30.9 C
Dhaka
Friday, February 20, 2026
Google search engine
Homeঅন্যান্যগাজীপুরে ভূগর্ভস্থ বিদ্যুৎ কেবলে অগ্নিকাণ্ড, কোনাবাড়িতে প্রায় নয় ঘণ্টা বিদ্যুৎ বন্ধ

গাজীপুরে ভূগর্ভস্থ বিদ্যুৎ কেবলে অগ্নিকাণ্ড, কোনাবাড়িতে প্রায় নয় ঘণ্টা বিদ্যুৎ বন্ধ

গাজীপুরের কোনা‑বাড়ি এলাকায় বৃহস্পতিবার রাত ৩:৩০ টার দিকে মাটির নিচে লুকিয়ে থাকা বিদ্যুৎ কেবলে অগ্নিকাণ্ড ঘটায়, ফলে প্রায় নয় ঘণ্টা পর্যন্ত বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ থাকে। ঘটনাটি কড্ডা গ্রিড উপকেন্দ্রের নিকটবর্তী সেতুর পাশে ঘটেছে এবং স্থানীয় বাসিন্দাদের দৈনন্দিন কাজকর্মে বড় ধরনের ব্যাঘাত সৃষ্টি করেছে।

অগ্নিকাণ্ডের সূত্রপাতের সময় কেবলের তাপমাত্রা হঠাৎ বাড়ে, ফলে ধোঁয়া ও শিখা ছড়িয়ে পড়ে। স্থানীয় ফায়ার স্টেশন দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে, তবে শিখা নিয়ন্ত্রণে আনতে কয়েক ঘণ্টা সময় লেগে যায়।

অগ্নিকাণ্ডের পরই পুরো কোনাবাড়ি এলাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহ অবিলম্বে বন্ধ হয়ে যায়। বাসিন্দারা অন্ধকারে রাত্রি কাটাতে বাধ্য হয় এবং ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানগুলোও কাজ বন্ধ করতে বাধ্য হয়।

শুক্রবার দুপুর ১২:৩০ টার দিকে কেবলের ক্ষতিগ্রস্ত অংশ মেরামতের কাজ শুরু হয়, তবে মেরামত সম্পন্ন না হওয়া পর্যন্ত বিদ্যুৎ পুনরায় চালু করা সম্ভব হয় না। গাজীপুর পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির সহ-প্রধান জসিম উদ্দিন জানান, মেরামত কাজ চলমান থাকায় সরবরাহ পুনরায় চালু করতে অতিরিক্ত সময় লাগবে।

ফায়ার স্টেশনের কর্মকর্তা সাইফুল ইসলাম জানান, ফায়ার ফাইটাররা শুক্রবার ভোর ৫:৩০ টায় অগ্নিকাণ্ড নিয়ন্ত্রণে আনতে সক্ষম হয়। তারা দ্রুতই শিখা নিভিয়ে নিরাপত্তা নিশ্চিত করেন।

গাজীপুর পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির সহ-প্রধান জসিম উদ্দিনের মতে, অগ্নিকাণ্ডের কারণ হতে পারে চোরের দল কেবলের তার কেটে নেওয়ার সময় শর্ট সার্কিট ঘটানো। কেবল কেটে নেওয়ার পর স্পার্ক তৈরি হয়ে অগ্নিকাণ্ডের সূত্রপাত হতে পারে, যা ভূগর্ভস্থ কেবলে বড় ক্ষতি করে।

কোনাবাড়ি পল্লী বিদ্যুৎ বিভাগের ডিপুটি জেনারেল ম্যানেজার শফিকুল ইসলাম জানান, ক্ষতিগ্রস্ত অংশের মেরামত কাজ বর্তমানে চলমান এবং বিদ্যুৎ পুনরায় চালু হতে কিছু সময় লাগবে। তিনি উল্লেখ করেন, গ্রাহকদের অসুবিধা কমাতে সংশ্লিষ্ট টিম রাতো রাত কাজ করছে এবং যত দ্রুত সম্ভব স্বাভাবিক সরবরাহ নিশ্চিত করার চেষ্টা করছে।

বৈদ্যুতিক সরবরাহের দীর্ঘ সময়ের বিচ্ছিন্নতা স্থানীয় ব্যবসা, স্কুল এবং স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্রে প্রভাব ফেলেছে। বাজারে বিক্রয় কমে গেছে, শিক্ষার্থীরা বাড়িতে পড়াশোনা করতে বাধ্য হয়েছে এবং স্বাস্থ্যকেন্দ্রের জরুরি যন্ত্রপাতি ব্যাকআপ জেনারেটরের ওপর নির্ভর করতে বাধ্য হয়েছে।

স্থানীয় প্রশাসন পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে দ্রুত পদক্ষেপ গ্রহণের কথা জানিয়েছে। গাজীপুরের পৌরসভা ও বিদ্যুৎ সংস্থার সমন্বয়ে জরুরি টিম গঠন করে, ক্ষতিগ্রস্ত কেবলের দ্রুত মেরামত এবং নিরাপদ পুনরায় চালু করার পরিকল্পনা করা হয়েছে।

এই ধরনের অপ্রত্যাশিত বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্নতা ভবিষ্যতে এড়াতে, স্থানীয় কর্তৃপক্ষ কেবলের নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ বাড়ানোর এবং চোরাচালান প্রতিরোধে অতিরিক্ত নজরদারি ব্যবস্থা গ্রহণের ইঙ্গিত দিয়েছে।

বসবাসকারী ও ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানগুলোকে অনুরোধ করা হচ্ছে, বিদ্যুৎ পুনরায় চালু না হওয়া পর্যন্ত অপ্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি বন্ধ রাখার মাধ্যমে লোড কমাতে এবং জরুরি পরিস্থিতিতে স্থানীয় তথ্য চ্যানেল থেকে আপডেট নিতে। এভাবে সাময়িক অসুবিধা কমিয়ে, দ্রুত স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরে আসা সম্ভব হবে।

৮৫/১০০ ১টি সোর্স থেকে যাচাইকৃত।
আমরা ছাড়াও প্রকাশ করেছে: বিডিনিউজ২৪
খবরিয়া প্রতিবেদক
খবরিয়া প্রতিবেদক
AI Powered by NewsForge (https://newsforge.news)
RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments