মিসরের উত্তর‑পূর্বাঞ্চলীয় পোর্ট সাঈদ প্রদেশে বৃহস্পতিবার (১৯ ফেব্রুয়ারি) দুপুর ১২টা ৩০ মিনিটের কাছাকাছি একটি মারাত্মক সড়ক দুর্ঘটনা ঘটেছে। ৩০ জুন অ্যাক্সিস মহাসড়কের দক্ষিণে দ্রুতগামী একটি পণ্যবাহী ট্রাক এবং যাত্রীবাহী পিকআপ ভ্যানের মধ্যে ধাক্কা লেগে অন্তত আঠারো জনের প্রাণ নেওয়া হয়েছে। মৃতদের অধিকাংশই জেলে কাজ করা মৎস্যকর্মী, যারা উপকূলীয় মাছের খামারে কাজের উদ্দেশ্যে যাত্রা করছিলেন।
দুর্ঘটনার পরে现场ে দুইটি বড় কার্গো ট্রাকের মাঝে পিকআপ ভ্যানটি আটকে থাকা দেখা যায়। ভ্যানটি গাড়ির মাঝখানে চেপে গিয়ে সম্পূর্ণ ধ্বংসের কাছাকাছি পৌঁছায়, আর ধ্বংসাবশেষ পুরো মহাসড়কে ছড়িয়ে পড়ে। স্থানীয় সময়ে ঘটনাস্থলে তৎক্ষণাৎ উদ্ধারকর্মীরা পৌঁছে আহতদের তৎক্ষণাৎ চিকিৎসার জন্য নিকটস্থ হাসপাতালে ভর্তি করে।
প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, এই সংঘর্ষে আরও কমপক্ষে তিনজন গুরুতরভাবে আহত হয়েছে। আহতদের অবস্থা স্থিতিশীল রাখা হয়েছে, তবে চিকিৎসা চালিয়ে যাওয়ার জন্য পর্যাপ্ত ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
মিসরের পাবলিক প্রসিকিউটর অফিস দুর্ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে। প্রাথমিক বিশ্লেষণে অতিরিক্ত গতি বা ট্রাফিক নিয়ম লঙ্ঘনের সম্ভাবনা উল্লেখ করা হয়েছে, তবে চূড়ান্ত কারণ নির্ধারণের জন্য ফরেনসিক পরীক্ষা এবং গাড়ির রেকর্ড বিশ্লেষণ চালু রয়েছে।
মিসরে সড়ক নিরাপত্তা দীর্ঘদিনের সমস্যা, যেখানে প্রতি বছর হাজার হাজার মানুষ সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ হারায়। বিশেষ করে বড় ট্রাক এবং ছোট পিকআপ বা মাইক্রোবাসের মধ্যে সংঘর্ষে মৃত্যুর হার বেশি। বিশেষজ্ঞরা অবকাঠামোর অবনতি, সিগন্যালের অভাব এবং ট্রাফিক আইন প্রয়োগের দুর্বলতা প্রধান কারণ হিসেবে উল্লেখ করেন।
গত বছরের জুনে একই মহাসড়কে ট্রাক ও মিনিবাসের মধ্যে সংঘর্ষে উনিশ জনের মৃত্যু ঘটেছিল। একই রকম ঘটনা পুনরাবৃত্তি হওয়ায় সড়ক নিরাপত্তা ব্যবস্থার উন্নতিতে কোনো উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি দেখা যায়নি।
দুর্ঘটনার পর পোর্ট সাঈদে মৃত জেলেদের পরিবারগুলো শোকময় পরিবেশে ডুবে আছে। স্থানীয় প্রশাসন ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারকে আর্থিক সহায়তা এবং মানসিক সমর্থন দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। এছাড়া মহাসড়কে ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণ শক্তিশালী করার জন্য অতিরিক্ত গাড়ি নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা এবং গতি সীমা পর্যবেক্ষণ ব্যবস্থা গড়ে তোলার পরিকল্পনা করা হয়েছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, দুর্ঘটনা ঘটার সময় ট্রাফিকের প্রবাহ স্বাভাবিক ছিল, তবে গতি সীমা অতিক্রমের সন্দেহ রয়েছে। স্থানীয় পুলিশ ও ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণ কেন্দ্রের সঙ্গে সমন্বয় করে ভবিষ্যতে এমন ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধে জরুরি পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
দুর্ঘটনা ঘটার পর দ্রুততর রেসকিউ টিমের হস্তক্ষেপে মৃতদেহ উদ্ধার করা হয় এবং মৃতদের পরিবারকে জানানো হয়। মৃতদের পরিচয় নিশ্চিত করার জন্য স্থানীয় মৎস্য সমিতি ও জেলেদের গোষ্ঠীকে সহযোগিতা করা হয়েছে।
মিসরের সড়ক নিরাপত্তা সংক্রান্ত আইনগত কাঠামো অনুযায়ী, ট্রাফিক লঙ্ঘনের জন্য কঠোর শাস্তি নির্ধারিত আছে, তবে বাস্তবায়নে ঘাটতি রয়ে গেছে। সরকার এই ধরনের মারাত্মক দুর্ঘটনা কমাতে আইন প্রয়োগের তীব্রতা বাড়ানোর কথা জানিয়েছে।
দুর্ঘটনা স্থানীয় মিডিয়ার মাধ্যমে ব্যাপকভাবে প্রচারিত হয়েছে, এবং সামাজিক মাধ্যমে জনগণের মধ্যে শোক ও নিন্দার প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। বহু নাগরিক সড়ক নিরাপত্তা উন্নয়নের জন্য সরকারের কাছ থেকে দ্রুত পদক্ষেপের আহ্বান জানিয়েছেন।
এই ঘটনার পর, মিসরের সড়ক নিরাপত্তা সংস্থা এবং ট্রাফিক পুলিশ একত্রে মহাসড়কের অবস্থা পুনর্মূল্যায়ন করবে এবং প্রয়োজনীয় রক্ষণাবেক্ষণ কাজ দ্রুত সম্পন্ন করার নির্দেশ দিয়েছে।
সামগ্রিকভাবে, পোর্ট সাঈদে ঘটিত এই ট্রাক‑পিকআপ সংঘর্ষে ১৮ জনের মৃত্যু এবং তিনজনের গুরুতর আঘাতের ফলে সড়ক নিরাপত্তা সংক্রান্ত সমস্যাগুলো আবারও আলোচনার কেন্দ্রে এসেছে। ভবিষ্যতে একই রকম দুঃখজনক ঘটনা রোধে আইনগত, অবকাঠামোগত এবং প্রশাসনিক পদক্ষেপের ত্বরান্বিত বাস্তবায়ন প্রত্যাশিত।



