দশমিনায় উপজেলা ছাত্রঅধিকার পরিষদের দপ্তরে গত রাতের আক্রমণ এবং ছাত্রদল নেতার গ্রেপ্তারী পরোয়ানা কার্যকর করার সময় সংঘটিত ঘটনা স্থানীয় আইন প্রয়োগকারী সংস্থার নজরে এসেছে। গ্রেপ্তারী পরোয়ানা ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২২ তারিখে আদালত রাকিবুল ইসলাম (ছাত্রদল নেতা) এর বিরুদ্ধে জারি করেছিল; পরের দিনই পুলিশ তাকে গ্রেপ্তার করার প্রচেষ্টা চালায়। তবে একই সময়ে ছাত্রঅধিকার পরিষদের দপ্তর সম্পাদক হাসান মাহামুদের ওপর অনুসারী গোষ্ঠীর আক্রমণ ঘটে, যার ফলে তিনি আহত হয়ে শের‑ই‑বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি হন।
হাসান মাহামুদের অফিসে প্রবেশের সময় কয়েকজন অপরিচিত ব্যক্তি হিংসাত্মকভাবে প্রবেশ করে, তাকে গুলি না করে শারীরিক আক্রমণ করে। আঘাতের গুরুতরতা নিয়ে চিকিৎসা শুরুর পর তিনি হাসপাতালে পর্যবেক্ষণে রয়েছেন এবং চিকিৎসকের নির্দেশে পর্যাপ্ত বিশ্রাম নিচ্ছেন। আহত অবস্থায় থাকা সত্ত্বেও, স্থানীয় ছাত্রদল আহ্বায়ক আবুল বশারকে একাধিকবার ফোন করা হলেও তিনি কোনো উত্তর দেননি, যা ঘটনাস্থলের পরিস্থিতি আরও জটিল করে তুলেছে।
একই রাতে উপজেলা গণঅধিকারের সদস্যসচিব মিলন মিয়ার ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে। অনুসারী গোষ্ঠী ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের জানালার কাচ ভেঙে দেয় এবং সামগ্রী নষ্ট করে, ফলে মালিক ও কর্মচারীরা শারীরিক ক্ষতি এবং সম্পত্তি ক্ষতির শিকার হন। স্থানীয় পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে দ্রুত পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে, তবে ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের পুনরুদ্ধার এখনো চলমান।
দশমিনায় থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মনিরুল ইসলাম জানান, গ্রেপ্তারী পরোয়ানা জারির পর রাকিবুল ইসলামের গ্রেপ্তার করার সময় উপজেলা ছাত্রদল আহ্বায়ক আবুল বশার ও তার অনুসারীরা বাধা দিয়ে তাকে থানা থেকে সরিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করেন। এই সময়ে পরিস্থিতি উত্তেজনাপূর্ণ হয়ে ওঠে, ফলে তিনি তার ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাকে অবহিত করেন এবং অতিরিক্ত পুলিশ বাহিনী পাঠানোর নির্দেশ দেন।
অতিরিক্ত পুলিশ দল পৌঁছানোর পর পরিস্থিতি শীতল হয় এবং রাকিবুল ইসলামকে গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তারকৃত ব্যক্তিকে থানায় নিয়ে গিয়ে প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হয়। গ্রেপ্তারী পরোয়ানা অনুযায়ী তাকে আদালতে হাজির করা হবে এবং সংশ্লিষ্ট মামলার তদন্ত অব্যাহত থাকবে।
মন্তব্যে উল্লেখ করা হয়েছে যে, রাকিবুল ইসলামের বিরুদ্ধে আদালত গত বছর ২৮ সেপ্টেম্বর গ্রেপ্তারী পরোয়ানা জারি করেছিল; সেই পরোয়ানা অনুসারে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। পুলিশ জানায়, গ্রেপ্তারকৃত ব্যক্তির বিরুদ্ধে অপরাধ সংক্রান্ত প্রমাণ সংগ্রহের কাজ ইতিমধ্যে চলছে এবং সংশ্লিষ্ট আইনি প্রক্রিয়া দ্রুত সম্পন্ন করার জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
হাসান মাহামুদের চিকিৎসা অবস্থা বর্তমানে স্থিতিশীল, তবে তিনি এখনও শের‑ই‑বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের তীব্র সেবার অধীনে আছেন। চিকিৎসা সংক্রান্ত আপডেট অনুযায়ী, তার আঘাতের কারণে দীর্ঘমেয়াদী বিশ্রাম প্রয়োজন এবং তিনি শীঘ্রই বাড়ি ফেরার সম্ভাবনা রয়েছে।
দশমিনায় ছাত্রদল ও সংশ্লিষ্ট সংগঠনগুলোর মধ্যে উত্তেজনা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে স্থানীয় প্রশাসন পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে অতিরিক্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে। পুলিশ দপ্তর জানিয়েছে যে, ভবিষ্যতে এমন ধরনের হিংসাত্মক ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধে পর্যাপ্ত নিরাপত্তা রক্ষাকারী দল মোতায়েন করা হবে এবং আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে দায়ী ব্যক্তিদের শাস্তি নিশ্চিত করা হবে।
এই ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে, স্থানীয় আইন প্রয়োগকারী সংস্থা এবং আদালত উভয়ই বিষয়টি তদন্তের অধীনে রেখেছে। সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোকে আইনের আওতায় যথাযথ শাস্তি দেওয়া হবে এবং ঘটনার সম্পূর্ণ সত্য উদঘাটনের জন্য প্রয়োজনীয় সব প্রমাণ সংগ্রহ করা হবে।
অবশেষে, স্থানীয় জনগণ এবং ছাত্র সংগঠনগুলোকে শান্তি বজায় রাখতে এবং আইনি প্রক্রিয়ার প্রতি সম্মান প্রদর্শন করতে আহ্বান জানানো হয়েছে। ঘটনাস্থলে উপস্থিত সকলের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং আইনের শাসন বজায় রাখা এখনই প্রধান অগ্রাধিকার।



