মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের ওপর সম্ভাব্য সামরিক অভিযান চালানোর প্রস্তুতি জানাতে যুক্তরাজ্যের বিমানবাহিনীর ঘাঁটি ব্যবহার চেয়েছিলেন, তবে যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী কীয়ার স্টারমার এই অনুরোধ প্রত্যাখ্যান করেন। এই সিদ্ধান্তের ফলে ট্রাম্পের সরকার ঘাঁটি ব্যবহার না পেয়ে বিরক্তি প্রকাশ করেছে এবং ইরানের শাসনকে লক্ষ্য করে কঠোর সতর্কতা জানিয়েছে।
ওয়াশিংটন যুক্তরাজ্যের দক্ষিণ-পশ্চিম ইংল্যান্ডের সুইন্ডনের কাছে অবস্থিত রয়্যাল এয়ার ফোর্স (RAF) ঘাঁটি থেকে দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপের পরিকল্পনা নিয়ে প্রস্তাব পাঠায়। ঘাঁটি কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ বলে বিবেচিত, কারণ এটি ইউরোপীয় আকাশে দ্রুত প্রবেশের সুবিধা দেয়।
কীয়ার স্টারমার সরকার আন্তর্জাতিক আইনের লঙ্ঘন এবং বৃহৎ সংঘাতের দায়ভার এড়াতে ঘাঁটি ব্যবহার অনুমোদন না করার কঠোর অবস্থান গ্রহণ করে। ব্রিটিশ আইন অনুসারে, কোনো মিত্র দেশের সামরিক অভিযানের দায়ভার নিতে হলে অভিযানের বিশদ আগে থেকে জানাতে হয়, যা মার্কিন সরকার সরবরাহ করতে অস্বীকার করেছে।
ব্রিটেনের এই শর্ত পূরণ না হওয়ায়, স্টারমার সরকার ঘাঁটি ব্যবহার না দিয়ে স্বেচ্ছায় কোনো যুদ্ধে জড়াতে রাজি হয়নি। যুক্তরাজ্য এই সিদ্ধান্তকে আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা ও আইনি দায়িত্বের প্রতি সম্মানজনক পদক্ষেপ হিসেবে উপস্থাপন করেছে।
ট্রাম্প ঘাঁটি না পাওয়ার ওপর তীব্র ক্রোধ প্রকাশ করে, টুইটারে ইরানের শাসনকে লক্ষ্য করে কঠোর হুঁশিয়ারি দেন। তিনি লিখে জানান, “একটি ভয়াবহ অস্থিতিশীল শাসনের অবসান ঘটাতে ব্রিটিশ বিমানঘাঁটি ব্যবহার করা প্রয়োজন ছিল। হয় বোঝাপড়া আসুন, নয়তো খারাপ কিছু ঘটতে চলেছে।” এই মন্তব্যে ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির শাসনকে ইঙ্গিত করা হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
ট্রাম্পের হুঁশিয়ারিতে ইরানকে ১০ থেকে ১৫ দিনের সময়সীমা দিয়ে শেষ করার আহ্বান জানানো হয়েছে। তিনি ইরানের বর্তমান শাসনকে অস্থিতিশীল ও হুমকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করে, দ্রুত পদক্ষেপ না নিলে পরিণতি ঘটবে বলে সতর্ক করেছেন।
একই সময়ে মার্কিন সরকার মধ্যপ্রাচ্যে সামরিক উপস্থিতি বাড়িয়ে চলেছে। সাম্প্রতিক সপ্তাহে ৫০টিরও বেশি যুদ্ধবিমান মোতায়েন করা হয়েছে এবং ইরানের সীমান্তের কাছে মার্কিন যুদ্ধবিমানের সংখ্যা কয়েক গুণ বৃদ্ধি পেয়েছে। এই পদক্ষেপগুলোকে ইরানের সম্ভাব্য হুমকির প্রতিক্রিয়া হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।
সিএনএন ও সিবিএস নিউজের তথ্য অনুযায়ী, মার্কিন সেনা ইরানে পূর্ণ প্রস্তুতিতে রয়েছে এবং চলতি সপ্তাহের শেষের দিকে সরাসরি হানা দেওয়ার জন্য প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে। তবে ট্রাম্প এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক সামরিক সংঘাতের ঘোষণা দেননি, ফলে পরিস্থিতি এখনও অনিশ্চিত রয়ে গেছে।
এই ঘটনার ফলে মার্কিন-ইরান সম্পর্কের উত্তেজনা বাড়বে এবং যুক্তরাজ্যের মিত্র নীতি নিয়ে আন্তর্জাতিক আলোচনার সূত্রপাত হতে পারে। ব্রিটেনের ঘাঁটি ব্যবহার না করার সিদ্ধান্তকে কিছু দেশ সমর্থন করেছে, আবার অন্যরা যুক্তরাষ্ট্রের নিরাপত্তা চাহিদা পূরণে আরও নমনীয়তা দাবি করেছে।
ভবিষ্যতে মার্কিন সরকার ঘাঁটি না পেয়ে বিকল্প কৌশল অনুসন্ধান করতে পারে, যেমন অন্য মিত্র দেশের বেস ব্যবহার বা স্বতন্ত্র বিমানবাহিনীর মোতায়েন। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্রতিক্রিয়া এবং ইরানের পরবর্তী পদক্ষেপ এই উত্তেজনা কীভাবে বিকশিত হবে তা নির্ধারণ করবে।



