বাংলাদেশের এনার্জি ও মিনারেল রিসোর্সেস ডিভিশন আজ প্রকাশিত নোটিফিকেশনের মাধ্যমে জানিয়েছে, রমজান মাসে সিএনজি রিফুয়েলিং স্টেশনের কার্যক্রমের সময়সূচি পরিবর্তন করা হয়েছে। নতুন নির্দেশনা অনুযায়ী, ৩ মার্চ থেকে ১৪ মার্চ পর্যন্ত প্রতিদিন বিকেল ৩টা থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত স্টেশনগুলো বন্ধ থাকবে। এই ব্যবস্থা রমজানের ইফতার সময়ে বিদ্যুৎ খাতে গ্যাস সরবরাহের ধারাবাহিকতা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে নেওয়া হয়েছে।
নোটিফিকেশনে স্পষ্ট করা হয়েছে, পরিবর্তিত সময়সূচি সকল সিএনজি স্টেশনের জন্য সমানভাবে প্রযোজ্য, ফলে দেশের কোনো অঞ্চলে ব্যতিক্রম থাকবে না। পূর্বে স্টেশনগুলো সন্ধ্যা ৬টা থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত বন্ধ থাকত, যা এখন তিন ঘণ্টা বাড়িয়ে ছয় ঘণ্টা করা হয়েছে। এই সময়সীমা বাড়িয়ে গ্যাসের চাহিদা ও সরবরাহের ভারসাম্য রক্ষা করা হবে বলে সরকার দাবি করেছে।
গ্যাস বিতরণ নেটওয়ার্কে নিম্নচাপের সমস্যা এবং রমজান মাসে বিদ্যুৎ উৎপাদনে গ্যাসের চাহিদা বৃদ্ধির প্রেক্ষাপটে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। বিশেষ করে ইফতার সময়ে বাড়ি-ঘরে বিদ্যুৎ ব্যবহার বাড়ে, ফলে বিদ্যুৎ সংস্থাগুলো অতিরিক্ত গ্যাস চাহিদা জানায়। তাই স্টেশনগুলোকে দীর্ঘ সময় বন্ধ রেখে গ্যাসের চাপ স্থিতিশীল রাখা এবং বিদ্যুৎ উৎপাদনে কোনো ঘাটতি না হওয়া নিশ্চিত করা হচ্ছে।
এই পরিবর্তনের পাশাপাশি, সরকার ঈদ‑উল‑ফিতরের পূর্বে রাস্তায় গ্যাসের সরবরাহে কোনো বাধা না থাকে তা নিশ্চিত করতে ১৫ মার্চ থেকে ২৫ মার্চ পর্যন্ত সকল রিফুয়েলিং স্টেশনকে ২৪ ঘণ্টা খোলা রাখবে। এই সময়ে স্টেশনগুলো রাতের কোনো সময় বন্ধ হবে না, ফলে দীর্ঘ যাত্রা করা যাত্রী এবং ট্রাক চালকদের গ্যাসের সহজলভ্যতা নিশ্চিত হবে। সরকার এই ব্যবস্থা ঈদ-উল-ফিতরের আগের সপ্তাহে রাস্তায় গতি বজায় রাখতে এবং যাতায়াতের সময় গ্যাসের ঘাটতি না ঘটাতে চায়।
২৪ ঘণ্টা খোলার সময়সূচি শেষ হয়ে ২৬ মার্চ থেকে স্টেশনগুলো আবার পূর্বের সময়সূচিতে ফিরে যাবে, অর্থাৎ সন্ধ্যা ৬টা থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত বন্ধ থাকবে। এই পুনরায় প্রয়োগিত সময়সূচি নোটিফিকেশনে উল্লেখ করা হয়েছে, যাতে রমজান শেষে গ্যাসের চাহিদা স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরে আসে। ফলে রমজান শেষ হওয়ার পর গ্যাসের সরবরাহ ও চাহিদার ভারসাম্য পুনরায় স্থাপন করা সম্ভব হবে।
