টুর্কির রাজধানী আনকারায় জার্মান রাষ্ট্রায়ত্ত আন্তর্জাতিক সম্প্রচার সংস্থা ডি.ডব্লিউ (DW) এর একজন প্রতিবেদক, আলিকান উলুদাগ, ১৯ ফেব্রুয়ারি রাতে নিরাপত্তা বাহিনীর হাতে গ্রেফতার হন। ইস্তাম্বুলের চিফ পাবলিক প্রসিকিউটর অফিসের একটি বিবৃতিতে বলা হয়েছে, উলুদাগের সামাজিক নেটওয়ার্কে প্রকাশিত কিছু পোস্টের ভিত্তিতে তাকে ‘ভুল তথ্য প্রচার’ এবং ‘প্রেসিডেন্টকে অপমান করা’ অভিযোগে আটক করা হয়েছে। উলুদাগকে আজই আদালতে হাজির করা হবে এবং অপরাধমূলক তদন্ত চালু করা হয়েছে।
ডি.ডব্লিউ জানায়, উলুদাগ বহু বছর ধরে সংস্থার জন্য কাজ করছেন এবং গ্রেফতার হওয়ার পর তাকে আনকারা থেকে ইস্তাম্বুলের পুলিশ স্টেশনে স্থানান্তর করা হয়েছে। সংস্থার প্রধান নির্বাহী বারবারা মাসিং এই ধরণের অভিযোগকে ভিত্তিহীন বলে উল্লেখ করে, গ্রেফতারকে সরকারী দমনমূলক নীতি ও সাংবাদিক স্বাধীনতার ওপর আক্রমণ হিসেবে চিহ্নিত করেছেন। তিনি বলেন, এই ধরনের পদক্ষেপ সাংবাদিকদের কাজের স্বাধীনতা হ্রাসের একটি স্পষ্ট উদাহরণ।
জার্মান সরকারের পক্ষ থেকে একটি মুখপাত্রের মন্তব্যে প্রকাশ পেয়েছে, উলুদাগের গ্রেফতার নিয়ে বার্লিন গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে এবং জোর দিয়ে বলেছেন যে ডি.ডব্লিউকে তুর্কিতে স্বাধীনভাবে সংবাদ সংগ্রহের অধিকার থাকা উচিত। মুখপাত্র আরও উল্লেখ করেন, “সাংবাদিকদের কাজের স্বাধীনতা নিশ্চিত করা এবং তাদের ওপর কোনো দমন না আরোপ করা আন্তর্জাতিক মানের একটি মৌলিক শর্ত।” এই বক্তব্যটি তুর্কি-জার্মান কূটনৈতিক সম্পর্কের সংবেদনশীলতা বাড়িয়ে তুলেছে।
তুর্কিতে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে সাংবাদিকদের ওপর চাপ বাড়ার প্রবণতা দেখা গেছে; বহু বিদেশি ও দেশীয় মিডিয়া কর্মীকে একই রকম অভিযোগে গ্রেফতার করা হয়েছে। আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা এবং ইউরোপীয় ইউনিয়নের প্রতিনিধিরা তুর্কির প্রেস স্বাধীনতা হ্রাসের দিকে ইঙ্গিত করে সতর্কবার্তা দিয়েছেন। উলুদাগের মামলাটি এই প্রেক্ষাপটে বিশ্লেষণ করা হলে, তুর্কি সরকারকে আন্তর্জাতিক সমালোচনার মুখোমুখি হতে হতে পারে এবং কূটনৈতিক আলোচনার সময় এই বিষয়টি একটি গুরুত্বপূর্ণ আলোচনার বিষয় হয়ে উঠতে পারে।
আইনি প্রক্রিয়া চলমান থাকায়, উলুদাগকে আজই প্রাসিকিউটরের সামনে হাজির করা হবে এবং তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগের ভিত্তি স্পষ্ট করা হবে। যদি আদালত তাকে দোষী সাব্যস্ত করে, তবে তা তুর্কির বিচারিক ব্যবস্থার স্বচ্ছতা ও স্বাধীনতার ওপর আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকদের প্রশ্ন তুলতে পারে। অন্যদিকে, ডি.ডব্লিউ এবং জার্মান সরকার উভয়ই এই মামলায় ন্যায়বিচার ও সাংবাদিক স্বাধীনতার রক্ষার জন্য কূটনৈতিক চ্যানেল ব্যবহার করে চাপ বাড়ানোর সম্ভাবনা রয়েছে। তুর্কি কর্তৃপক্ষের এই পদক্ষেপের পরিণতি কেবল দেশীয় নয়, বরং ইউরোপীয় ও মধ্যপ্রাচ্যীয় মিডিয়া পরিবেশেও প্রভাব ফেলতে পারে।



