গাজা উপত্যকায় নিরাপত্তা পরিস্থিতি স্থিতিশীল করতে নতুন আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা বাহিনীর (আইএসএফ) গঠন ঘোষণা করা হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নেতৃত্বে গঠিত শান্তি পর্ষদের প্রথম বৈঠকে এই উদ্যোগের বিস্তারিত জানানো হয়। আইএসএফের কমান্ডার মেজর জেনারেল জ্যাসপার জেফারস গাজা অঞ্চলে সেনা ও প্রশিক্ষণ কর্মী পাঠানোর পরিকল্পনা উপস্থাপন করেন।
বৃহস্পতিবার ওয়াশিংটনে অনুষ্ঠিত বৈঠকে ট্রাম্পের শান্তি পর্ষদ গাজা পুনর্গঠন ও স্থিতিশীলতার জন্য বহুপাক্ষিক সমর্থন আহ্বান করে। জেফারস উল্লেখ করেন, নতুন বাহিনীর প্রথম পর্যায়ে পাঁচটি দেশ তাদের সেনা পাঠাবে। এই দেশগুলো হল ইন্দোনেশিয়া, মরক্কো, কাজাখস্তান, কসোভো এবং আলবেনিয়া।
ইন্দোনেশিয়া ও মরক্কোর সামরিক বাহিনী পূর্বে মধ্যপ্রাচ্যের শান্তি মিশনে অংশগ্রহণের অভিজ্ঞতা রয়েছে, যা গাজায় দ্রুত কার্যক্রম শুরু করতে সহায়তা করবে বলে বিশ্লেষকরা অনুমান করেন। কাজাখস্তান, কসোভো এবং আলবেনিয়া তাদের সীমিত কিন্তু প্রশিক্ষিত বাহিনী দিয়ে আন্তর্জাতিক মিশনে অবদান রাখবে।
মিশর ও জর্ডানও এই উদ্যোগে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা গ্রহণ করেছে। উভয় দেশ গাজার স্থানীয় পুলিশ সদস্যদের প্রশিক্ষণ দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। প্রশিক্ষণ প্রোগ্রামটি গাজার নিরাপত্তা কাঠামোকে শক্তিশালী করতে এবং স্থানীয় আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় সহায়তা করবে।
আইএসএফের প্রথম মোতায়েন রাফাহ অঞ্চলে শুরু হবে, যা গাজার দক্ষিণ সীমান্তের নিকটবর্তী একটি গুরুত্বপূর্ণ এলাকা। সেখানে প্রশিক্ষণকেন্দ্র স্থাপন করে প্রথমে পুলিশ সদস্যদের দক্ষতা বৃদ্ধি করা হবে, এরপর ধীরে ধীরে গাজার অন্যান্য সেক্টরে কার্যক্রম বিস্তৃত করা হবে।
দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনা অনুযায়ী, আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা বাহিনীতে মোট ২০,০০০ সৈন্য অন্তর্ভুক্ত করার লক্ষ্য নির্ধারিত হয়েছে। একইসঙ্গে গাজার আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় ১২,০০০ স্থানীয় পুলিশ সদস্যকে প্রশিক্ষণ দিয়ে প্রস্তুত করা হবে। এই সংখ্যা গাজা অঞ্চলের নিরাপত্তা চাহিদা পূরণে যথেষ্ট বলে অনুমান করা হচ্ছে।
বিশ্বের অন্যান্য শান্তি মিশনের সঙ্গে তুলনা করলে, আইএসএফের গঠন একটি নতুন মডেল হিসেবে দেখা হচ্ছে। এটি শুধুমাত্র সামরিক উপস্থিতি নয়, প্রশিক্ষণ ও ক্ষমতা বৃদ্ধি উপরেও জোর দেয়। আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা কাঠামোতে এই সমন্বিত পদ্ধতি গাজার পুনর্গঠনকে ত্বরান্বিত করতে পারে।
একজন আন্তর্জাতিক সম্পর্কের বিশ্লেষক উল্লেখ করেন, মার্কিন সরকার (মার্কিন সরকার) গাজা সমস্যার সমাধানে বহুপাক্ষিক সহযোগিতা বাড়াতে চায়, এবং এই উদ্যোগ তার কূটনৈতিক কৌশলের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। তিনি আরও বলেন, যদি পাঁচটি দেশ সময়মতো তাদের সেনা পাঠাতে পারে, তবে গাজার মানবিক সংকট কমাতে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হবে।
পরবর্তী মাইলস্টোন হিসেবে, রাফাহে প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের স্থাপন এবং প্রথম ব্যাচের সৈন্যদের গাজায় অবতরণ ২০২৪ সালের প্রথম ত্রৈমাসিকে সম্পন্ন হওয়ার প্রত্যাশা করা হচ্ছে। প্রশিক্ষণ শেষ হওয়ার পর স্থানীয় পুলিশকে সরাসরি সমর্থন প্রদান করা হবে, এবং ধীরে ধীরে গাজার উত্তর ও মধ্য অংশে নিরাপত্তা বাহিনীর উপস্থিতি বাড়ানো হবে।
সামগ্রিকভাবে, গাজা অঞ্চলে আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা বাহিনীর গঠন এবং পাঁচ দেশের সেনা পাঠানোর সিদ্ধান্ত গাজার দীর্ঘমেয়াদী স্থিতিশীলতা ও পুনর্গঠনের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি স্থাপন করবে। এই উদ্যোগের সফল বাস্তবায়ন গাজার জনগণের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এবং অঞ্চলের শান্তি প্রক্রিয়াকে এগিয়ে নিতে সহায়তা করবে।



