32 C
Dhaka
Friday, February 20, 2026
Google search engine
Homeঅপরাধদিল্লির বিউটি পার্লার থেকে মাদক‑অস্ত্র সিন্ডিকেটের গ্রেপ্তার, নেহা ও ববি বন্দি

দিল্লির বিউটি পার্লার থেকে মাদক‑অস্ত্র সিন্ডিকেটের গ্রেপ্তার, নেহা ও ববি বন্দি

দিল্লির উত্তর‑পূর্বাঞ্চলের একটি সাধারণ বিউটি পার্লার, দিনভর গ্রাহকদের সেবা দিত, রাত নামলে গোপন অপরাধের কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়। পার্লারের মালিক খুশনুমা আনসারি, যাকে নেহা ও ‘ম্যাডাম জেহের’ নামেও চেনা যায়, এবং তার সহকারী ববি কবুতর, যাকে মাহফুজ নামে পরিচিত, দুজনকে দিল্লি পুলিশের স্পেশাল সেল গ্যাং‑সিন্ডিকেটের অংশ হিসেবে গ্রেফতার করেছে।

গ্রেফতারটি লরেন্স বিষ্ণোই ও হাশিম বাবা গ্যাংয়ের বৃহৎ নেটওয়ার্কের ওপর চালু বিশেষ অভিযান থেকে উদ্ভূত। তদন্তে প্রকাশ পায়, নেহা দিনের বেলায় পার্লার পরিচালনা করলেও রাতের বেলায় গ্যাংয়ের মাদক ও অস্ত্র ব্যবসার দায়িত্বে ছিলেন। তার ঘনিষ্ঠ সহযোগী ববি কবুতর গ্যাংয়ের শীর্ষ অস্ত্র সরবরাহকারী হিসেবে কাজ করতেন এবং পাকিস্তানের গোয়েন্দা সংস্থা আইএসআই‑এর সঙ্গে যুক্ত একটি সেলিম পিস্তল গ্রুপ থেকে আধুনিক আগ্নেয়াস্ত্র সংগ্রহ করতেন।

প্রমাণ অনুযায়ী, এই গ্যাংয়ের সরবরাহ করা অস্ত্রগুলো ভারতের বেশ কয়েকটি উচ্চপ্রোফাইল অপরাধে ব্যবহৃত হয়েছে। সিধু মুসেওয়ালার হত্যাকাণ্ড, বলিউডের দিশা পাটানির বাড়ির বাইরে গুলিবর্ষণ, দিল্লিতে নাদির শাহের হত্যাকাণ্ড এবং সিলামপুরের ডাবল মার্ডার—all এই ঘটনাগুলোতে এই গ্যাংয়ের অস্ত্রের চিহ্ন পাওয়া গেছে।

বিশেষ করে ২০২২ সালের সিধু মুসেওয়ালা হত্যাকাণ্ডের তদন্তে নতুন তথ্য উঠে এসেছে। ববি কবুতর গায়কের চলাচল ও রুট ট্র্যাক করে শুটারদের কাছে পাঠানোর দায়িত্বে ছিলেন। তিনি শারুখ নামের গ্যাংস্টারের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ বজায় রাখতেন এবং কয়েক মাস ধরে ভুয়া পরিচয় ব্যবহার করে পুলিশের নজর এড়িয়ে চলেছিলেন।

তদন্তকারী কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, গ্যাংয়ের মধ্যে নারীর ভূমিকা সম্প্রতি বাড়ছে। নেহা গ্যাংয়ের তৃতীয় লেডি ডন হিসেবে স্বীকৃত, তার পূর্বে দীপা এবং হাশিম বাবার স্ত্রী জয়া খানকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল। নেহা ও ববি প্রায় সাত বছর একসঙ্গে কাজ করছিলেন, যা গ্যাংয়ের কার্যক্রমে তাদের প্রভাব বাড়িয়ে দিয়েছে।

প্রযুক্তিগত নজরদারি ও গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে গ্যাংয়ের কার্যক্রমের বিস্তৃতি নির্ণয় করা হয়েছে। পুলিশ সূত্রে জানানো হয়েছে, নেহা ও ববি দুজনের বিরুদ্ধে মাদক পাচার, অবৈধ অস্ত্র সরবরাহ, এবং সন্ত্রাসী সংস্থার সঙ্গে সংযোগের অভিযোগ রয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে প্রমাণ সংগ্রহের পর, আদালতে প্রারম্ভিক শুনানির তারিখ নির্ধারিত হয়েছে।

অধিক তদন্তে দেখা যাবে, গ্যাংয়ের আর কোন সদস্য বা সংযোগস্থল এখনও সক্রিয় আছে কিনা। বর্তমানে স্পেশাল সেল গ্যাংয়ের আর্থিক ও লজিস্টিক কাঠামো ভেঙে ফেলতে কাজ করছে এবং সংশ্লিষ্ট সকল অপরাধের জন্য দায়ী ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করার লক্ষ্যে রয়েছে।

দিল্লি পুলিশের মুখ্য কর্মকর্তা উল্লেখ করেছেন, গ্যাংয়ের অস্ত্র সরবরাহ চেইনকে সম্পূর্ণরূপে বন্ধ করতে আন্তর্জাতিক সহযোগিতা ও তথ্য শেয়ারিং অপরিহার্য। একই সঙ্গে, মাদক চর্চা ও গ্যাংয়ের গোপন ব্যবসা বন্ধ করতে স্থানীয় সম্প্রদায়ের সহায়তা ও সচেতনতা বৃদ্ধি করা হবে।

এই গ্রেফতারটি গ্যাংয়ের কাঠামোতে বড় ধাক্কা হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে, তবে গ্যাংয়ের অন্যান্য শাখা ও সমর্থক গোষ্ঠী এখনও সক্রিয় থাকতে পারে। আইন প্রয়োগকারী সংস্থা গ্যাংয়ের সম্পূর্ণ নেটওয়ার্ক উন্মোচনের জন্য অতিরিক্ত অনুসন্ধান চালিয়ে যাবে।

অবশেষে, নেহা ও ববি দুজনের বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া মামলায় আদালত কী রায় দেবে তা আগামী সপ্তাহে জানা যাবে। সংশ্লিষ্ট সকল পক্ষের জন্য ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা এবং গ্যাংয়ের অবৈধ কার্যক্রমের পুনরাবৃত্তি রোধ করা এখনই প্রধান লক্ষ্য।

৬৫/১০০ ১টি সোর্স থেকে যাচাইকৃত।
আমরা ছাড়াও প্রকাশ করেছে: বিডি প্রতিদিন
অপরাধ প্রতিবেদক
অপরাধ প্রতিবেদক
AI-powered অপরাধ content writer managed by NewsForge
RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments