স্পাইসজেটের বাংলাদেশী আকাশসীমা ব্যবহার বন্ধের সিদ্ধান্ত গত বৃহস্পতিবার প্রকাশিত হয়। এ সিদ্ধান্তের পেছনে বকেয়া অর্থের জটিলতা এবং সংশ্লিষ্ট অপারেশনাল সমস্যার উল্লেখ করা হয়েছে। ফলে কলকাতা থেকে গুআহাটি এবং অন্যান্য গন্তব্যে চলা স্পাইসজেটের ফ্লাইটগুলোকে বিকল্প রুটে উড়তে হচ্ছে, যা সময় ও খরচ উভয়ই বাড়িয়ে দিচ্ছে।
বাংলাদেশের সিভিল এভিয়েশন কর্তৃপক্ষের মতে, স্পাইসজেটের ওপর প্রায় ৩০ লাখ ডলারের বকেয়া রয়েছে। এই পরিমাণের কিছু অংশ মাসিক এক লাখ ডলারের হারে পরিশোধের পরিকল্পনা করা হয়েছিল, তবে তা সম্পূর্ণভাবে বাস্তবায়িত হয়নি। বকেয়া অর্থের পরিমাণ এবং পরিশোধের ধারা নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে চলমান আলোচনা চলছে।
স্পাইসজেটের প্রতিনিধিরা জানিয়েছেন যে নেভিগেশন ফি এবং অন্যান্য অপারেশনাল খরচের বিষয়টি নিয়মিতভাবে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করা হচ্ছে। তারা উল্লেখ করেছেন, এই ধরনের সমস্যাগুলো বিমান পরিষেবার ক্ষেত্রে সাধারণ এবং সমাধানের জন্য গঠনমূলক আলোচনা চালিয়ে যাবে। তবে বর্তমান পরিস্থিতিতে ওভারফ্লাই অনুমতি না পাওয়ায় বিকল্প রুটে উড়তে বাধ্য হওয়ায় অতিরিক্ত জ্বালানি ও সময়ের খরচ বেড়েছে।
সিভিল এভিয়েশন বিভাগের একজন কর্মকর্তা উল্লেখ করেছেন, গত বছর মার্চ পর্যন্ত স্পাইসজেট বাংলাদেশে ওভারফ্লাই চালিয়ে গিয়েছিল এবং সময়মতো পেমেন্টও করেছিল। তবে তার পর থেকে কোনো ওভারফ্লাই অনুরোধ করা হয়নি, যা বকেয়া অর্থের সঞ্চয়ের ইঙ্গিত দেয়। তিনি আরও জানান, ২০২২ সাল পর্যন্ত ঢাকা-গন্তব্যে ফ্লাইট চালানো হয়েছিল, তবে বাণিজ্যিক কারণেই পরে তা বন্ধ করা হয়।
বাংলাদেশের আকাশসীমা ব্যবহার করতে বিদেশি এয়ারলাইন্সকে নির্দিষ্ট ফি প্রদান করতে হয়। এই ফি সাধারণত ওভারফ্লাই রুটের জন্য পূর্বে নির্ধারিত হয় এবং সময়মতো পরিশোধ করা হলে অনুমতি প্রদান করা হয়। স্পাইসজেটের বকেয়া অর্থের ফলে এই ফি সম্পূর্ণভাবে পরিশোধ করা সম্ভব হয়নি, ফলে অনুমতি প্রত্যাখ্যান করা হয়েছে।
বাণিজ্যিক দৃষ্টিকোণ থেকে এই নিষেধাজ্ঞা স্পাইসজেটের অপারেশনাল ব্যয় বাড়িয়ে তুলেছে। বিকল্প রুটে উড়তে অতিরিক্ত জ্বালানি, ক্রু স্ট্যান্ডবাই সময় এবং গ্রাউন্ড হ্যান্ডলিং খরচ যুক্ত হয়েছে। ফলে টিকিটের দাম বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে এবং গ্রাহকের সন্তুষ্টি হ্রাস পেতে পারে। এছাড়া, সময়সূচি বিঘ্নিত হওয়ায় সংযোগ ফ্লাইটের ওপরও প্রভাব পড়ছে।
বাজারে এই ঘটনার প্রতিক্রিয়া নেতিবাচক। বিনিয়োগকারী এবং ভ্রমণ সংস্থাগুলি স্পাইসজেটের আর্থিক স্বাস্থ্যের ওপর প্রশ্ন তুলছে, বিশেষ করে বকেয়া অর্থের পরিমাণ এবং ভবিষ্যৎ পেমেন্টের সক্ষমতা নিয়ে। একই সঙ্গে, অন্যান্য এয়ারলাইনগুলো এই সুযোগে বাংলাদেশে সরাসরি রুট চালু করার পরিকল্পনা করতে পারে, যা স্পাইসজেটের বাজার শেয়ার হ্রাসের ঝুঁকি বাড়ায়।
ভবিষ্যৎ দৃষ্টিতে, যদি স্পাইসজেট বকেয়া অর্থের সম্পূর্ণ পরিশোধ করে এবং সংশ্লিষ্ট ফি সময়মতো প্রদান করে, তবে অনুমতি পুনরায় প্রদান করা সম্ভব হতে পারে। তবে বর্তমান আলোচনার অগ্রগতি এবং পেমেন্টের গতি নির্ধারণ করবে কত দ্রুত এই নিষেধাজ্ঞা শেষ হবে। অন্যদিকে, যদি বকেয়া পরিমাণ বাড়ে এবং সমাধান না হয়, তবে এয়ারলাইনকে দীর্ঘমেয়াদে বাংলাদেশীয় আকাশসীমা ব্যবহার থেকে বাদ পড়তে হতে পারে, যা তার দক্ষিণ এশীয় নেটওয়ার্কে বড় ধাক্কা হবে।
সারসংক্ষেপে, স্পাইসজেটের বাংলাদেশে ওভারফ্লাই নিষেধাজ্ঞা বকেয়া অর্থ এবং অপারেশনাল সমস্যার সরাসরি ফল। এই পরিস্থিতি এয়ারলাইনের খরচ কাঠামো, গ্রাহক সেবা এবং বাজার অবস্থানে উল্লেখযোগ্য প্রভাব ফেলবে। উভয় পক্ষের মধ্যে দ্রুত সমঝোতা এবং বকেয়া পরিশোধের পদক্ষেপই এই সংকটের সমাধানের মূল চাবিকাঠি হবে।



