স্ট্যানফোর্ড ইউনিভার্সিটির গবেষক দল সম্প্রতি একটি নাসাল স্প্রে টিকার সম্ভাবনা প্রকাশ করেছে, যা সর্দি, কাশি, ইনফ্লুয়েঞ্জা এবং শ্বাসযন্ত্রের ব্যাকটেরিয়া সংক্রমণসহ বিভিন্ন রোগ থেকে সুরক্ষা দিতে পারে। গবেষণাটি বিজ্ঞান সাময়িকী ‘সায়েন্স’-এ প্রকাশিত হয়েছে এবং টিকাটি একক ডোজে কাজ করার পাশাপাশি অ্যালার্জি উপসর্গ কমাতে সক্ষম বলে দাবি করা হয়েছে।
প্রচলিত টিকাগুলো নির্দিষ্ট কোনো রোগজীবাণুকে লক্ষ্য করে ইমিউন সিস্টেমকে প্রশিক্ষণ দেয়; তবে এই নতুন পদ্ধতি সম্পূর্ণ ভিন্ন। এটি কোনো নির্দিষ্ট মাইক্রোঅর্গানিজমকে চেনার জন্য নয়, বরং রোগ প্রতিরোধ কোষগুলোর পারস্পরিক যোগাযোগের পদ্ধতিকে অনুকরণ করে, ফলে শারীরিক প্রতিরোধ ক্ষমতা বিস্তৃতভাবে সক্রিয় হয়।
টিকাটি ন্যাজাল স্প্রে হিসেবে ব্যবহার করা হয়, যা ফুসফুসের ম্যাক্রোফেজকে ‘অ্যাম্বার অ্যালার্ট’ অবস্থায় রাখে। এই সতর্ক অবস্থা কোষগুলোকে দ্রুত প্রতিক্রিয়া জানাতে সক্ষম করে, ফলে শ্বাসযন্ত্রে প্রবেশের চেষ্টা করা যে কোনো জীবাণু দ্রুত নিরুৎসাহিত হয়। সতর্ক অবস্থা প্রায় তিন মাস পর্যন্ত বজায় থাকে।
প্রাণী পরীক্ষায় দেখা গেছে, স্প্রে প্রয়োগের পর ম্যাক্রোফেজের সতর্ক অবস্থা তিন মাস পর্যন্ত টিকে থাকে এবং ভাইরাসের ফুসফুসে প্রবেশের হার ১০০ থেকে ১,০০০ গুণ কমে যায়। একই সঙ্গে ব্যাকটেরিয়াল সংক্রমণের সম্ভাবনাও উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস পায়।
গবেষণার প্রধান অধ্যাপক বালি পুলেন্দ্রান উল্লেখ করেন, এই টিকা ইনফ্লুয়েঞ্জা, কোভিড-১৯ এবং সাধারণ সর্দি ভাইরাসের পাশাপাশি স্ট্যাফিলোকক্কাস ও অ্যাসিঙ্কটোব্যাক্টরের মতো দুইটি গুরুত্বপূর্ণ ব্যাকটেরিয়ার বিরুদ্ধেও কার্যকর। তাছাড়া, ঘরের ধুলিকণা থেকে সৃষ্ট অ্যালার্জিক অ্যাজমা ও শ্বাসকষ্টের প্রবণতাও কমে যায়।
অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের ভ্যাক্সিনোলজি বিভাগের অধ্যাপক ড্যানিয়েলা ফেরেরা গবেষণাটিকে ‘অত্যন্ত চমকপ্রদ’ বলে মূল্যায়ন করেছেন। তিনি জানান, যদি মানবিক ক্লিনিক্যাল ট্রায়াল সফল হয়, তবে এটি সাধারণ শ্বাসযন্ত্রের রোগ থেকে সুরক্ষার ক্ষেত্রে এক বিশাল মাইলফলক হতে পারে।
এখনও পর্যন্ত টিকার মানবিক ক্লিনিক্যাল পরীক্ষা শুরু হয়নি; গবেষকরা নিরাপত্তা ও ডোজ নির্ধারণের জন্য ফেজ‑১ ট্রায়াল পরিকল্পনা করছেন। মানবদেহে প্রয়োগের আগে দীর্ঘমেয়াদী নিরাপত্তা ও পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া সম্পর্কে আরও তথ্য সংগ্রহ করা হবে।
একই সময়ে, এই সার্বজনীন টিকার সম্ভাবনা টিকাদান প্রোগ্রামকে সহজতর করতে পারে, কারণ আলাদা আলাদা রোগের জন্য পৃথক টিকার প্রয়োজন কমে যাবে। সফল হলে বার্ষিক ফ্লু শট এবং অন্যান্য শ্বাসযন্ত্রের টিকার প্রয়োজনীয়তা উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস পেতে পারে।
তবে এখনও কিছু প্রশ্ন রয়ে গেছে, যেমন দীর্ঘমেয়াদী নিরাপত্তা, সম্ভাব্য পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া এবং নতুন ভাইরাসের ভ্যারিয়েন্টের বিরুদ্ধে সুরক্ষার মাত্রা। গবেষকরা এই বিষয়গুলো সমাধানের জন্য অতিরিক্ত গবেষণা চালিয়ে যাবেন এবং ভবিষ্যতে জনসাধারণের জন্য টিকাটি উপলব্ধ হলে তার কার্যকারিতা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে।



