেলিং সেবা উপলব্ধ। আত্মহত্যা প্রতিরোধে পরিবার, বন্ধু এবং শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সমর্থন গুরুত্বপূর্ণ।
সামাজিক মিডিয়া ও সংবাদ মাধ্যমে এই ঘটনার তথ্য দ্রুত ছড়িয়ে পড়লেও, পাঠকদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ হল তথ্যের সত্যতা যাচাই করা এবং অতিরিক্ত ভয় না তৈরি করা। স্বাস্থ্য সংক্রান্ত তথ্যের ক্ষেত্রে সরকারি স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা ও বিশ্বস্ত চিকিৎসা সূত্রের ওপর নির্ভর করা উচিত।
অবশেষে, মেঘমল্লার বসুর স্বাস্থ্য অবস্থা স্থিতিশীল থাকলেও, তার মানসিক স্বাস্থ্যের পুনরুদ্ধার ও দীর্ঘমেয়াদী সমর্থন নিশ্চিত করা প্রয়োজন। বিশ্ববিদ্যালয় ও সমাজের সকল স্তরে মানসিক স্বাস্থ্যের প্রতি সচেতনতা বৃদ্ধি এবং জরুরি সহায়তা ব্যবস্থা শক্তিশালী করা ভবিষ্যতে অনুরূপ ঘটনা প্রতিরোধে সহায়ক হবে।



