ভারত সরকারের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় আজ প্রকাশ করেছে যে, নতুন বিএনপি সরকার গঠন হওয়ার পর থেকে বাংলাদেশ সরকারের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ককে আরও শক্তিশালী ও বন্ধুত্বপূর্ণ করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রন্ধীর জয়সওয়াল এই ঘোষণার সময় উল্লেখ করেন, নরেন্দ্র মোদি তারেক রহমানকে নির্বাচনের পরপরই অভিনন্দন জানিয়েছেন।
লকসভা স্পিকার ওম বিরলা নতুন সরকারের শপথ অনুষ্ঠানে উপস্থিত থেকে নরেন্দ্র মোদির পক্ষ থেকে একটি চিঠি সরাসরি তারেক রহমানের হাতে তুলে দেন। চিঠিতে ভারতীয় সরকার বাংলাদেশকে একটি গণতান্ত্রিক, প্রগতিশীল ও অন্তর্ভুক্তিমূলক দেশ হিসেবে সমর্থন করার ইচ্ছা প্রকাশ করা হয়েছে। এছাড়া, দুই দেশের উষ্ণ ও ঐতিহাসিক বন্ধনকে ভিত্তি করে বহুমুখী সহযোগিতা আরও গভীর করার প্রত্যাশা প্রকাশ করা হয়েছে।
রুশ তেল কেনা বন্ধ করার দাবি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের প্রশ্নের জবাবে, জয়সওয়াল জানান, পররাষ্ট্র সচিব বিক্রম মিস্রি ইতিমধ্যে দেশের অবস্থান স্পষ্ট করে দিয়েছেন। মিস্রি উল্লেখ করেন, রাশিয়া এবং অন্যান্য দেশ থেকে তেল আমদানি জাতীয় স্বার্থ, জ্বালানি নিরাপত্তা এবং বৈচিত্র্যের ভিত্তিতে করা হয়, কোনো বহিরাগত চাপের ফলে নয়।
ভেনেজুয়েলা থেকে তেল ক্রয়ের সম্ভাবনা সম্পর্কেও মন্ত্রণালয় স্পষ্ট করে জানায়, যদি বাণিজ্যিকভাবে লাভজনক হয় তবে নতুন দিল্লি সেই বিকল্পটি অনুসন্ধান করতে প্রস্তুত। এই বিবৃতি ভারতের জ্বালানি নীতির স্বচ্ছতা ও বাজারভিত্তিক দৃষ্টিভঙ্গি তুলে ধরে।
আন্তর্জাতিক শান্তি সংক্রান্ত আলোচনায় ভারতের অংশগ্রহণের কথাও জয়সওয়াল উল্লেখ করেন। দিল্লি ওয়াশিংটন ডি.সিতে অনুষ্ঠিত বোর্ড অফ পিস মিটিংয়ে পর্যবেক্ষক হিসেবে অংশ নিয়েছে। এছাড়া, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের গাজা শান্তি পরিকল্পনা এবং জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের রেজোলিউশন ২৮০৩ অনুযায়ী চলমান প্রচেষ্টাকে ভারত স্বাগত জানিয়েছে।
এই বৈঠকে ভারতের প্রতিনিধিত্ব করেন ওয়াশিংটন ভারতীয় দূতাবাসের চার্জ দ্য’আফেয়ার্স নামগ্যা খাম্পা। তিনি মিটিংয়ের সময় ভারতের অবস্থান ও ভবিষ্যৎ সহযোগিতার দিকনির্দেশনা তুলে ধরেন।
দিল্লি ও ঢাকা উভয় দেশের সরকার এই মুহূর্তে একে অপরের সঙ্গে কূটনৈতিক ও অর্থনৈতিক সম্পর্ককে নতুন স্তরে নিয়ে যাওয়ার জন্য বিভিন্ন ক্ষেত্রের সমন্বয় বাড়ানোর পরিকল্পনা করছে। বিশেষ করে বাণিজ্য, জ্বালানি নিরাপত্তা এবং আঞ্চলিক শান্তি সংক্রান্ত বিষয়গুলোতে উভয় পক্ষের সমন্বিত পদক্ষেপের প্রত্যাশা করা হচ্ছে।
বিশ্লেষকরা উল্লেখ করেন, নতুন বাংলাদেশ সরকারের সঙ্গে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক গড়ে তোলার এই উদ্যোগ দু’দেশের দীর্ঘমেয়াদী কৌশলগত স্বার্থের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ এবং ভবিষ্যতে আরও ঘনিষ্ঠ সহযোগিতার পথ প্রশস্ত করবে।



