চট্টগ্রাম শহরের কোতভালি থানা এলাকার রাইফেল ক্লাবের সামনে সকাল ৬টায় হঠাৎ একটি ফ্ল্যাশ পারেডের আয়োজনের চেষ্টা করা আটজন যুবককে পুলিশ গ্রেফতার করেছে। গ্রেফতারের মূল কারণ ছিল নিষিদ্ধ যুবলীগ ও ছাত্রলীগের সদস্যদের সমন্বয়ে গঠিত দলটি বর্ণময় পট্টি ও ব্যানার নিয়ে অপ্রত্যাশিত রোড শো করার পরিকল্পনা করা।
স্থানীয় পুলিশ জানায়, তথ্য পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে কোতভালি থানার অফিসার‑ইন‑চার্জ (OC) মোঃ আফতাব উদ্দিন现场ে পৌঁছে দলটির সঙ্গে ব্যানারসহ আটজনকে আটক করেন। গ্রেফতারের সময় পার্টি সদস্যদের হাতে তৈরি পট্টি ও স্লোগান ব্যানার পাওয়া যায়।
অধিকাংশ গ্রেফতারকৃতের বয়স ১৯ থেকে ২৪ বছরের মধ্যে এবং তারা চট্টগ্রামের বিভিন্ন উপজেলায় বসবাস করে। হাটহাজারি থেকে তুষার (২০), মাসুদুর রহমান (২৪) এবং ইব্রাহিম হোসেন বাবু (২২) সহ রাকিব (১৯), শারিফ হোসেন মুনা (২০) ও রিয়াজ হোসেন (২০) একই এলাকায় থেকে আসা। হাটহাজারি থেকে আল নোমান (২০) এবং স্যাটকানিয়া থেকে হামিদ মিয়াজি (২২) নামেও আটজনের তালিকায় অন্তর্ভুক্ত।
পুলিশের মতে, দলটি রাইফেল ক্লাবের সামনে একাধিক ব্যানার ও স্লোগানসহ হঠাৎ পারেডের আয়োজনের জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছিল। গ্রেফতারকৃতদের সঙ্গে ব্যানার, পট্টি এবং কিছু রেকর্ডিং ডিভাইসও বাজেয়াপ্ত করা হয়।
অফিসার‑ইন‑চার্জ মোঃ আফতাব উদ্দিন জানান, “তথ্য পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে আমরা现场ে পৌঁছাই এবং দলকে আটক করে তাদের সামগ্রী বাজেয়াপ্ত করি।” তিনি আরও উল্লেখ করেন, গ্রেফতারকৃতদের সঙ্গে আলাপচারিতা চালিয়ে তাদের শহরে কোনো অবৈধ কার্যক্রমের পরিকল্পনা আছে কিনা তা জানার চেষ্টা করা হচ্ছে।
গ্রেফতারকৃতদের বর্তমান অবস্থান সম্পর্কে জানানো হয় যে, তারা কোতভালি থানার হেফাজতে রাখা হয়েছে এবং তদন্তের অংশ হিসেবে জিজ্ঞাসাবাদে অংশ নিচ্ছেন। পুলিশ জোর দিয়ে বলেছে, কোনো অবৈধ কার্যক্রমের ইঙ্গিত পাওয়া গেলে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এ পর্যন্ত গ্রেফতারকৃতদের বিরুদ্ধে কোনো আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দায়ের করা হয়নি, তবে তদন্তের ফলাফলের ওপর ভিত্তি করে প্রাসঙ্গিক আইনি প্রক্রিয়া শুরু হবে বলে জানানো হয়েছে।
স্থানীয় আইন প্রয়োগকারী সংস্থা এই ধরনের নিষিদ্ধ সংগঠনের অযৌক্তিক সমাবেশ রোধে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার কথা পুনর্ব্যক্ত করেছে। তারা উল্লেখ করেছে, ভবিষ্যতে অনুরূপ ঘটনা এড়াতে তথ্য সংগ্রহ ও তদারকি বাড়ানো হবে।
এই ঘটনার পর কোতভালি থানার উচ্চতর কর্মকর্তারা নিরাপত্তা বাড়াতে অতিরিক্ত পেট্রোল ও নজরদারি বাড়ানোর পরিকল্পনা করছেন। এছাড়া, রাইফেল ক্লাবের আশেপাশে জনসমাগমের সময়সূচি পুনর্বিবেচনা করা হবে।
গ্রেফতারকৃতদের পরিবার ও সমর্থকগণ এখন পর্যন্ত কোনো মন্তব্য করেননি। তবে পুলিশ জানিয়েছে, তদন্ত চলাকালে সংশ্লিষ্ট সকল তথ্য সংরক্ষণ করা হবে এবং আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার পরই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
এই গ্রেফতার ঘটনাটি চট্টগ্রামের নিরাপত্তা সংক্রান্ত আলোচনায় নতুন দৃষ্টিকোণ যোগ করেছে এবং স্থানীয় প্রশাসনের দ্রুত পদক্ষেপের উদাহরণ হিসেবে উল্লেখ করা হচ্ছে। ভবিষ্যতে নিষিদ্ধ সংগঠনের অবৈধ কার্যক্রম রোধে আইন প্রয়োগকারী সংস্থার সতর্কতা বজায় থাকবে।



