বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) বৃহস্পতিবার ২৮ সদস্যের পুরুষ জাতীয় চুক্তি তালিকা প্রকাশ করেছে, যার মধ্যে টেস্ট ওপেনার মাহমুদুল হাসান জয়কে কেন্দ্রীয় চুক্তি প্রদান করা হয়নি। তালিকাটি বেসামরিক ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে দলের মূল খেলোয়াড়দের বেতন কাঠামো নির্ধারণের উদ্দেশ্যে প্রকাশিত হয়েছে। এই ঘোষণার সঙ্গে সঙ্গে মিডিয়ায় বিসিবির সিদ্ধান্তের বিশদ বিশ্লেষণ শুরু হয়েছে।
বিসিবি কর্তৃক প্রকাশিত তালিকায় মোট ২৮ জন খেলোয়াড়কে চারটি বেতন স্তরে ভাগ করা হয়েছে। পূর্বে কিছু সূত্রে এ+ (A+) ক্যাটেগরি থাকবে বলে গুজব ছিল, তবে শেষ পর্যন্ত কোনো এ+ ক্যাটেগরি অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি। চারটি স্তরই বেতন ও সুবিধার দিক থেকে পার্থক্যযুক্ত, যেখানে সর্বোচ্চ স্তরে থাকা খেলোয়াড়রা সর্বোচ্চ মাসিক বেতন পায়। এই কাঠামোটি খেলোয়াড়দের পারফরম্যান্স ও দলের কৌশলগত প্রয়োজনীয়তার ভিত্তিতে নির্ধারিত হয়েছে।
বিসিবি স্পষ্ট করে জানিয়েছে যে এই বছর কোনো এ+ ক্যাটেগরি থাকবে না, ফলে সর্বোচ্চ বেতন স্তরটি গ্রেড A হিসেবে নির্ধারিত হয়েছে। গ্রেড A-তে অন্তর্ভুক্ত চারজন খেলোয়াড় হলেন নাজমুল হোসেন শান্তো, মেহেদি হাসান মিরাজ, লিটন কুমার দাস এবং তাসকিন আহমেদ। এই চারজনকে মাসিক BDT ৮,০০,০০০ বেতন প্রদান করা হবে, যা বর্তমান তালিকায় সর্বোচ্চ পারিশ্রমিক। তাদের পারফরম্যান্সকে ভিত্তি করে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে বোর্ডের পক্ষ থেকে উল্লেখ করা হয়েছে।
গ্রেড A-র পাশাপাশি অন্যান্য তিনটি বেতন স্তরও তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হয়েছে, যেখানে খেলোয়াড়দের বেতন ধাপে ধাপে কমে যায়। প্রতিটি স্তরে নির্ধারিত পারিশ্রমিকের পরিমাণ পূর্ববর্তী চুক্তি তালিকার তুলনায় সামান্য পরিবর্তন হয়েছে, যা খেলোয়াড়দের আর্থিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করার উদ্দেশ্যে করা হয়েছে। এই কাঠামোটি দলীয় সমন্বয় ও দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনার অংশ হিসেবে বিবেচিত।
মাহমুদুল হাসান জয়, যিনি টেস্ট ফরম্যাটে ওপেনার হিসেবে নিয়মিত দায়িত্ব পালন করে আসছেন, এই তালিকায় কেন্দ্রীয় চুক্তি পাননি। তার বাদ পড়া খেলোয়াড়দের মধ্যে সর্বোচ্চ বেতন স্তরে না থাকার প্রধান কারণ হিসেবে সাম্প্রতিক পারফরম্যান্সের মূল্যায়ন উল্লেখ করা হয়েছে। যদিও তিনি টেস্ট দলে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন, তবে এই বছরের চুক্তি তালিকায় তাকে গ্রেড A বা অন্য কোনো উচ্চ স্তরে অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি। ফলে তিনি মাসিক কেন্দ্রীয় চুক্তির বেতন থেকে বঞ্চিত থাকবেন।
কেন্দ্রীয় চুক্তি না পাওয়া খেলোয়াড়ের জন্য আর্থিক প্রভাব স্পষ্ট, কারণ চুক্তি না থাকলে মাসিক বেতন ও সংশ্লিষ্ট সুবিধা থেকে বঞ্চিত হতে হয়। মাহমুদুল হাসান জয়ের ক্ষেত্রে, তার বেতন এখনো ক্লাব ও অন্যান্য আয় উৎসের ওপর নির্ভরশীল থাকবে। বিসিবি এই সিদ্ধান্তের পেছনে পারফরম্যান্স ভিত্তিক মূল্যায়ন ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা উল্লেখ করেছে, যা দলের সামগ্রিক শক্তি বাড়ানোর লক্ষ্যে নেওয়া হয়েছে।
বাকি খেলোয়াড়দের জন্য নির্ধারিত বেতন স্তরগুলো নিম্ন স্তরে রয়েছে, যেখানে মাসিক পারিশ্রমিক গ্রেড A-র তুলনায় কম। এই স্তরগুলোতে অন্তর্ভুক্ত খেলোয়াড়দের নাম তালিকায় উল্লেখ আছে, তবে তাদের বেতন পরিমাণ গ্রেড A-র তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে কম। বিসিবি নিশ্চিত করেছে যে সব স্তরের চুক্তি একই সময়ে কার্যকর হবে এবং খেলোয়াড়দের পারফরম্যান্সের ভিত্তিতে ভবিষ্যতে পুনর্মূল্যায়ন করা হবে।
বিসিবি এই চুক্তি তালিকা প্রকাশের মাধ্যমে দেশের ক্রিকেটের পেশাদারীকরণে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ নিয়েছে। চারটি বেতন স্তরের মাধ্যমে খেলোয়াড়দের পারফরম্যান্সের সঙ্গে বেতনকে সামঞ্জস্য করা হয়েছে, যা দলের প্রতিযোগিতামূলক ক্ষমতা বাড়াতে সহায়ক হবে। ভবিষ্যতে তালিকায় পরিবর্তন আনা হলে তা আবার প্রকাশ করা হবে।



