শুক্রবার, ২০ ফেব্রুয়ারি, সিলেটের হযরত শাহজালাল (রহ.) মাজার জিয়ারত শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপের সময় বাণিজ্য, শিল্প ও বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদি সরকারের মুখোমুখি চ্যালেঞ্জ এবং কাজের মাধ্যমে ফলাফল দেখার ইচ্ছা প্রকাশ করেন। তিনি উল্লেখ করেন, পর্বতপ্রমাণ সমস্যার সমাধানে সরকার ইতিমধ্যে পদক্ষেপ নিচ্ছে এবং ভবিষ্যতে বাস্তবিক ফলাফল দিয়ে জনগণের কাছে তাদের প্রচেষ্টার প্রতিফলন তুলে ধরবে।
মন্ত্রীর মতে, গত দেড় দশকে দেশের বাণিজ্যিক অবকাঠামো ও ব্যাংকিং সেক্টর ব্যাপক ক্ষতির শিকার হয়েছে, যা বিনিয়োগের দীর্ঘস্থায়ী স্থবিরতা সৃষ্টি করেছে। এই পরিস্থিতি কাটিয়ে ওঠা এখন প্রধান চ্যালেঞ্জ হিসেবে রয়ে গেছে। তিনি জোর দিয়ে বলেন, বাংলাদেশ একটি বিকাশমান অর্থনীতির দেশ, যেখানে প্রতি বছর প্রায় ২০ থেকে ২২ লাখ মানুষ কর্মক্ষম বয়সে প্রবেশ করে, তবে গত তিন বছরে বিনিয়োগ প্রায় শূন্যের কাছাকাছি নেমে আসায় নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি হয়নি।
বিনিয়োগের পরিবেশ উন্নত করার লক্ষ্যে সরকার ইতিমধ্যে এলডিসি উত্তরণ ও গ্র্যাজুয়েশন বিলম্বিত করার জন্য সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলিকে চিঠি পাঠিয়েছে। খন্দকার মুক্তাদি জানান, বর্তমান সরকার বিনিয়োগ সহায়ক নীতি গড়ে তোলার জন্য সক্রিয়ভাবে কাজ করছে এবং প্রয়োজনীয় কাঠামো গড়ে তোলার জন্য বিভিন্ন স্তরে সমন্বয় সাধন করছে।
সিলেটের উন্নয়ন বিষয়েও মন্ত্রী বিশেষ দায়িত্ববোধ প্রকাশ করেন। তিনি উল্লেখ করেন, মন্ত্রিসভায় সিলেট থেকে দুজন মন্ত্রী থাকায় এই অঞ্চলের উন্নয়নে আরও মনোযোগ দেওয়া হবে। মাদক নিয়ন্ত্রণ, পর্যটন অবকাঠামো উন্নয়ন এবং কর্মসংস্থান সৃষ্টির জন্য কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণের পরিকল্পনা রয়েছে। এই পদক্ষেপগুলো সিলেটের অর্থনৈতিক পুনরুজ্জীবনে সহায়ক হবে বলে তিনি আশাবাদী।
একই সময়ে শ্রম ও কর্মসংস্থানমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরীও উপস্থিত ছিলেন এবং বন্ধ থাকা শিল্পকারখানাগুলো দ্রুত চালু করার জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানান। তিনি উল্লেখ করেন, জনসাধারণের গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো নিয়ে সংসদ সদস্যদের সঙ্গে সমন্বিত পরিকল্পনা গঠন করা হবে এবং কাজের মাধ্যমে সরকার তার সক্ষমতা প্রমাণ করবে।
মন্ত্রিগণ জিয়ারত শেষে হযরত শাহ পরান (রহ.) ও গাজী বোরহান উদ্দিন (রহ.)-এর মাজারে গিয়ে প্রার্থনা করেন। এই ধর্মীয় অনুষ্ঠানটি সরকারের সামাজিক দায়িত্বের অংশ হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে।
বাণিজ্যিক অবকাঠামো পুনর্গঠন, বিনিয়োগের পরিবেশ উন্নয়ন এবং শিল্পখাতের পুনরুজ্জীবন নিয়ে গৃহীত পদক্ষেপগুলো আগামী কয়েক মাসে বাস্তবায়িত হবে বলে সরকারী সূত্র জানায়। বিশ্লেষকরা ইঙ্গিত করছেন, যদি এই নীতিগুলো সঠিকভাবে কার্যকর করা যায়, তবে সিলেটসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে কর্মসংস্থান বৃদ্ধি পাবে এবং অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ত্বরান্বিত হবে।
বাণিজ্যমন্ত্রীর এই বক্তব্য এবং শ্রম মন্ত্রীর প্রতিশ্রুতি রাজনৈতিক পর্যায়ে সরকারের দায়িত্বশীলতা ও কার্যকরী ক্ষমতা প্রদর্শনের একটি গুরুত্বপূর্ণ সূচক হিসেবে দেখা হচ্ছে। ভবিষ্যতে এই নীতিগুলোর ফলাফল কীভাবে প্রকাশ পাবে, তা দেশের অর্থনৈতিক ও সামাজিক কাঠামোর উপর সরাসরি প্রভাব ফেলবে।



