ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের কমিশনার শেখ মোহাম্মদ সাজ্জাত আলি আজ (২০ ফেব্রুয়ারি) শাহীদ মিনার সমাবেশে কোনো নিরাপত্তা হুমকি নেই বলে জানিয়েছেন। ভাষা শহীদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসের অনুষ্ঠানগুলোকে লক্ষ্য করে ব্যাপক নিরাপত্তা ব্যবস্থা গৃহীত হয়েছে। শহরের বিভিন্ন স্থানে নিরাপত্তা কর্মী ও বিশেষ ইউনিটের উপস্থিতি নিশ্চিত করা হয়েছে।
কমিশনারের মতে, “আমার একুশে উদযাপন রক্ষার জন্য সম্পূর্ণ প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে” এবং তিনি সাংবাদিকদের সামনে এই বক্তব্য পুনর্ব্যক্ত করেন। তিনি জোর দিয়ে বললেন, নিরাপত্তা সংক্রান্ত কোনো সতর্কতা পাওয়া যায়নি। তাই উদযাপনকালে জনসাধারণকে উদ্বিগ্ন হওয়ার প্রয়োজন নেই।
গত সপ্তাহে অনুষ্ঠিত ১৩তম জাতীয় সংসদীয় নির্বাচনে কোনো বিশৃঙ্খলা না ঘটায় নিরাপত্তা ব্যবস্থার কার্যকারিতা প্রমাণিত হয়েছে। ভোটাররা শান্তিপূর্ণ পরিবেশে ভোট দিয়েছেন এবং নির্বাচনকালীন নিরাপত্তা সংক্রান্ত কোনো অভিযোগ শোনা যায়নি। এই সফলতা আজকের নিরাপত্তা পরিকল্পনার ভিত্তি হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।
কমিশনার আবার জোর দিয়ে বললেন, ভাষা শহীদ দিবসের সময়েও কোনো নিরাপত্তা হুমকি শনাক্ত করা হয়নি। তিনি উল্লেখ করেন, “এমার একুশে উদযাপনকে রক্ষা করার জন্য আমরা সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বন করেছি, তবে বর্তমানে কোনো হুমকি নেই।”
বিশেষ নিরাপত্তা ইউনিটগুলোও প্রস্তুত অবস্থায় থাকবে। বিশেষ অস্ত্র ও কৌশল (SWAT) দল, কুকুর দল, বোমা নিষ্কাশন ইউনিট এবং অপরাধ দৃশ্য তদন্তকারী দল নিয়মিত প্যাট্রোল চালাবে। এই ইউনিটগুলো সাধারণ পুলিশ কর্মীর সঙ্গে সমন্বয় করে জরুরি পরিস্থিতিতে দ্রুত পদক্ষেপ নেবে।
ইন্টেলিজেন্স নজরদারি এবং সাইবার পর্যবেক্ষণও তীব্রতর করা হয়েছে। তথ্য সংগ্রহ ও বিশ্লেষণের মাধ্যমে সম্ভাব্য হুমকি পূর্বেই চিহ্নিত করার ব্যবস্থা গৃহীত হয়েছে। সাইবার নিরাপত্তা দল অনলাইন প্ল্যাটফর্মে সন্দেহজনক কার্যকলাপের তদারকি করবে।
শাহীদ মিনার কেন্দ্রীয় অংশটি প্রায় ১২ঃ৪০ টায় জনসাধারণের জন্য উন্মুক্ত হবে, যার আগে রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী এবং অন্যান্য উচ্চপদস্থ রাষ্ট্রদূতগণ তাদের শ্রদ্ধা নিবেদন করবেন। এই সময়সূচি অনুযায়ী সকল উপস্থিতি ব্যক্তিরা নির্ধারিত সময়ে প্রবেশের প্রস্তুতি নেবে।
জনসাধারণকে নির্দিষ্ট পথ অনুসরণ করতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। পলাশি চৌরাস্তা ও জগন্নাথ হল পারাপারের মাধ্যমে শাহীদ মিনারে প্রবেশের অনুমতি থাকবে, অন্য কোনো পথ ব্যবহার করা যাবে না। নিরাপত্তা ও শৃঙ্খলা রক্ষার জন্য এই নির্দেশনা কঠোরভাবে পালন করা আবশ্যক।
শাহীদ মিনার থেকে বের হওয়ার সময় দুইটি বিকল্প পথ প্রদান করা হয়েছে। রামনা চৌরাস্তা দিয়ে দোয়েল চত্বরের দিকে অথবা চাঁখারপুলের মাধ্যমে বেরিয়ে যাওয়া যাবে। দর্শনার্থীরা সম্মানসূচক অনুষ্ঠান সম্পন্ন করার পর এই নির্ধারিত রুটে বের হতে পারবেন।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন প্রবেশদ্বারে ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণের জন্য বিকল্প রুটের ব্যবস্থা করা হয়েছে। গাড়ি ও পায়ে চলা ভিড়ের সুষ্ঠু প্রবাহ নিশ্চিত করতে কিছু প্রবেশপথে অস্থায়ী বন্ধ ও পরিবর্তন করা হবে। এই ব্যবস্থা ট্রাফিক জ্যাম কমিয়ে নিরাপত্তা বজায় রাখতে সহায়তা করবে।
সম্পূর্ণ নিরাপত্তা কাঠামোটি স্তরভিত্তিক পদ্ধতিতে গড়ে তোলা হয়েছে, যেখানে মানবিক পর্যবেক্ষণ, প্রযুক্তিগত সরঞ্জাম এবং বিশেষ ইউনিটের সমন্বয় রয়েছে। জনসাধারণের সহযোগিতা এবং শৃঙ্খলা বজায় রাখার ইচ্ছা এই পরিকল্পনার সফলতার মূল চাবিকাঠি। সকল অংশগ্রহণকারীকে নির্দেশনা মেনে চলতে আহ্বান জানানো হয়েছে।
এই প্রস্তুতি ও সতর্কতা ব্যবস্থা একত্রে নিশ্চিত করবে যে ভাষা শহীদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসের অনুষ্ঠানগুলো শান্তিপূর্ণ, সুশৃঙ্খল এবং নিরাপদ পরিবেশে অনুষ্ঠিত হবে।



