গাইবান্ধা জেলার সাদুল্লাপুর উপজেলায় শুক্রবার ভোরে ছিনতাই সন্দেহে দুই পথচারীর সঙ্গে সংঘর্ষে দুজনের মৃত্যু ঘটেছে। ঘটনাটি খোর্দ্দকমরপুর ইউনিয়নের খোর্দ্দমোজাহিদপুর গ্রামে ঘটেছে এবং স্থানীয় লোকজনের হস্তক্ষেপে ঘটেছে। গাইবান্ধা পুলিশ অনুসারে, ছিনতাইকারী দলটি ধারালো অস্ত্র ব্যবহার করে নগদ টাকা ও স্বর্ণের গয়না চুরি করেছিল।
সকাল ৪:৩০ টার দিকে সাদুল্লাপুর-ঠুটিয়াপুকুর সড়কের ইদিলপুর ইউনিয়নের মাদারহাট-খেয়াঘাট সেতু এলাকায় পাঁচ থেকে ছয়জন সন্দেহভাজন ছিনতাইকারী দুই পথচারীর পথ রোধ করে। তারা ধারালো ছুরি বা কাঁচি দেখিয়ে ভয় দেখিয়ে তাদের কাছ থেকে নগদ অর্থ ও সোনার গয়না ছিনিয়ে নেয়।
পথচারীরা হঠাৎ ঘটনার খবর পেয়ে তৎক্ষণাৎ ছিনতাইকারীদের অনুসরণ করে। সন্দেহভাজনরা পালানোর জন্য মোটরসাইকেল ব্যবহার করে সড়ক পারাপার করে, তবে গতি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে খোর্দ্দমোজাহিদপুর এলাকায় সড়কে ছিটকে পড়ে।
মোটরসাইকেল থেকে নেমে পড়ার পর ছিনতাইকারীদের ওপর স্থানীয় বাসিন্দারা তৎক্ষণাৎ শারীরিক আক্রমণ চালায়। গাইবান্ধা পুলিশের মতে, এই আক্রমণের ফলে দুজন সন্দেহভাজন গম্ভীরভাবে আহত হয় এবং ঘটনাস্থলেই মৃত্যুবরণ করে। বাকি কয়েকজন অপরাধী কৌশলে সরে গিয়ে পালিয়ে যায়।
সদর দফতরে ঘটনাস্থল থেকে উদ্ধার করা দুই দেহ গাইবান্ধা পুলিশের হাতে থানা কেন্দ্রে নিয়ে যাওয়া হয়। মৃতদেহের পরিচয় এখনও নিশ্চিত করা যায়নি; গাইবান্ধা পুলিশ জানিয়েছে, পরিচয় নির্ধারণের জন্য ফিঙ্গারপ্রিন্ট ও ডিএনএ পরীক্ষা চালু করা হয়েছে।
অধিক তদন্তে জানা যায়, ছিনতাইকারীদের সঙ্গে লড়াইয়ের সময় একটি মোটরসাইকেলও উদ্ধার করা হয়েছে। এই যানবাহনটি সন্দেহভাজনদের দ্বারা ব্যবহার করা হয়েছিল এবং এখন গাইবান্ধা পুলিশের হ্যান্ডলিং ইউনিটে সংরক্ষিত আছে।
সাদুল্লাপুর থানা ওসির (অফিসার ইন চার্জ) আব্দুল আলিমের মতে, ঘটনাস্থল থেকে প্রাপ্ত সব প্রমাণ সংরক্ষণ করা হয়েছে এবং অপরাধের দায়িত্বে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তিনি উল্লেখ করেন, তদন্তের অংশ হিসেবে স্থানীয় সাক্ষী ও ভিডিও রেকর্ডিং সংগ্রহ করা হয়েছে।
গাইবান্ধা পুলিশ এখন পর্যন্ত কোনো সন্দেহভাজনের নাম প্রকাশ করেনি, তবে তারা জানিয়েছে যে, অপরাধের প্রকৃতি ও শিকারদের সংখ্যা বিবেচনা করে মামলাটি ফাস্ট-ট্র্যাক প্রক্রিয়ায় রেজিস্টার করা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট আইনি ধারা অনুযায়ী, ধারালো অস্ত্র ব্যবহার করে চুরি ও হিংসাত্মক আক্রমণ করা অপরাধীকে কঠোর শাস্তি দেওয়া হবে।
স্থানীয় প্রশাসন ও গাইবান্ধা পুলিশ উভয়ই এই ধরনের হিংসাত্মক অপরাধের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপের আহ্বান জানিয়েছে। তারা জনগণকে সতর্ক করে বলেছেন, কোনো সন্দেহজনক কার্যকলাপের সাক্ষী হলে সঙ্গে সঙ্গে গাইবান্ধা পুলিশের জানাতে হবে।
এই ঘটনার পর গাইবান্ধা জেলার অন্যান্য থানা ও ইউনিয়নেও নিরাপত্তা বাড়াতে অতিরিক্ত পেট্রোলিং শুরু করা হয়েছে। গাইবান্ধা পুলিশ স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে সমন্বয় করে রাতের সময়ে গাড়ি ও সাইকেল চালকদের জন্য সতর্কতা জারি করেছে।
অপরাধের শিকারদের পরিবার ও স্থানীয় সমাজের শোক প্রকাশের পাশাপাশি, গাইবান্ধা পুলিশ পুনরায় জোর দিয়ে বলেছে যে, অপরাধমূলক কার্যকলাপের বিরুদ্ধে শূন্য সহনশীলতা নীতি বজায় থাকবে এবং আইন প্রয়োগে কোনো আপস করা হবে না।



