দিল্লিতে অবস্থিত বাংলাদেশ হাই কমিশন শুক্রবার থেকে ভারতীয় নাগরিকদের জন্য সব ধরণের ভিসা সেবা পুনরায় চালু করেছে। দুই মাসের বেশি সময়ের বন্ধের পর এই পদক্ষেপটি নতুন বিএনপি নেতৃত্বাধীন সরকারের ক্ষমতায় আসার তৃতীয় দিনেই নেওয়া হয়। ভিসা আবেদন, ইলেকট্রনিক ভিসা এবং কনস্যুলার সহায়তা সবই সকাল থেকে উপলব্ধ।
কমিশন কর্তৃক প্রকাশিত বিবৃতিতে বলা হয়েছে, শুক্রবারের সকাল থেকে ভারতীয় ভ্রমণকারীদের জন্য ভিসা প্রক্রিয়া স্বাভাবিকভাবে পুনরায় শুরু হয়েছে। এই সেবার মধ্যে পর্যটন, ব্যবসা, শিক্ষার পাশাপাশি চিকিৎসা ভিসা অন্তর্ভুক্ত। ভারতীয় নাগরিকদের জন্য কোনো সীমাবদ্ধতা আর নেই এবং আবেদন প্রক্রিয়া পূর্বের মতোই দ্রুত সম্পন্ন হবে।
ভারতীয় দিক থেকে আগের দিনই জানানো হয়েছিল, বাংলাদেশী নাগরিকদের জন্য ভিসা সেবা শিগগিরই পুনরায় চালু করা হবে। সেই সময়ে ভারতীয় পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সব ধরণের ভিসা কার্যক্রমের পুনরায় সূচনা নিশ্চিত করে থাকে। এই পারস্পরিক সমন্বয় দুই দেশের কূটনৈতিক সম্পর্কের পুনরুদ্ধারের ইঙ্গিত দেয়।
ভিসা সেবার বন্ধের মূল কারণ ছিল ডিসেম্বর মাসে শ্রীফ ওসমান হাদির মৃত্যুর পর উত্থাপিত দ্বিপাক্ষিক উত্তেজনা। হাদির মৃত্যু সিঙ্গাপুরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ঘটার পর ঢাকা ও দিল্লি উভয়েই নিরাপত্তা উদ্বেগের কারণে ভিসা প্রক্রিয়া স্থগিত করে। এই পদক্ষেপটি দুই দেশের কূটনৈতিক সম্পর্ককে শূন্যে নামিয়ে দেয়।
ডিসেম্বরের শেষের দিকে ঢাকায় দুটি সংবাদপত্রের অফিস এবং ছায়ানট ভবনে সন্ত্রাসী হামলা ঘটে, একই রাতে চট্টগ্রামে ভারতীয় সহকারী হাই কমিশন কার্যালয়ের সামনে প্রতিবাদী দল বিক্ষোভ করে। ফলে চট্টগ্রামের ভারতীয় ভিসা আবেদন কেন্দ্র (আইভিএসি) ২১ ডিসেম্বর থেকে অস্থায়ীভাবে বন্ধ হয়ে যায়। প্রতিক্রিয়াস্বরূপ বাংলাদেশ দিল্লি ও আগরতলা মিশন থেকে ভিসা ও কনস্যুলার সেবা স্থগিত করার সিদ্ধান্ত নেয়।
বিএনপি দলকে বিশাল সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে নির্বাচনে জয়লাভের পর কূটনৈতিক সম্পর্কের হিমশীতলতা ধীরে ধীরে গলে যায়। নতুন সরকারের শপথ অনুষ্ঠানে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি তাড়াতাড়ি শুভেচ্ছা জানায় এবং পরবর্তী দিনে ফোনে নতুন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে আলাপ করে, যেখানে উভয় পক্ষই পারস্পরিক সমর্থন ও সহযোগিতার ইচ্ছা প্রকাশ করে।
মোদি শপথ অনুষ্ঠানে উপস্থিত হতে না পারলেও, ভারতের পারস্পরিক সম্পর্কের গুরুত্ব তুলে ধরে দিল্লি থেকে লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লা প্রতিনিধিত্বে অংশ নেন। এই উপস্থিতি দুই দেশের উচ্চ পর্যায়ের সংলাপকে আরও দৃঢ় করে এবং ভবিষ্যৎ সহযোগিতার ভিত্তি স্থাপন করে।
সিলেটের ভারতীয় সহকারী হাই কমিশনার অনিরুদ্ধ দাসের মতে, সব ধরণের ভারতীয় ভিসা প্রক্রিয়া শীঘ্রই স্বাভাবিক পর্যায়ে ফিরে আসবে। তার এই মন্তব্যের পরপরই দিল্লিতে ভিসা সেবা পুনরায় চালু হওয়া, কূটনৈতিক উত্তেজনা হ্রাসের স্পষ্ট চিহ্ন হিসেবে দেখা যায়।
ভিসা সেবার পুনরায় সূচনা উভয় দেশের ব্যবসা, পর্যটন এবং মানবিক আদান-প্রদানকে ত্বরান্বিত করবে বলে আশা করা হচ্ছে। বিশ্লেষকরা উল্লেখ করছেন, এই পদক্ষেপটি কূটনৈতিক সম্পর্কের স্থিতিশীলতা বাড়াবে এবং ভবিষ্যতে আরও উচ্চ পর্যায়ের আলোচনার দরজা খুলে দেবে। পরবর্তী সময়ে কনস্যুলার সেবা ও দ্বিপাক্ষিক চুক্তির পর্যালোচনা করা হতে পারে, যা দুই দেশের দীর্ঘমেয়াদী সহযোগিতার ভিত্তি শক্তিশালী করবে।



