বাংলাদেশের সর্বজনীন নির্বাচনের নিরাপত্তা ও স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী ও প্রতিরক্ষা গোয়েন্দা সংস্থা (ডিজিএফআই) সমন্বিতভাবে কাজ করেছে। নির্বাচন কমিশনের তত্ত্বাবধানে ২৪ জুলাই‑আগস্টের মধ্যে অনুষ্ঠিত ভোটে উভয় সংস্থার ভূমিকা বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য।
প্রায় এক বছর ছয় মাসের সময়কালে “ইন অ্যাইড টু সিভিল পাওয়ার” শিরোনামে সেনাবাহিনী বেসামরিক প্রশাসনের সঙ্গে সহযোগিতা চালিয়ে গেছে। যদিও ম্যাজেস্ট্রেসি ক্ষমতা রয়েছে, সেনাবাহিনী সরাসরি সামরিক দায়িত্বে প্রবেশ না করে সহায়ক ভূমিকা বজায় রেখেছে।
নির্বাচনের সময় ভোটারদের মৌলিক অধিকার রক্ষা ও আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখতে সেনাবাহিনী সিভিল প্রশাসন ও অন্যান্য নিরাপত্তা বাহিনীর সঙ্গে সমন্বয় করে যৌথ টাস্ক ফোর্স গঠন করেছে। এই টাস্ক ফোর্সগুলো নির্বাচনী এলাকায় উপস্থিত থেকে অশান্তি ও হিংসা প্রতিরোধে তৎপর ছিল।
প্রতিরক্ষা গোয়েন্দা সংস্থা ডিজিএফআই এই নির্বাচনে তার নজরদারি ক্ষমতা বাড়িয়ে তুলেছে। ভোটকেন্দ্রের আশেপাশে গোপনীয় পর্যবেক্ষণ ইউনিট স্থাপন করে সম্ভাব্য হুমকি সনাক্ত ও দমন করা হয়েছে। বিশেষ করে প্রযুক্তিগত হস্তক্ষেপের সম্ভাবনা নিয়ে সংস্থা ব্যাপক প্রস্তুতি নিয়েছে।
ডিজিএফআই ভোটের আগে ও ভোটের সময়কালীন প্রযুক্তিগত বিশ্লেষণ চালিয়ে সম্ভাব্য সাইবার আক্রমণ ও তথ্য জালিয়াতি রোধে তৎপরতা দেখিয়েছে। এই কাজের জন্য সরকারী স্তরে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ পেয়েছিল, তবে নির্বাচন কমিশনও একই পর্যবেক্ষণ ব্যবস্থা গ্রহণের বিষয়টি জানত।
২৪ জুলাইয়ের পরে দেশের নিরাপত্তা পরিস্থিতি অস্থির হওয়ায় বাংলাদেশ সেনাবাহিনী সরাসরি মাঠে পদার্পণ করে দায়িত্ব গ্রহণ করে। সেনাবাহিনী ও ডিজিএফআই একত্রে গৃহীত কৌশলগুলো ভোটের স্বচ্ছতা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে মূল ভূমিকা পালন করেছে।
প্রযুক্তিগত সহায়তার ক্ষেত্রে ডিজিএফআই উচ্চ স্তরের গোপনীয়তা বজায় রেখে কাজ করেছে। প্রকাশ্য নিরাপত্তা ব্যবস্থা ছাড়াও তারা গোপনীয়ভাবে ডেটা এনক্রিপশন, নেটওয়ার্ক মনিটরিং ও রিয়েল‑টাইম বিশ্লেষণ চালিয়েছে। এই পদ্ধতি ভোটের ফলাফলে কোনো অননুমোদিত হস্তক্ষেপ না ঘটতে সহায়তা করেছে।
নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় কোনো ধরণের হিংসাত্মক প্রতিবাদ বা শোরগোলের রেকর্ড পাওয়া যায়নি। সেনাবাহিনীর উপস্থিতি ও ডিজিএফআইয়ের গোয়েন্দা তদারকি ভোটকেন্দ্রকে শান্তিপূর্ণ রাখে এবং ভোটারদের স্বাচ্ছন্দ্যপূর্ণভাবে ভোট দিতে সক্ষম করে।
প্রতিপক্ষ দলগুলোও নিরাপত্তা ব্যবস্থার কঠোরতা স্বীকার করেছে, তবে কিছু রাজনৈতিক বিশ্লেষক প্রযুক্তিগত পর্যবেক্ষণের অতিরিক্ততা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তারা উল্লেখ করেন যে ভবিষ্যতে এধরনের গোপনীয় তদারকি স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার সঙ্গে সঙ্গে নাগরিক গোপনীয়তার সুরক্ষার দিকেও মনোযোগ দিতে হবে।
বিশ্লেষকরা অনুমান করছেন যে এই ধরনের সমন্বিত নিরাপত্তা মডেল পরবর্তী নির্বাচনে পুনরায় গ্রহণ করা হতে পারে। সরকার ও নিরাপত্তা বাহিনীর মধ্যে সমন্বয় বৃদ্ধি পেলে নির্বাচন প্রক্রিয়ার প্রতি জনসাধারণের আস্থা বাড়বে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
বাংলাদেশ সরকার এইবারের নির্বাচনে নিরাপত্তা ও আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখতে যে পদক্ষেপগুলো গ্রহণ করেছে, তা দেশের রাজনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য ইতিবাচক সংকেত হিসেবে দেখা হচ্ছে। সেনাবাহিনী ও ডিজিএফআইয়ের সমন্বিত কাজের ফলে ভোটের ফলাফল স্বচ্ছভাবে গণনা করা সম্ভব হয়েছে।
ভবিষ্যতে নিরাপত্তা সংস্থাগুলোর ভূমিকা আরও বিস্তৃত হতে পারে, তবে তা নাগরিক অধিকার ও গোপনীয়তার সুরক্ষার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণভাবে পরিচালিত হওয়া জরুরি। বর্তমান নির্বাচন থেকে প্রাপ্ত অভিজ্ঞতা নিরাপত্তা নীতি ও নির্বাচন আইনের পর্যালোচনায় গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলবে।



