চাঁপাইনবাবগঞ্জে রমজানের প্রথম দিন, জেলা বিএনপি শাখা এক টাকার ইফতার স্টল স্থাপন করে, যেখানে নিম্ন আয়ের পরিবারগুলোকে কলা, খেজুর, বেগুনি, পেঁয়াজ, জিলাপি, শসা‑গাজরসহ মোট ১২ থেকে ১৫ প্রকারের খাবার সরবরাহ করা হয়। স্টলটি শহরের সরকারি কলেজের প্রধান ফটকের সামনে বসানো হয় এবং বিকেলবেলা থেকে রমজানের সূচনার সাথে সাথে গৃহীত হয়।
স্টলের সামনে সরেজমিনে দীর্ঘ লাইন গড়ে ওঠে; অধিকাংশই দরিদ্র ও খেটে খাওয়া মানুষ, যারা এক টাকার মূল্যে ইফতার নিতে অপেক্ষা করছে। উপস্থিতদের মধ্যে রিকশা চালক, ছোট দোকানের মালিক এবং দৈনন্দিন জীবনের সংগ্রামরত শ্রমিকরা অন্তর্ভুক্ত।
মাস্টারপাড়া এলাকার রিকশা চালক আতিকুর রহমান বলেন, “সারা দিন রিকশা চালিয়ে ২০০ টাকার বেশি উপার্জন করা যায় না, তাই এক টাকায় ইফতার পেয়ে খুবই স্বস্তি বোধ করছি।” তিনি আরও যোগ করেন, “এক টাকায় অন্তত পনেরো রকমের খাবার পেয়েছি, যা আগে কখনো সম্ভব ছিল না।” তার কথায় রমজান মাসে দরিদ্রদের জন্য সাশ্রয়ী খাবারের প্রয়োজনীয়তা স্পষ্ট হয়ে ওঠে।
বিএনপি জেলা শাখার সদস্য সচিব রফিকুল ইসলাম জানান, “সমাজের ছিন্নমূল ও নিম্ন আয়ের মানুষ যেন স্বাচ্ছন্দ্যে ইফতার করতে পারে, এটাই আমাদের মূল লক্ষ্য।” তিনি উল্লেখ করেন, গত বছরও একই সময়ে প্রথম রোজা থেকে শেষ রোজা পর্যন্ত এক টাকার ইফতার বিতরণ করা হয়েছিল, এবং এই বছরও পুরো মাস জুড়ে একই ধরণের ব্যবস্থা চালিয়ে যাওয়া হবে।
এই উদ্যোগে উপস্থিত ছিলেন জেলা সেচ্ছাসেবক দলের সহসভাপতি আতিক হাসান মুক্তা, যুগ্ম আহ্বায়ক সোহেল রানা, এবং পৌর বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক গোলাম কিবরিয়াসহ অন্যান্য স্থানীয় নেতারা। তাদের উপস্থিতি স্টলের কার্যক্রমকে সমর্থন ও তদারকি করার উদ্দেশ্যে ছিল।
বিএনপি এই ধরনের সামাজিক কাজকে রমজান মাসে দরিদ্র জনগণের সহায়তা বাড়ানোর একটি উপায় হিসেবে ব্যবহার করে। স্টলটি সরাসরি সরকারি কলেজের প্রধান ফটকের সামনে স্থাপিত হওয়ায় সহজে প্রবেশযোগ্যতা নিশ্চিত করা হয়েছে, ফলে অধিকাংশ দরিদ্র পরিবারই এই সুবিধা গ্রহণ করতে পারছে।
স্টল থেকে বিতরণকৃত খাবারের তালিকায় কলা, খেজুর, বেগুনি, পেঁয়াজ, জিলাপি, শসা, গাজর এবং অন্যান্য মৌলিক পণ্য অন্তর্ভুক্ত, যা রোজা ভাঙার সময় প্রয়োজনীয় পুষ্টি সরবরাহ করে। এক টাকার মূল্যে এই পরিমাণের খাবার সরবরাহ করা স্থানীয় জনগণের মধ্যে ইতিবাচক প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করেছে।
বিএনপি জেলা শাখা উল্লেখ করেছে যে, রমজান মাসের পুরো সময়কালে এই ধরনের ইফতার স্টল চালু থাকবে এবং প্রয়োজন অনুযায়ী অতিরিক্ত আইটেম যুক্ত করা হবে। স্টলটি পরিচালনার জন্য স্বেচ্ছাসেবক দল ও স্থানীয় দাতাদের সমর্থন নেওয়া হয়েছে।
স্থানীয় মিডিয়া জানায়, এই উদ্যোগের মাধ্যমে দলটি রমজান মাসে দরিদ্রদের মৌলিক চাহিদা মেটাতে চায়, যা সামাজিক দায়িত্বের অংশ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। স্টলটি চালু হওয়ার পর থেকে ধারাবাহিকভাবে মানুষকে সেবা প্রদান করা হচ্ছে এবং পরবর্তী রোজা পর্যন্ত এই সেবা চালিয়ে যাওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।
এই ইফতার স্টল চালু হওয়ার ফলে চাঁপাইনবাবগঞ্জের দরিদ্র জনগণ রমজানের প্রথম দিন থেকেই সাশ্রয়ী মূল্যে ইফতার গ্রহণের সুযোগ পেয়েছে, যা তাদের আর্থিক চাপ কমাতে সহায়তা করবে। স্টলটি স্থানীয় সমাজে এক ধরনের সমবায় উদ্যোগের উদাহরণ হিসেবে দেখা হচ্ছে, যেখানে রাজনৈতিক সংগঠন ও স্বেচ্ছাসেবকরা মিলিত হয়ে দরিদ্রদের সহায়তা প্রদান করছে।
বিএনপি জেলা শাখা ভবিষ্যতে এই ধরনের সামাজিক প্রকল্পকে রমজান মাসের পাশাপাশি অন্যান্য ধর্মীয় ও সামাজিক অনুষ্ঠানে সম্প্রসারিত করার ইচ্ছা প্রকাশ করেছে, যাতে দরিদ্র ও অপ্রতুল জনগণের সহায়তা ধারাবাহিকভাবে বজায় থাকে।



