23.7 C
Dhaka
Friday, February 20, 2026
Google search engine
Homeরাজনীতিটিআইবি রাষ্ট্রীয় পার্টির সমস্যার সমাধান দাবি, রোড এক্সটর্সনকে অপরাধ বলে নিন্দা

টিআইবি রাষ্ট্রীয় পার্টির সমস্যার সমাধান দাবি, রোড এক্সটর্সনকে অপরাধ বলে নিন্দা

ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি) আজ রাষ্ট্রীয় পার্টির অভ্যন্তরীণ সমস্যাগুলো সমাধান না করা পর্যন্ত দুর্নীতি রোধে কোনো অগ্রগতি হবে না, এ কথা প্রধানমন্ত্রীকে জানিয়ে দেয়। একই দিনে পরিবহন মন্ত্রী রোডে এক্সটর্সনকে “পারস্পরিক সমঝোতার ভিত্তিতে লেনদেন” বলে বর্ণনা করার পর টিআইবি গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে এবং এই মন্তব্যকে গুরুতর অপরাধকে বৈধতা দেওয়ার প্রচেষ্টা হিসেবে নিন্দা করে।

টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান আজ প্রকাশিত বিবৃতিতে বলেন, “If extortion on the roads is granted acceptability in the name of mutual understanding, how will similar logic be prevented from spreading to other sectors such as BRTA, health, education, social protection, law enforcement, customs, passport services, land administration, public procurement, development projects, banking, electricity and beyond? The question naturally arises.” তিনি উল্লেখ করেন, রোডে এক্সটর্সনকে স্বীকৃতি দিলে একই যুক্তি অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ সেক্টরে ছড়িয়ে পড়ার ঝুঁকি থাকে।

টিআইবি জোর দিয়ে দাবি করেছে, যদি নতুন সরকারের দুর্নীতি বিরোধী প্রতিশ্রুতি কেবল শূন্য বাক্য বা ভোটার আকর্ষণের স্লোগানেই সীমাবদ্ধ থাকে, তবে প্রধানমন্ত্রীকে তৎক্ষণাৎ মন্ত্রীর মন্তব্য প্রত্যাখ্যান করে যথাযথ আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে হবে। এই দাবি সরকারের স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার জন্য অপরিহার্য বলে টিআইবি উল্লেখ করেছে।

বিবৃতিতে অতীতের একটি উদাহরণও তুলে ধরা হয়েছে; ২০১২ সালের ফেব্রুয়ারিতে সেই সময়ের স্বৈরশাসক শাসনে রোড ট্রান্সপোর্ট মন্ত্রী একই রকম যুক্তি দিয়ে এক্সটর্সনকে বৈধতা দেওয়ার চেষ্টা করেছিল, যা টিআইবি তীব্রভাবে বিরোধিতা করেছিল। ঐ সময়ের প্রতিক্রিয়ার সঙ্গে তুলনা করে টিআইবি সতর্ক করেছে, বর্তমান সরকারও একই পথে চলতে পারে যদি সতর্কতা না নেওয়া হয়।

টিআইবি আরও উল্লেখ করেছে, মন্ত্রীর এই অবস্থান একা নয়; এটি একটি বৃহত্তর প্রবণতার অংশ যা সরকার গঠনের সময় ঘোষিত দুর্নীতি বিরোধী নীতির সঙ্গে সরাসরি বিরোধ করে। পরিবহন মন্ত্রীর রোড এক্সটর্সনকে সমর্থনকারী মন্তব্য, সরকার গঠনের পর প্রধানমন্ত্রী যে অ্যান্টি-করাপশন প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেছেন, তার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।

প্রধানমন্ত্রীর দুর্নীতি বিরোধী অঙ্গীকারের পর মাত্র ৪৮ ঘণ্টা পরে মন্ত্রীর এই মন্তব্য প্রকাশ পায়, যা টিআইবির মতে গভীরভাবে নিরাশাজনক। মন্ত্রীর বক্তব্যকে টিআইবি “অ্যান্টি-করাপশন নীতিকে সরাসরি ক্ষুন্ন করে” বলে সমালোচনা করেছে এবং সরকারকে দ্রুত সংশোধনমূলক পদক্ষেপ নিতে আহ্বান জানিয়েছে।

টিআইবি শেষ করে বলেছে, রোড এক্সটর্সনকে স্বাভাবিকীকরণ করা কেবল রাস্তায় নয়, বরং স্বাস্থ্য, শিক্ষা, আইন প্রয়োগ, কাস্টমস, পাসপোর্ট সেবা, ভূমি প্রশাসন, পাবলিক প্রোকিউরমেন্ট এবং বিদ্যুৎসহ বহু গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্রকে প্রভাবিত করতে পারে। তাই রাষ্ট্রীয় পার্টির অভ্যন্তরীণ সমস্যাগুলো সমাধান না করা পর্যন্ত দুর্নীতি মোকাবেলায় কোনো বাস্তব অগ্রগতি সম্ভব নয়।

এই পরিস্থিতিতে টিআইবি সরকারকে আহ্বান জানিয়েছে, মন্ত্রীর মন্তব্যের বিরুদ্ধে দ্রুত পদক্ষেপ নিয়ে দুর্নীতি বিরোধী নীতি পুনরায় শক্তিশালী করতে এবং সকল সেক্টরে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে। সরকার যদি এই আহ্বান মেনে চলে, তবে রোড এক্সটর্সনের মতো সমস্যার বিস্তার রোধে একটি শক্তিশালী বার্তা পাঠানো সম্ভব হবে।

৯১/১০০ ১টি সোর্স থেকে যাচাইকৃত।
আমরা ছাড়াও প্রকাশ করেছে: ডেইলি স্টার
রাজনীতি প্রতিবেদক
রাজনীতি প্রতিবেদক
AI-powered রাজনীতি content writer managed by NewsForge
RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments