টি‑২০ বিশ্বকাপের গ্রুপ পর্যায়ে জিম্বাবুয়ে জাতীয় ক্রিকেট দলকে অগ্রগতি করাতে ব্রায়ান বেনেটের অবদান নজরে এসেছে। আইসল্যান্ডের এক্স‑হ্যান্ডল তার পারফরম্যান্সকে “বিশ্বের সবচেয়ে কম মূল্যায়িত তরুণ ক্রিকেটার” বলে প্রশংসা করে, তার উড়ন্ত ফর্মের উল্লেখ করে। এই মন্তব্যগুলো টুর্নামেন্টের দ্বিতীয় ম্যাচের পর প্রকাশিত হয়।
আইসল্যান্ডের এক্স‑হ্যান্ডল রশিদ খান ৭০০ উইকেটের মাইলফলক ছুঁড়ে যাওয়ার পর টি‑২০ বিশ্বকাপে তার সাফল্যকে স্বীকৃতি দিয়ে একটি পোস্ট লিখেছিলেন। একই ধারা বজায় রেখে, তিনি বেনেটের পারফরম্যান্সকে “উড়তে পারে, ব্যাটিংও করতে পারে” বলে তুলে ধরেন। পোস্টটি টুর্নামেন্টের মিডিয়া দিগন্তে দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে।
শ্রীলঙ্কা ৬ উইকেটের পার্থক্যে জিম্বাবুয়ে জাতীয় ক্রিকেট দলকে পরাজিত করার পর, বেনেটের অআউট ৪৮ রান ৬৩ বলের ওপরের পারফরম্যান্স দলকে লক্ষ্য অর্জনে সহায়তা করে। তার স্থিতিশীলতা এবং দ্রুত স্কোরিং ক্ষমতা ম্যাচের সমাপ্তি নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে, ফলে শ্রীলঙ্কা দলকে বড় পার্থক্যে হারাতে বাধ্য করে।
গ্রুপ পর্যায়ে ওমানের বিরুদ্ধে খেলা চলাকালে বেনেটের আরেকটি স্মরণীয় মুহূর্ত দেখা যায়। সীমানা থেকে দৌড়ে গিয়ে তিনি উড়ন্ত অবস্থায় একটি ক্যাচ নেন, যা মাঠে দর্শকদের চমকে দেয়। এই চমকপ্রদ ফিল্ডিং মুহূর্ত তাকে “উড়ন্ত” শব্দের সঙ্গে যুক্ত করে, যা আইসল্যান্ডের এক্স‑হ্যান্ডলের পোস্টে পুনরায় উল্লেখিত হয়।
ব্রায়ান বেনেটের এখন পর্যন্ত কোনো ব্যাটসম্যান তাকে আউট করতে পারেনি, ফলে তিনটি ম্যাচে তিনি অআউট রয়ে গেছেন। এই ধারাবাহিকতা তাকে টি‑২০ বিশ্বকাপের ইতিহাসে অদ্বিতীয় করে তুলেছে, যেখানে তার গড় স্কোর অনন্তের কাছাকাছি। তার অআউট রেকর্ড তাকে শীর্ষ দশ রান সংগ্রাহকদের মধ্যে একটি বিশেষ অবস্থানে রাখে।
বিশ্লেষণ অনুযায়ী, বেনেটের গড় স্কোর শীর্ষ দশ ব্যাটসম্যানের তালিকায় ষষ্ঠ স্থানে রয়েছে, যা তার অদম্য ফর্মের প্রমাণ। যদিও তার মোট রান শীর্ষ পাঁচে নেই, তবে অআউট গড়ের দিক থেকে তার অবস্থান অনন্য। এই পরিসংখ্যান তাকে টুর্নামেন্টের অন্যতম অপ্রত্যাশিত তারকা করে তুলেছে।
ব্রায়ান বেনেটের জন্ম জিম্বাবুয়ের রাজধানী হারারের প্রায় ৩২ কিলোমিটার দূরের গোরোমাঞ্জি অঞ্চলে। তার শৈশবের বেশিরভাগ সময় পরিবারিক নেটের পাশে কাটে, যেখানে তিনি এবং তার ভাইজনেরা প্রথম ক্রিকেটের সঙ্গে পরিচিত হয়।
তিন ভাইয়ের মধ্যে বেনেট সবচেয়ে বড়, এবং তিনি প্রায় তিন-চার বছর বয়সে প্রথম ব্যাট হাতে নেন। তার যমজ ভাই ডেভিড এবং ছোট ভাই শনও সঙ্গে ক্রিকেটের অনুশীলন করত। বাবা কেলি বেনেটের তৈরি নেটের কারণে তাদের প্রশিক্ষণ সময় বাড়ে, ফলে তারা স্কুলের পরে অধিকাংশ সময় নেটেই কাটাত।
কেলি বেনেট, ব্রায়ানের বাবা, জিম্বাবুয়ে জাতীয় ক্রিকেট দলের ক্লাব স্তরে খেলেছেন। তিনি ইয়াং ম্যাশোনাল্যান্ড ক্লাবের হয়ে বেশ কয়েকটি প্রথম শ্রেণির ম্যাচে অংশ নেন এবং ডেভ হটন, হিথ স্ট্রিক ও ফ্লাওয়ার ভাইদের সঙ্গে মাঠে মিলিত হয়েছেন। তার ক্রিকেটের প্রতি উত্সাহই পরিবারকে নেট তৈরি করে দেয়ার প্রধান কারণ ছিল।
টুর্নামেন্টের পরবর্তী ম্যাচে জিম্বাবুয়ে জাতীয় ক্রিকেট দলকে অস্ট্রেলিয়া ও ইংল্যান্ডের সঙ্গে মুখোমুখি হতে হবে। বেনেটের ধারাবাহিক অআউট পারফরম্যান্স দলকে এই শক্তিশালী প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে আত্মবিশ্বাস জোগাবে বলে আশা করা হচ্ছে। কোচ টিমের কৌশলগত পরিকল্পনায় বেনেটের স্থিতিশীলতা একটি গুরুত্বপূর্ণ উপাদান হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
টিএস২০ বিশ্বকাপের এই পর্যায়ে বেনেটের উড়ন্ত ফিল্ডিং এবং অআউট ব্যাটিং পারফরম্যান্স তাকে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের আলোচনায় নিয়ে এসেছে। তার ভবিষ্যৎ ম্যাচে কীভাবে অবদান রাখবে তা শীঘ্রই স্পষ্ট হবে, তবে এখন পর্যন্ত তার রেকর্ড ইতিমধ্যে টুর্নামেন্টের ইতিহাসে একটি বিশেষ স্থান দখল করেছে।



