23.7 C
Dhaka
Saturday, February 21, 2026
Google search engine
Homeআন্তর্জাতিকসোমালিয়ায় খাদ্য সহায়তা বন্ধের ঝুঁকি, ৪৪ লাখ মানুষ বিপন্ন

সোমালিয়ায় খাদ্য সহায়তা বন্ধের ঝুঁকি, ৪৪ লাখ মানুষ বিপন্ন

বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচি (ডাব্লিউএফপি) সতর্ক করেছে, নতুন তহবিল না এলে এপ্রিলের মধ্যে সোমালিয়ার ৪৪ লাখেরও বেশি মানুষকে খাদ্য ও পুষ্টি সহায়তা থেমে যেতে পারে। তহবিলের ঘাটতি অব্যাহত থাকলে মানবিক সংকট আরও তীব্র হবে।

ডাব্লিউএফপি জানিয়েছে, বর্তমানে প্রায় ৪৪ লাখ সোমালিয়ান নাগরিক গুরুতর খাদ্য সংকটে ভুগছেন। এই সংখ্যা দেশের মোট জনসংখ্যার এক-তৃতীয়াংশের কাছাকাছি, যা পূর্বের কোনো জরুরি সহায়তা পরিকল্পনার চেয়ে বেশি।

সংগঠন উল্লেখ করেছে, যদি এপ্রিলের মধ্যে নতুন তহবিল নিশ্চিত না হয়, তবে বর্তমান খাদ্য ও পুষ্টি প্রোগ্রাম বন্ধের সম্ভাবনা রয়েছে। এ পরিস্থিতি গৃহীত তহবিলের ঘাটতি এবং দাতাদের অব্যাহত অনিচ্ছার ফলে উদ্ভূত।

ডাব্লিউএফপি-এর জরুরি প্রস্তুতি ও প্রতিক্রিয়া বিভাগের পরিচালক রস স্মিথের মতে, “সোমালিয়ার পরিস্থিতি আশঙ্কাজনক হারে খারাপের দিকে যাচ্ছে। ইতোমধ্যেই পরিবারগুলো সবকিছুই হারিয়েছে।” তিনি তহবিলের ঘাটতি বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে সহায়তা সীমিত করার প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেছেন।

সোমালিয়ায় গত নভেম্বর মাসে সরকার জরুরি অবস্থা ঘোষণা করেছিল। তখনই আন্তর্জাতিক সংস্থা ও দাতারা ত্বরিত সহায়তা প্রদান শুরু করেছিল, তবে বৃষ্টিপাতের অনুপস্থিতি এবং দীর্ঘস্থায়ী খরার ফলে কৃষি উৎপাদন ব্যাপকভাবে হ্রাস পেয়েছে।

বৃষ্টির অভাবের ফলে ফসলের ফলন কমে যাওয়ায় গ্রামাঞ্চলের মানুষ খাদ্য সংগ্রহে ব্যর্থ হয়েছে। ফলস্বরূপ, বাজারে চাল ও গমের দাম বেড়েছে, যা দরিদ্র পরিবারের জন্য অতিরিক্ত বোঝা তৈরি করেছে।

ডাব্লিউএফপি জানিয়েছে, তহবিলের সংকটের আগে এই বছর শুরুর দিকে প্রায় ২২ লাখ মানুষকে খাদ্য সহায়তা প্রদান করা হচ্ছিল। তবে বর্তমান আর্থিক সীমাবদ্ধতার কারণে এই সংখ্যা মাত্র ৬ লাখে নামিয়ে আনা হয়েছে।

সহায়তার হ্রাসের ফলে গর্ভবতী নারী ও ছোট শিশুর জন্য নির্ধারিত পুষ্টি প্রোগ্রামও ব্যাপকভাবে কমে গেছে। পূর্বে মাসিক সাপ্লাই হিসেবে সরবরাহিত ভিটামিন ও প্রোটিন সমৃদ্ধ খাবার এখন সীমিত পরিমাণে প্রদান করা হচ্ছে।

রস স্মিথ আরও উল্লেখ করেছেন, সহায়তা ইতোমধ্যে সীমিত করা হয়েছে এবং অতিরিক্ত তহবিল না এলে আরও কাটা কমাতে হবে। তিনি দাতাদের দ্রুত পদক্ষেপের আহ্বান জানিয়ে বলেছেন, মানবিক জরুরি অবস্থার মোকাবিলায় ত্বরিত অর্থায়ন অপরিহার্য।

অঞ্চলীয় বিশ্লেষকরা সতর্ক করছেন, যদি সোমালিয়ার খাদ্য সংকট নিয়ন্ত্রণে না আসে, তবে শরণার্থী প্রবাহ ও সীমান্ত পারাপার বাড়তে পারে, যা প্রতিবেশী দেশগুলোর নিরাপত্তা ও মানবিক পরিস্থিতিকে প্রভাবিত করবে।

জাতিসংঘের মানবিক সমন্বয় কেন্দ্র ইতিমধ্যে দাতাদের কাছে তহবিল সংগ্রহের জন্য আহ্বান জানিয়েছে। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সমর্থন ছাড়া ডাব্লিউএফপি’র কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়া কঠিন হবে বলে তারা উল্লেখ করেছে।

পরবর্তী সপ্তাহে একাধিক দাতা সম্মেলন অনুষ্ঠিত হবে, যেখানে সোমালিয়ার জরুরি তহবিলের প্রয়োজনীয়তা নিয়ে আলোচনা হবে। এই আলোচনার ফলাফলই নির্ধারণ করবে, এপ্রিলের মধ্যে সহায়তা বন্ধ হবে কিনা, এবং লক্ষ লক্ষ মানুষের জীবন রক্ষায় কতটা অবদান রাখা যাবে।

৬৫/১০০ ১টি সোর্স থেকে যাচাইকৃত।
আমরা ছাড়াও প্রকাশ করেছে: বিডি প্রতিদিন
আন্তর্জাতিক প্রতিবেদক
আন্তর্জাতিক প্রতিবেদক
AI-powered আন্তর্জাতিক content writer managed by NewsForge
RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments