টানা কয়েক বছর ধরে পাকিস্তান ক্রিকেট দল ও ভারত ক্রিকেট দলের খেলোয়াড়রা আন্তর্জাতিক ম্যাচে একে অপরের সঙ্গে হাত না মিলিয়ে আসছেন। এই প্রথা প্রথমবার দেখা যায় গত টি‑টোয়েন্টি এশিয়া কাপের পর থেকে, যেখানে দু’দলই পাবলিকভাবে কোনো হ্যান্ডশেক করেনি।
এশিয়া কাপের পরের সব টুর্নামেন্টে, পুরুষ ও মহিলা উভয় দলে, এই ‘নো হ্যান্ডশেক’ রীতি অব্যাহত রয়েছে। বিশেষ করে টি‑টোয়েন্টি বিশ্বকাপের ম্যাচগুলোতে এই আচরণ পুনরাবৃত্তি হয়েছে, যেখানে সূর্যকুমার যাদব ও সালমান আলি আগা দুজনেই একে অপরের সঙ্গে হাত না মিলিয়েছেন।
ইংল্যান্ডের সাবেক অধিনায়ক অ্যালিস্টার কুক, মাইকেল ভন, ডেভিড লয়েড এবং ফিল টাফনেল একসাথে ‘স্টিক টু ক্রিকেট’ পডকাস্টে বর্তমান টি‑টোয়েন্টি বিশ্বকাপের বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা করেন। আলোচনার সময় পাকিস্তান-ভারত ম্যাচের বিষয় উঠে আসে।
ফিল টাফনেল মন্তব্য করেন, “ভারত বিপক্ষে পাকিস্তান ঠিকমতো মেলে না, তাই না?” এই কথায় তিনি দুই দেশের মধ্যে চলমান প্রতিদ্বন্দ্বিতার তীব্রতা তুলে ধরেছেন।
মাইকেল ভন যোগ করেন, “ক্রিকেটের মাঠে নামলেই পাকিস্তানকে মনে হয় তারা ভারতকে দেখেই ভয় পায়।” তার বক্তব্যে দুই দলের মধ্যে মানসিক দৃষ্টিভঙ্গি প্রকাশ পেয়েছে।
অ্যালিস্টার কুকের মন্তব্যে উল্লেখ করা হয়, “তারা কি দরজার আড়ালেও কথা বলে না? আমি কোথাও পড়েছি যে, তারা আড়ালে ঠিকই কথা বলে।” এই মন্তব্যে দুই দলের মধ্যে যোগাযোগের অভাবের ইঙ্গিত পাওয়া যায়।
এই প্রেক্ষাপটে ১৫ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত টি‑টোয়েন্টি বিশ্বকাপের ম্যাচে ভারত ক্রিকেট দল ১৭৬ রানের লক্ষ্য স্থাপন করে। লক্ষ্যটি সফলভাবে অর্জন করে ভারত দল, যখন পাকিস্তান ক্রিকেট দল ১১৪ রানে আটকে যায়। ফলে ভারত ক্রিকেট দল জয়ী হয়ে রেকর্ডে যুক্ত হয়।
ম্যাচের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ভারত ১৭৬ রানের লক্ষ্য নির্ধারণের পর পাকিস্তানকে ৬২ রানের পার্থক্যে পরাজিত করে। দুই দলের খেলোয়াড়দের মধ্যে শারীরিক সংস্পর্শ না থাকলেও, মাঠে প্রতিদ্বন্দ্বিতা তীব্রভাবে বজায় থাকে।
এই ম্যাচের পরেও উভয় দল হ্যান্ডশেক না করার ঐতিহ্য বজায় রাখবে বলে আশা করা যায়, কারণ এই আচরণটি দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক ও ক্রীড়া প্রতিদ্বন্দ্বিতার প্রতিফলন হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
ভবিষ্যতে টি‑টোয়েন্টি বিশ্বকাপের অন্যান্য ম্যাচে এই দুই দলের মুখোমুখি হওয়া অব্যাহত থাকবে, যা ভক্তদের জন্য উত্তেজনা ও প্রত্যাশা বাড়িয়ে দেবে।



