কেরালার মুখ্যমন্ত্রী পিনারাই বিজয়ান সম্প্রতি সামাজিক মাধ্যমে প্রকাশিত এক মন্তব্যে ‘দ্য কেরালা স্টোরি ২: গোজ বিয়ন্ড’ চলচ্চিত্রের পরিকল্পনা সম্পর্কে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তিনি উল্লেখ করেন, সিক্যুয়েল সম্পর্কিত খবরগুলোকে সর্বোচ্চ গুরুত্বের সঙ্গে নেওয়া দরকার, কারণ প্রথম অংশের ধর্মীয় এজেন্ডা ও অসত্য তথ্যের মুখোমুখি হয়ে রাজ্য ইতিমধ্যে সতর্কতা অবলম্বন করেছে।
বিজয়ান বলেন, কেরালার ধর্মনিরপেক্ষ কাঠামোকে নিন্দা করার এই প্রচেষ্টা আমাদের সমাজের ঐক্যকে ক্ষুণ্ন করতে চায় এবং তা সহ্য করা যাবে না। তিনি আরও উল্লেখ করেন, বিভ্রান্তিকর বর্ণনা যা ধর্মীয় উত্তেজনা বাড়াতে চায়, সেগুলোকে কোনো বাধা ছাড়াই ছড়িয়ে দেওয়া হয়, আর সমালোচনামূলক শিল্পকর্মগুলোকে দমন করা হয়। এই ধরনের প্রচেষ্টা থেকে রক্ষা পেতে সবাইকে একসঙ্গে দাঁড়াতে হবে, তিনি জোর দিয়ে বলেন।
‘দ্য কেরালা স্টোরি ২: গোজ বিয়ন্ড’ চলচ্চিত্রটি ২৭ ফেব্রুয়ারি থিয়েটারে প্রদর্শিত হবে। কাহিনিটি তিনজন হিন্দু মেয়ের (উলকা গুপ্তা, আইশ্বর্যা ওঝা, আদিতি ভাটিয়া) প্রেমের গল্পকে কেন্দ্র করে, যারা মুসলিম ছেলেদের সঙ্গে সম্পর্ক গড়ে তোলার পর ধীরে ধীরে ধর্মান্তরের পরিকল্পনা প্রকাশ করে। ছবির পরিচালনা করছেন কামাখ্যা নারায়ণ সিংহ, আর প্রযোজক হিসেবে ভিপুল অমৃতলাল শাহের নাম উল্লেখ আছে, যিনি ২০২৩ সালে ‘দ্য কেরালা স্টোরি’ চলচ্চিত্রের মাধ্যমে ধর্মীয় রেডিকালাইজেশন নিয়ে বিতর্ক উস্কে দিয়েছিলেন।
প্রথম অংশের মুক্তি পরেই কেরালায় ধর্মীয় উত্তেজনা বাড়ার অভিযোগ উঠে, ফলে সরকার ও নাগরিক সমাজের মধ্যে তীব্র আলোচনা শুরু হয়। নতুন সিক্যুয়েলেও একই ধরনের ধর্মীয় উত্তেজনা সৃষ্টির সম্ভাবনা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে। চলচ্চিত্রের কাহিনিতে ধর্মান্তরের পরিকল্পনা ও ধর্মীয় বিভাজনের চিত্রায়নকে অতিরঞ্জিত করে দেখানো হয়েছে বলে সমালোচকরা দাবি করেন, যা বাস্তব তথ্যের চেয়ে বেশি নাটকীয়তা যোগ করে।
একজন প্রখ্যাত মালয়ালম চলচ্চিত্র নির্মাতা, যিনি প্রগতিশীল ও পথচ্যুত সিনেমার জন্য পরিচিত, তিনি এই ধরনের চলচ্চিত্রের অর্থায়ন ও গবেষণার পেছনের সত্যতা সম্পর্কে প্রশ্ন তোলেন। তিনি বলেন, “এ ধরনের চলচ্চিত্রের পেছনে স্পষ্টভাবে বিভাজনমূলক এজেন্ডা রয়েছে। এই প্রকল্পগুলো কোথা থেকে তহবিল পায় এবং কীভাবে অতিরঞ্জিত পরিসংখ্যানের ভিত্তি তৈরি হয়, তা স্পষ্ট করা দরকার।”
কেন্দ্রীয় সরকারের দৃষ্টিকোণ থেকে, কেরালার ধর্মনিরপেক্ষতা ও সামাজিক ঐক্য রক্ষার জন্য এই ধরনের বিষয়বস্তুতে সতর্কতা অবলম্বন করা স্বাভাবিক। তবে শিল্পের স্বাধীনতা ও সৃজনশীল প্রকাশের অধিকারও সমানভাবে গুরুত্বপূর্ণ, তাই উভয় দিকের সমন্বয় নিয়ে আলোচনা চালিয়ে যাওয়া প্রয়োজন।
বিনোদন জগতের পাঠক ও দর্শকদের জন্য এই বিষয়টি বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ, কারণ চলচ্চিত্রের মাধ্যমে সমাজের মূল্যবোধ ও দৃষ্টিভঙ্গি গঠিত হয়। ‘দ্য কেরালা স্টোরি ২’ যদি ধর্মীয় সংবেদনশীলতা উস্কে দেয়, তবে তা কেবল বক্স অফিসের ফলাফল নয়, বরং সামাজিক মেলামেশার ওপরও প্রভাব ফেলতে পারে। তাই দর্শকদের উচিত চলচ্চিত্র দেখার আগে বিষয়বস্তুর পটভূমি সম্পর্কে সচেতন থাকা এবং ব্যক্তিগতভাবে বিশ্লেষণ করা।
সামাজিক মাধ্যমে প্রকাশিত পিনারাই বিজয়ানের মন্তব্যের পর, চলচ্চিত্রের প্রচারকরা এখনও কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া দেননি। তবে তারা চলচ্চিত্রের কাহিনীকে “প্রেম, বিশ্বাস ও সামাজিক সংঘাতের জটিলতা” হিসেবে উপস্থাপন করার ইঙ্গিত দিয়েছেন। এই পরিস্থিতিতে, কেরালার নাগরিক সমাজ ও শিল্প জগতের মধ্যে সংলাপের দরজা খোলা রাখা জরুরি, যাতে কোনো একতরফা দৃষ্টিভঙ্গি না গড়ে ওঠে।
সারসংক্ষেপে, কেরালার মুখ্যমন্ত্রী চলচ্চিত্র ‘দ্য কেরালা স্টোরি ২’‑কে ধর্মীয় বিভাজনের হাতিয়ার হিসেবে দেখছেন এবং সমাজের ঐক্য রক্ষার জন্য সকলকে একসঙ্গে দাঁড়াতে আহ্বান জানিয়েছেন। একই সঙ্গে, চলচ্চিত্রের নির্মাতা ও সমর্থকরা তাদের সৃজনশীল দৃষ্টিভঙ্গি বজায় রাখার দাবি রাখছেন। এই দ্বন্দ্বের সমাধান হবে উন্মুক্ত আলোচনা, তথ্যের স্বচ্ছতা এবং সমাজের বিভিন্ন স্তরের মতামতকে সম্মান করা।
বিনোদন প্রেমিকদের জন্য, চলচ্চিত্রটি ২৭ ফেব্রুয়ারি থিয়েটারে প্রদর্শিত হবে, তাই আগ্রহী দর্শকরা সময়সূচি ও বিষয়বস্তু সম্পর্কে পূর্ণাঙ্গ তথ্য সংগ্রহ করে সিদ্ধান্ত নিতে পারেন।



