চ্যাথাম টাউন উইমেনসের দল শনিবার স্ট অ্যান্ড্রু স্টেডিয়ামে বর্মিংহাম সিটির সঙ্গে নারী FA কাপের পঞ্চম রাউন্ডে মুখোমুখি হবে। এই ম্যাচটি সরাসরি টেলিভিশনে সম্প্রচারিত হবে এবং জয়ী দল কোয়ার্টার ফাইনালে অগ্রসর হবে।
চ্যাথাম টাউন চতুর্থ স্তরের ক্লাব, এবং এই পর্যায়ে অংশগ্রহণকারী সর্বনিম্ন র্যাঙ্কের দল হিসেবে তারা এখন পর্যন্ত প্রতিদ্বন্দ্বী দলগুলোর মধ্যে শীর্ষে রয়েছে। বর্মিংহাম সিটি, যেটি দ্বিতীয় স্তরের উপরে অবস্থিত, সম্পূর্ণ পেশাদার খেলোয়াড়দের নিয়ে গঠিত, যা চ্যাথামকে আর্থিক ও অভিজ্ঞতার দিক থেকে বড় চ্যালেঞ্জের মুখে রাখে।
চ্যাথাম টাউন তাদের খেলোয়াড়দের ব্যয় বহন করে, তবে কোনো বেতন প্রদান করে না, যা তাদের পূর্ণকালীন প্রতিপক্ষের তুলনায় স্পষ্ট পার্থক্য। ক্লাবের আর্থিক সহায়তা মূলত পুরস্কার অর্থের ওপর নির্ভরশীল, যা এই মৌসুমে তাদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
ক্লাবটি সেপ্টেম্বর মাসে তৃতীয় কোয়ালিফাইং রাউন্ডে প্রতিযোগিতায় প্রবেশ করে এবং এখন পর্যন্ত পাঁচটি ম্যাচ জয় করেছে। এর মধ্যে দুইটি ম্যাচ পেনাল্টি শুটআউটে জিতেছে, যার প্রতিপক্ষ ছিল তৃতীয় স্তরের এএফসি উইম্বলডন এবং এক্সেটার সিটি।
এই সাফল্যের ফলে চ্যাথাম টাউনকে মোট £১,০৭,০০০ পুরস্কার অর্থ প্রদান করা হয়েছে। যদি দল শনিবারের ম্যাচে পরাজিত হয়, তবে অতিরিক্ত £২০,০০০ পাবে; আর যদি বর্মিংহামকে পরাজিত করে জয়ী হয়, তবে মোট £৮০,০০০ অতিরিক্ত অর্থ পাবে।
ম্যানেজার কীথ বোনাসের মতে, এই £১,০৭,০০০ অর্থ কমপক্ষে দুই থেকে তিন বছর পর্যন্ত নারী ফুটবলের উন্নয়নে সহায়তা করবে। তিনি উল্লেখ করেন যে এই পরিমাণ ২০০৫ সালে পুরুষদের FA কাপ জয়ী ক্লাবকে দেওয়া £৫,০০০ পুরস্কারের তুলনায় অনেক বেশি।
কীথ বোনাসের পূর্বের সাফল্যও উল্লেখযোগ্য; তিনি ২০০৩ থেকে ২০০৭ পর্যন্ত চারবার চ্যাল্টন ওয়িমেনসকে চ্যাম্পিয়নশিপ ফাইনালে নিয়ে গেছেন। ত্রয়ী বছর ধারাবাহিক ফাইনাল জয়ের পর ২০০৭ সালে তিনি দলকে চ্যাম্পিয়ন শিরোপা এনে দেন।
সেই চ্যাম্পিয়নশিপের সমাপ্তি মুহূর্তে ১৮ বছর বয়সী এনি আলুকোর গোলই ম্যাচের সিদ্ধান্ত নির্ধারণ করে। ঐ দলে কানাডার জাতীয় দলের প্রধান কোচ ক্যাসি স্টনি এবং বর্তমান চ্যাথাম টাউন ম্যানেজার ক্যারেন হিলসও ছিলেন, যারা তখন ক্লাবের গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে কাজ করছিলেন।
স্ট অ্যান্ড্রু স্টেডিয়ামের পাশে থাকা ববির বারটি ম্যাচের আগে উচ্ছ্বাসে ভরে যায়, যেখানে ভক্ত ও স্থানীয় মানুষজন দলকে উৎসাহিত করে। গোলপোস্টের পেছনে ‘If I can dream …’ লেখা একটি বড় পোস্টার দেখা যায়, যা খেলোয়াড়দের স্বপ্নকে বাস্তবে রূপান্তর করার ইঙ্গিত দেয়।
চ্যাথাম টাউন উইমেনসের খেলোয়াড়রা দিনের কাজ শেষ করে সন্ধ্যা ৮.৩০ টায় প্রশিক্ষণ শুরু করে, যা তাদের শারীরিক প্রস্তুতি ও মানসিক দৃঢ়তা বাড়াতে সহায়তা করে। প্রশিক্ষণ সেশনের পর তারা স্টেডিয়ামে যাত্রা করে, যেখানে তারা বর্মিংহাম সিটির সঙ্গে মুখোমুখি হবে।
ক্লাবের বোর্ডরুমে সাময়িকভাবে প্রদর্শিত নারী FA কাপ ট্রফি দলকে অনুপ্রেরণা জোগায়। ট্রফির উপস্থিতি এবং পুরস্কার অর্থের সম্ভাবনা খেলোয়াড়দের মধ্যে উচ্চ উদ্দীপনা তৈরি করেছে, যা তাদের পারফরম্যান্সে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে।
যদি চ্যাথাম টাউন এই ম্যাচে জয়লাভ করে, তবে তারা কেবল আর্থিকভাবে নয়, ক্রীড়া দৃষ্টিকোণ থেকেও বড় অগ্রগতি অর্জন করবে, যা ভবিষ্যতে আরও তরুণী খেলোয়াড়কে ক্লাবে যোগদানের প্রেরণা দেবে।



