25.4 C
Dhaka
Friday, February 20, 2026
Google search engine
Homeখেলাধুলামহম্মদ সালাউদ্দিনের অভিযোগে আসিফ নজরুলের বিবৃতি নিয়ে বিতর্ক উন্মোচিত

মহম্মদ সালাউদ্দিনের অভিযোগে আসিফ নজরুলের বিবৃতি নিয়ে বিতর্ক উন্মোচিত

ঢাকা, ২২ জানুয়ারি – টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের জন্য ভারত ভ্রমণ না করার সিদ্ধান্তের পেছনের কারণ নিয়ে সদ্য বিদায় নেওয়া যুব ও ক্রীড়া উপদেষ্টা আসিফ নজরুলের মন্তব্যকে বাংলাদেশ ক্রিকেট দলের সিনিয়র সহকারী কোচ মহম্মদ সালাউদ্দিন কঠোরভাবে সমালোচনা করেছেন।

সালাউদ্দিনের মতে, আসিফ নজরুলের বলা যে “সিদ্ধান্তটি শুধুমাত্র বাংলাদেশ সরকারের” এবং পরে তা পরিবর্তন করে “বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড ও খেলোয়াড়রা” নেওয়া হয়েছে – এই দুইটি ভিন্ন অবস্থান একে অপরের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। তিনি উল্লেখ করেন, একাডেমিক পটভূমি থাকা একজন শিক্ষক হিসেবে এমন পরিবর্তনশীল বক্তব্যের ফলে দলের মনোবল ও খেলোয়াড়দের আস্থা ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।

আসিফ নজরুলের এই বিবৃতি প্রথমে প্রকাশের পর দেশীয় ক্রীড়া জগতে তীব্র আলোচনা সৃষ্টি করে। তিনি প্রথমে জোর দিয়ে বলেছিলেন যে নিরাপত্তা ঝুঁকি বিবেচনা করে ভারতীয় মঞ্চে খেলা না করা সরকারের সিদ্ধান্ত। তবে পরবর্তীতে তিনি বললেন যে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড এবং খেলোয়াড়দেরই এই সিদ্ধান্তে ভূমিকা রয়েছে। এই পরিবর্তনশীল অবস্থান দলীয় ব্যবস্থাপনা ও খেলোয়াড়দের মধ্যে বিভ্রান্তি বাড়িয়ে দেয়।

সালাউদ্দিন ২২ জানুয়ারি রাজধানীর একটি হোটেলে অনুষ্ঠিত ক্রিকেটারদের সঙ্গে বৈঠকের পর মিডিয়ার সামনে স্পষ্ট করে বলেন, “সিকিউরিটি রিস্কের কথা বিবেচনা করে ভারতীয় মঞ্চে না খেলা—এটা আমাদের সরকারের সিদ্ধান্ত। অন্য কোনো দেশের মানুষ অন্য দেশে গেলে নিরাপত্তা ঝুঁকি আছে কি না, সেটা সরকারই নির্ধারণ করে।” তিনি জোর দিয়ে বলেন যে এই সিদ্ধান্তের দায়িত্ব সরকারে এবং তা কোনো অন্য সংস্থার বিবেচনার আওতায় নয়।

আসিফ নজরুলের মন্তব্যের ফলে দলের দুইজন খেলোয়াড়ের মধ্যে মতবিরোধ দেখা দেয়, যা কোচের দৃষ্টিতে দলের অভ্যন্তরে অপ্রয়োজনীয় উত্তেজনা সৃষ্টি করেছে। সালাউদ্দিন উল্লেখ করেন, “উনি একেবারে মিথ্যা কথা বলেছেন, আমি নিজেও শিক্ষক, শিক্ষকরা মিথ্যা কম বলে।” তিনি ঢাকায় বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক হিসেবে আসিফ নজরুলের এই আচরণকে অগ্রহণযোগ্য বলে সমালোচনা করেন এবং দলের শৃঙ্খলা রক্ষার জন্য এ ধরনের মন্তব্যের পুনরাবৃত্তি না হওয়ার আহ্বান জানান।

বিষয়টি জাতীয় নির্বাচনের পর আরও তীব্র হয়, যখন আসিফ নজরুলের উপদেষ্টা পদ থেকে অব্যাহতি জানানো হয়। তার পরিবর্তে নতুন ক্রীড়া উপদেষ্টা নিয়োগের কথা শোনা যায়, তবে নতুন নিয়োগের বিস্তারিত এখনো প্রকাশিত হয়নি।

বাংলাদেশের মূল দাবি ছিল ভারতীয় মঞ্চ থেকে ম্যাচগুলোকে শ্রীলঙ্কায় স্থানান্তর করা, যাতে নিরাপত্তা ঝুঁকি কমে। তবে দীর্ঘ সময়ের টানাপোড়েনের পর বাংলাদেশকে টুর্নামেন্ট থেকে বাদ দেওয়া হয় এবং স্কটল্যান্ডকে নতুন অংশগ্রহণকারী হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করা হয়। এই সিদ্ধান্তের ফলে বাংলাদেশ ক্রিকেট দল আন্তর্জাতিক পর্যায়ে একটি গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ হারায়।

সালাউদ্দিনের মন্তব্যের পর ক্রীড়া জগতে একাধিক বিশ্লেষক ও অভ্যন্তরীণ সূত্র থেকে এই বিষয়ের ওপর মতামত প্রকাশ পায়। বেশিরভাগই একমত যে, সিদ্ধান্ত গ্রহণের প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও একরূপতা বজায় রাখা দলের মনোবল ও জনমত গঠনে গুরুত্বপূর্ণ। এছাড়া, শিক্ষাবিদ ও ক্রীড়া প্রশাসকের মধ্যে মতবিরোধের ফলে ভবিষ্যতে এমন পরিস্থিতি এড়াতে স্পষ্ট নীতি নির্ধারণের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরা হয়।

এই ঘটনার পর, বাংলাদেশ ক্রিকেট দল আন্তর্জাতিক ক্যালেন্ডারে পরবর্তী ম্যাচের প্রস্তুতি চালিয়ে যাচ্ছে। যদিও টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের অংশগ্রহণে বাধা এসেছে, তবে দলটি শ্রীলঙ্কা ও অন্যান্য দেশের সঙ্গে আসন্ন সিরিজের জন্য প্রশিক্ষণ চালিয়ে যাবে। ক্রীড়া মন্ত্রণালয় ও বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের সঙ্গে সমন্বয় করে নিরাপত্তা ও ক্রীড়া নীতির সমন্বয় নিশ্চিত করা হবে বলে জানানো হয়েছে।

সারসংক্ষেপে, আসিফ নজরুলের পরিবর্তনশীল বিবৃতি এবং মহম্মদ সালাউদ্দিনের তীব্র সমালোচনা দেশের ক্রীড়া পরিবেশে এক নতুন আলোচনার সূচনা করেছে। নিরাপত্তা ঝুঁকি, সরকারী সিদ্ধান্ত এবং ক্রীড়া প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে এই বিতর্ক ভবিষ্যতে ক্রীড়া নীতি গঠনে প্রভাব ফেলবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

৮৫/১০০ ১টি সোর্স থেকে যাচাইকৃত।
আমরা ছাড়াও প্রকাশ করেছে: বিডিনিউজ২৪
ক্রীড়া প্রতিবেদক
ক্রীড়া প্রতিবেদক
AI-powered খেলাধুলা content writer managed by NewsForge
RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments