ব্রিটিশ গবেষক দল একটি বিশদ জিনগত মানচিত্র প্রকাশ করেছে, যেখানে গৃহবিড়ালের ক্যান্সার ও মানব ক্যান্সারের মধ্যে উল্লেখযোগ্য সাদৃশ্য দেখা গেছে। এই ফলাফল উভয় প্রজাতির রোগের কারণ ও চিকিৎসা পদ্ধতিতে নতুন দিক নির্দেশ করতে পারে।
বিড়ালের ক্যান্সার প্রাণীজগতের অন্যতম প্রধান রোগ, যা প্রাণীর স্বাস্থ্য ও আয়ুতে বড় প্রভাব ফেলে। তবে এখন পর্যন্ত এই রোগের জেনেটিক ভিত্তি সম্পর্কে জ্ঞান সীমিত ছিল, ফলে নির্ণয় ও থেরাপি উন্নয়নে বাধা সৃষ্টি হচ্ছিল।
সম্প্রতি আন্তর্জাতিক গবেষণা দল প্রায় ৫০০টি গৃহবিড়ালের টিউমার থেকে ডিএনএ বিশ্লেষণ করে প্রায় ১,০০০টি জিনের পরিবর্তন চিহ্নিত করেছে। এই জিনগুলো ১৩টি ভিন্ন ধরনের বিড়ালের ক্যান্সারের সঙ্গে যুক্ত, যা প্রথমবারের মতো এত বিস্তৃতভাবে মানচিত্রায়িত হয়েছে।
বিশ্লেষণের ফলাফল দেখায় যে, বিড়ালের ক্যান্সারকে চালিত করা বেশিরভাগ জিনের পরিবর্তন মানব ক্যান্সারের ক্ষেত্রে একই রকম। অর্থাৎ, টিউমার গঠনের মৌলিক প্রক্রিয়া দুটো প্রজাতিতে সমান, যা রোগের বিকাশের মূল মেকানিজমকে উন্মোচন করে।
এই সাদৃশ্য বিশেষভাবে ত্রিপল-নেগেটিভ স্তন ক্যান্সার (TNBC) ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ, যা মানব স্তন ক্যান্সারের প্রায় ১৫% অংশ গঠন করে। গবেষণায় দেখা গেছে, বিড়াল এই ধরনের ক্যান্সার বেশি ঘন ঘন বিকাশ করে, ফলে বিজ্ঞানীরা সহজে পর্যাপ্ত নমুনা সংগ্রহ করতে পারেন এবং রোগের জেনেটিক বৈশিষ্ট্য গভীরভাবে অধ্যয়ন করতে পারেন।
বিড়ালের টিউমার থেকে প্রাপ্ত জিনগত তথ্য নতুন ওষুধের লক্ষ্যবস্তু নির্ধারণে সহায়তা করতে পারে। বিশেষ করে, TNBC-র মতো কঠিন চিকিৎসাযোগ্য ক্যান্সারের জন্য সম্ভাব্য থেরাপি বিকাশে এই তথ্য গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
যুক্তরাজ্যের প্রায় এক চতুর্থাংশ পরিবারে কমপক্ষে একটি বিড়াল রয়েছে, যা কুকুরের সঙ্গে সমান জনপ্রিয়তা পেয়েছে। এই ব্যাপক উপস্থিতি গবেষকদের জন্য একটি মূল্যবান সম্পদ, কারণ বাড়িতে থাকা বিড়াল মানুষের পরিবেশের সঙ্গে একই ধরনের সংস্পর্শে থাকে।
কুকুরের ক্যান্সার গবেষণা দীর্ঘদিন ধরে ব্যাপকভাবে চালিত হয়েছে, তবে বিড়ালের ক্ষেত্রে গবেষণা তুলনামূলকভাবে কম। এই ফাঁক পূরণে বর্তমান গবেষণা গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ, যা ভবিষ্যতে দুটো প্রজাতির রোগের পারস্পরিক সম্পর্ককে আরও স্পষ্ট করবে।
বিড়াল ও মানুষ একই বাসস্থান ভাগ করে নেয়, ফলে উভয়েরই একই পরিবেশগত ঝুঁকির মুখে পড়ার সম্ভাবনা থাকে। গবেষকরা বিশ্বাস করেন, এই ভাগাভাগি করা পরিবেশগত উপাদানগুলো ক্যান্সার ঝুঁকি বাড়াতে পারে, এবং তা বিশ্লেষণ করে রোগের প্রতিরোধে নতুন কৌশল তৈরি করা সম্ভব।
একজন কানাডার ভেটেরিনারি কলেজের অধ্যাপক উল্লেখ করেছেন, জেনেটিক সাদৃশ্য ও পরিবেশগত শেয়ারিংয়ের মাধ্যমে আমরা ক্যান্সার কীভাবে উভয় প্রজাতিতে বিকশিত হয় তা আরও ভালোভাবে বুঝতে পারব। এই জ্ঞান ভবিষ্যতে ক্যান্সার প্রতিরোধ, নির্ণয় ও চিকিৎসা পদ্ধতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
সারসংক্ষেপে, গৃহবিড়ালের ক্যান্সার জিনোমের বিশদ মানচিত্র মানব ক্যান্সার গবেষণার জন্য একটি নতুন দৃষ্টিকোণ উন্মোচন করেছে। এই ফলাফল ভবিষ্যতে উভয় প্রজাতির রোগের কারণ বিশ্লেষণ ও কার্যকর থেরাপি বিকাশে সহায়তা করবে, এবং বিড়ালকে ক্যান্সার গবেষণার গুরুত্বপূর্ণ মডেল হিসেবে স্বীকৃতি দিতে পারে।
আপনার বাড়িতে যদি বিড়াল থাকে, তবে তার স্বাস্থ্যের প্রতি বিশেষ মনোযোগ দিন; নিয়মিত চেক-আপ ও সঠিক পোষণ ক্যান্সারসহ বিভিন্ন রোগের ঝুঁকি কমাতে সহায়ক হতে পারে।



