মেক্সিকোর পরিচালক ফার্নান্ডো ইম্বেকের পঞ্চম পূর্ণদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র ‘মোস্কাস (ফ্লাইস)’ এই বছর বার্লিন চলচ্চিত্র উৎসবে প্রতিযোগিতার অংশ হিসেবে উপস্থাপিত হয়েছে। ছবিটি সাদা-কালো রঙে নির্মিত এবং ১ ঘণ্টা ৩৯ মিনিটের দৈর্ঘ্য রয়েছে। উৎসবের মূল প্রতিযোগিতায় স্থান পেয়ে এটি আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র সমালোচকদের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে।
ইম্বেকের পূর্বের কাজগুলোতে সংক্ষিপ্ত দৃশ্য এবং নীরবতা ব্যবহার করে মানবিক সূক্ষ্মতা প্রকাশের দক্ষতা দেখা যায়, এবং ‘মোস্কাস’ তেও একই পদ্ধতি অনুসরণ করা হয়েছে। তার প্রথম সফল চলচ্চিত্র ‘ডাক সিজন’ (২০০৪) এর স্মৃতি এই নতুন কাজের শৈলীতে ফিরে এসেছে, বিশেষ করে স্থির ক্যামেরা শট এবং স্বল্প সময়ের দৃশ্যের মাধ্যমে।
প্রধান চরিত্র অলগা চরিত্রে তেরেসিতা সানচেজ অভিনয় করেছেন, যিনি ২০২২ সালের স্যান্ডেন্সে ‘ডোস এস্টাসিওনেস’ ছবির জন্য বিশেষ জুরি পুরস্কার অর্জন করেছেন এবং ‘দ্য চেম্বারমেইড’ ও ‘টোতেম’ ছবিতে উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রেখেছেন। অলগা মধ্যবয়সী, ক্লান্ত মুখের এক নারী, যিনি দৈনন্দিন জীবনের ছোট ছোট কষ্টের মধ্যে নিজস্ব রসিকতা খুঁজে পান।
চিত্রের সূচনা হয় অলগা ঘুম থেকে জেগে একটি গুঞ্জনশব্দে, যা শিরোনামের ‘ফ্লাই’ থেকে উদ্ভূত। তিনি জানালার দিকে গিয়ে পোকাটিকে বের করার চেষ্টা করেন, কিন্তু প্রথম প্রচেষ্টা ব্যর্থ হয়। অবশেষে কীটনাশক ব্যবহার করে পোকাটিকে হত্যা করার চেষ্টা করেন, ফলে ঘরে টক্সিক ধোঁয়া জমে তাকে শ্বাসকষ্টের মুখে ফেলে।
পোকাটির গুঞ্জন থেমে যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে উপরের তলায় থেকে শোরগোল শোনা যায়, যা শোনায় যেন তীব্র যৌন ক্রিয়াকলাপ চলছে। এই অপ্রত্যাশিত শব্দগুলো অলগার পছন্দের সুধোকু গেমে মনোযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেয়, যা তিনি পুরনো ডেস্কটপ কম্পিউটারে খেলতেন।
অলগা টেলিভিশনের শব্দ বাড়িয়ে শোরগোলকে ঢেকে রাখে এবং শেষমেশ সোফায় শুয়ে আবার ঘুমিয়ে পড়ে। তার এই ছোট্ট দৈনন্দিন সংগ্রামগুলো ছবির মাধ্যমে সূক্ষ্মভাবে উপস্থাপিত হয়েছে, যা দর্শকের মধ্যে সহানুভূতি জাগায়।
চিত্রে বস্তিয়ান এসকোবার, হুগো রামিরেজ এবং এনরিকে আর্রেওলা সহ অন্যান্য অভিনেতা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন। চিত্রনাট্য রচনা করেছেন ফার্নান্ডো ইম্বেক এবং ভানেসা গার্নিকা। ছবির চিত্রগ্রহণে স্থির শটের ব্যবহার এবং সাদা-কালো রঙের প্যালেটের মাধ্যমে একটি নীরব, তবে গভীর আবেগময় পরিবেশ তৈরি করা হয়েছে।
‘মোস্কাস’ একটি সূক্ষ্ম পর্যবেক্ষণমূলক কমেডি, যেখানে চরিত্রের অভ্যন্তরীণ জগতকে নীরব ভিজ্যুয়াল ভাষায় প্রকাশ করা হয়েছে। ইম্বেকের এই কাজটি তার পূর্বের শৈলীর ধারাবাহিকতা বজায় রেখে নতুন দৃষ্টিকোণ যোগ করেছে, যা তাকে নীরব চলচ্চিত্রের যুগে পুনরায় সফল হতে সাহায্য করবে। বার্লিনের বড় পর্দায় এই সাদা-কালো রত্নটি দর্শকদের মুগ্ধ করবে এবং আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্রের মানচিত্রে মেক্সিকান স্বতন্ত্র কণ্ঠস্বরকে আরও দৃঢ় করবে।