এনার্জি ও মিনারেল রিসোর্সেস ডিভিশনের এই সিদ্ধান্তের পেছনে গ্যাস নেটওয়ার্কের চাপ নিয়ন্ত্রণ এবং বিদ্যুৎ খাতে গ্যাসের সুষ্ঠু প্রবাহ নিশ্চিত করা প্রধান লক্ষ্য। সরকার উল্লেখ করেছে, গ্যাসের নিম্নচাপ সমস্যার সমাধান না হলে বিদ্যুৎ ঘাটতি দেখা দিতে পারে, যা রমজানের বিশেষ সময়ে বিশেষভাবে ক্ষতিকর হতে পারে। তাই স্টেশন বন্ধের সময় বাড়িয়ে গ্যাসের চাপ স্থিতিশীল রাখা একটি প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হয়েছে।
গ্যাস স্টেশন বন্ধের সময় বাড়ার ফলে রাস্তায় গ্যাসের সরবরাহে সাময়িক সীমাবদ্ধতা দেখা দিতে পারে, তবে সরকার আশ্বাস দিয়েছে যে এই সময়ে গ্যাসের সঞ্চয় যথেষ্ট থাকবে এবং জরুরি সেবা গুলোর জন্য কোনো প্রভাব পড়বে না। স্টেশনগুলো বন্ধ থাকলেও গ্যাসের ট্যাঙ্কে যথেষ্ট পরিমাণ গ্যাস থাকবে, যাতে বিদ্যুৎ কেন্দ্রগুলোকে প্রয়োজনীয় গ্যাস সরবরাহ করা যায়।
ঈদ-উল-ফিতরের আগে ২৪ ঘণ্টা খোলার ব্যবস্থা রোড ট্র্যাফিকের স্বচ্ছলতা বজায় রাখতে এবং যাত্রীদের গ্যাসের অভাবে ভোগা থেকে রক্ষা করতে লক্ষ্য করা হয়েছে। বিশেষ করে দীর্ঘ দূরত্বের যাত্রা করা ট্রাক চালক এবং বাস ভ্রমণকারী যাত্রীদের জন্য এই সময়ে গ্যাসের সহজলভ্যতা গুরুত্বপূর্ণ। সরকার এই সময়ে গ্যাস স্টেশনগুলোকে পূর্ণ কার্যকরী রাখবে বলে জানিয়েছে।
নোটিফিকেশনে উল্লেখ করা হয়েছে, গ্যাসের চাহিদা ও সরবরাহের পর্যবেক্ষণ চলমান থাকবে এবং প্রয়োজনে অতিরিক্ত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এনার্জি ও মিনারেল রিসোর্সেস ডিভিশন গ্যাস নেটওয়ার্কের চাপ নিয়মিত মনিটর করবে এবং প্রয়োজনীয় সমন্বয় করবে। এই পর্যবেক্ষণ ব্যবস্থা গ্যাসের সরবরাহে কোনো অপ্রত্যাশিত ব্যাঘাত না ঘটাতে সহায়তা করবে।
গ্যাস স্টেশন বন্ধের সময় বাড়ানোর ফলে রমজান মাসে বিদ্যুৎ উৎপাদনে গ্যাসের ধারাবাহিক সরবরাহ নিশ্চিত হবে, যা ইফতার সময় বাড়ি-ঘরে আলো ও গৃহস্থালির যন্ত্রপাতি চালু রাখতে অপরিহার্য। সরকার এই সিদ্ধান্তকে রমজানের ধর্মীয় চাহিদা ও জাতীয় শক্তি নিরাপত্তার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ বলে বিবেচনা করেছে।
এই নীতি পরিবর্তন দেশের গ্যাস নীতি ও শক্তি নিরাপত্তা কৌশলের অংশ হিসেবে দেখা হচ্ছে, যেখানে সরকার গ্যাসের চাহিদা ও সরবরাহের ভারসাম্য রক্ষার জন্য সময়সূচি সমন্বয় করে। রমজান ও ঈদ-উল-ফিতরের সময় গ্যাসের সরবরাহে কোনো বাধা না থাকে তা নিশ্চিত করা সরকারের অগ্রাধিকার।
সারসংক্ষেপে, রমজান মাসে সিএনজি স্টেশনের বন্ধের সময় ৩টা থেকে ৯টা পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছে, ১৫-২৫ মার্চ পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টা খোলা থাকবে, এবং ২৬ মার্চ থেকে আবার সন্ধ্যা ৬টা থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত বন্ধ হবে। এই ব্যবস্থা গ্যাসের চাপ নিয়ন্ত্রণ, বিদ্যুৎ উৎপাদন ও রোড ট্র্যাফিকের স্বচ্ছলতা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে নেওয়া হয়েছে।



