25.4 C
Dhaka
Friday, February 20, 2026
Google search engine
Homeরাজনীতিবাংলাদেশ সরকার এলডিসি উত্তরণ সময়সীমা তিন বছর বাড়ানোর আবেদন জমা দিল

বাংলাদেশ সরকার এলডিসি উত্তরণ সময়সীমা তিন বছর বাড়ানোর আবেদন জমা দিল

নতুন সরকার দায়িত্ব গ্রহণের পরপরই বাংলাদেশ সরকার এলডিসি (কম উন্নত দেশ) তালিকা থেকে উত্তরণ সময়সীমা বাড়ানোর আনুষ্ঠানিক আবেদন জানায়। আবেদনটি জাতিসংঘের অর্থনৈতিক ও সামাজিক পরিষদের অধীন কমিটি ফর ডেভেলপমেন্ট পলিসির (সিডিপি) চেয়ারম্যান হোসে আন্তোনিও ওকাম্পোর কাছে পাঠানো হয়। চিঠিতে দেশীয় ও আন্তর্জাতিক বহু চ্যালেঞ্জের কথা তুলে ধরে ২৪ নভেম্বর ২০২৯ পর্যন্ত সময় বাড়ানোর অনুরোধ করা হয়েছে।

চিঠি পাঠান অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের (ইআরডি) সচিব শাহরিয়ার কাদের ছিদ্দিকী বুধবার জাতিসংঘের সংশ্লিষ্ট কমিটিকে। পূর্বে নির্ধারিত উত্তরণ তারিখ ছিল ২৪ নভেম্বর ২০২৪, যা এখন তিন বছর পিছিয়ে দেওয়ার প্রস্তাব রয়েছে। সরকার দাবি করে যে এই পরিবর্তন অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা ও সংস্কার সংহত করতে সহায়ক হবে।

এলডিসি উত্তরণ প্রক্রিয়ার তৃতীয় পর্যালোচনা ইতিমধ্যে চলমান, এবং দেশের শীর্ষ ব্যবসায়িক সংগঠন ও কিছু অর্থনীতিবিদ পূর্বে নেপাল ও লাওসের মতো একই সময়ে উত্তরণে থাকা দেশগুলোর সঙ্গে সমন্বয় করে ২০৩০ সাল পর্যন্ত সময় বাড়ানোর পরামর্শ দিয়েছিলেন। তবে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার দায়িত্ব এখন নির্বাচিত সরকারের ওপরই অবশিষ্ট।

বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে নিযুক্ত খন্দকার আবদুল মুক্তাদীর সাংবাদিকদের জানিয়ে বলেন, এলডিসি উত্তরণ বিলম্বিত করতে প্রয়োজনীয় সব ব্যবস্থা দ্রুত সম্পন্ন করা হবে। তিনি উল্লেখ করেন, মন্ত্রণালয় ইতিমধ্যে কাজ শুরু করেছে এবং ইআরডির সঙ্গে সমন্বয় করে এই প্রক্রিয়াকে ত্বরান্বিত করবে। একই দিনে ইআরডি সচিব সিডিপি চেয়ারম্যানকে চিঠি প্রদান করেন।

সরকারের চিঠিতে উল্লেখ করা হয়েছে, সময়সীমা বাড়ালে সামষ্টিক অর্থনীতিকে স্থিতিশীল করা, চলমান সংস্কারগুলো সংহত করা এবং স্মুথ ট্রানজিশন স্ট্র্যাটেজি (এসটিএস) অধীনে অগ্রাধিকারমূলক কার্যক্রম সম্পন্ন করার জন্য প্রয়োজনীয় নীতিগত সুযোগ সৃষ্টি হবে। এছাড়া, পাঁচ বছরের প্রস্তুতি সময়কাল ধারাবাহিকভাবে দেশীয় ও আন্তর্জাতিক সংকটে ব্যাহত হয়েছে বলে উল্লেখ করা হয়েছে।

বৈশ্বিক সংকটের মধ্যে রয়েছে কোভিড-১৯ মহামারির দীর্ঘস্থায়ী প্রভাব, বিশ্ব অর্থনীতির পুনরুদ্ধারের ধীরগতি, রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের ফলে জ্বালানি ও খাদ্যবাজারে অস্থিরতা, বৈশ্বিক আর্থিক ব্যবস্থার কঠোরতা, বাণিজ্য পুনরুদ্ধারের বিলম্ব, মধ্যপ্রাচ্যের অস্থিরতা এবং বৈশ্বিক বাণিজ্য ব্যবস্থার বাড়তে থাকা চ্যালেঞ্জ। এসব কারণ একত্রে এলডিসি উত্তরণ প্রস্তুতির পরিকল্পনাকে গুরুতরভাবে প্রভাবিত করেছে।

সরকারের মতে, এই সময়সীমা বৃদ্ধির মাধ্যমে দেশটি এলডিসি থেকে উত্তরণে একটি মসৃণ ও পরিকল্পিত রূপান্তর নিশ্চিত করতে পারবে, যাতে অর্জিত উন্নয়নমূলক অগ্রগতি ক্ষতিগ্রস্ত না হয়। এছাড়া, আন্তর্জাতিক দাতাদের ও উন্নয়ন অংশীদারদের সঙ্গে আলোচনায় এই পদক্ষেপটি একটি গুরুত্বপূর্ণ আলোচ্য বিষয় হয়ে উঠবে।

অগ্রিম অনুমোদন পাওয়ার পর, সরকার আনুষ্ঠানিকভাবে জাতিসংঘের সংশ্লিষ্ট কমিটিতে চূড়ান্ত আবেদন জমা দেওয়ার পরিকল্পনা করেছে। অনুমোদন নিশ্চিত হলে, বাংলাদেশ সরকার সংশ্লিষ্ট আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোর সঙ্গে সমন্বয় করে নতুন সময়সীমা অনুযায়ী নীতি ও পরিকল্পনা পুনর্গঠন করবে।

এই উদ্যোগের পরবর্তী ধাপ হবে ক্যাবিনেটের মধ্যে বিষয়টি আলোচনা করে চূড়ান্ত অনুমোদন নেওয়া এবং সংশ্লিষ্ট আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোর কাছে আনুষ্ঠানিক আবেদন প্রেরণ করা। যদি অনুমোদন মিলে যায়, তবে ২৪ নভেম্বর ২০২৯ তারিখে এলডিসি উত্তরণ লক্ষ্য করে দেশের অর্থনৈতিক ও সামাজিক নীতি পুনর্গঠন করা হবে।

৯২/১০০ ১টি সোর্স থেকে যাচাইকৃত।
আমরা ছাড়াও প্রকাশ করেছে: প্রথম আলো
রাজনীতি প্রতিবেদক
রাজনীতি প্রতিবেদক
AI-powered রাজনীতি content writer managed by NewsForge
RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments