গ্লেন পাউয়েল প্রধান ভূমিকায় অভিনয় করে ‘হাউ টু মেক এ কিলিং’ চলচ্চিত্রটি শুক্রবার, ২০ ফেব্রুয়ারি থিয়েটারে প্রকাশিত হয়েছে। ছবির পরিচালনা ও চিত্রনাট্য কাজ করেছেন জন প্যাটন ফোর্ড, রেটিং R এবং মোট সময় ১ ঘণ্টা ৪৫ মিনিট। মূল কাহিনীটি ধনী পরিবারের এক সন্তানকে কেন্দ্র করে, যাকে পিতার ত্যাগের পর উত্তরাধিকার পাওয়ার জন্য আত্মীয়দের ক্রমান্বয়ে হত্যা করতে হয়।
চিত্রে গ্লেন পাউয়েল ছাড়াও মার্গারেট কোয়ালি, জেসিকা হেনউইক, বিল ক্যাম্প, জ্যাচ ওয়ুডস, টোফার গ্রেস এবং এড হ্যারিস উপস্থিত। এড হ্যারিসের অংশটি মাত্র এক দৃশ্যের সীমাবদ্ধ, তবে তিনি পরিবারের পিতার চরিত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন।
‘হাউ টু মেক এ কিলিং’ ১৯৪৯ সালের ব্রিটিশ কমেডি ‘কাইন্ড হার্টস অ্যান্ড করোনেটস’ থেকে অনুপ্রাণিত, যেখানে উত্তরাধিকার নিয়ে একাধিক আত্মীয়কে হত্যা করা হয়। এই ক্লাসিকের ছায়া ছবিতে দেখা যায়, তবে আধুনিক রূপে পুনর্গঠন করা হয়েছে।
গ্লেন পাউয়েল সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ‘টপ গান: মেভেরিক’ ও ‘টুইস্টারস’ মতো বড় ফ্র্যাঞ্চাইজের সিক্যুয়েল দিয়ে বাণিজ্যিক সাফল্য অর্জন করেছেন। রোমান্টিক কমেডি ‘এনিওন বাট ইউ’ তেও তিনি প্রশংসিত ছিলেন, যা তাকে হালকা হৃদয়ের চরিত্রে দক্ষ বলে পরিচিত করেছে।
অন্যদিকে, পাউয়েল তার ক্যারিয়ারকে বৈচিত্র্যময় করতে চেয়ে রিচার্ড লিঙ্কলেটারের ‘হিট ম্যান’ (যা তিনি সহ-লিখেছেন) এবং বড় বাজেটের সাই-ফাই ‘দ্য রানিং ম্যান’ এ চ্যালেঞ্জ নিয়েছেন। ‘হিট ম্যান’ স্ট্রিমিং প্ল্যাটফর্মে ভালো সাড়া পেয়েছে, তবে ‘দ্য রানিং ম্যান’ বাণিজ্যিকভাবে প্রত্যাশা পূরণ করতে পারেনি।
‘হাউ টু মেক এ কিলিং’ এ পাউয়েল আবারও অন্ধকার হাস্যরসের পথে পা বাড়িয়েছেন। তবে ছবির প্রচারমূলক উপাদানগুলো এটিকে ‘ব্ল্যাক কমেডি’ হিসেবে উপস্থাপন করলেও, হাস্যরসের মাত্রা পর্যাপ্ত নয় বলে সমালোচকরা মন্তব্য করেছেন।
চিত্রের টোনটি গম্ভীর ও হালকা মিশ্রণ করার চেষ্টা করেছে, তবে বেশ কিছু দৃশ্যে টানাপোড়েনের অভাব স্পষ্ট। গল্পের অগ্রগতি ধীরগতিতে চলে, ফলে দর্শকের মনোযোগ বজায় রাখা কঠিন হয়।
অভিনয় ক্ষেত্রে গ্লেন পাউয়েল তার স্বাভাবিক আকর্ষণ বজায় রেখেছেন, তবে চরিত্রের নৈতিক দ্বন্দ্বকে যথাযথভাবে প্রকাশ করতে তিনি কিছুটা সীমাবদ্ধ দেখেছেন। মার্গারেট কোয়ালির পারফরম্যান্সে কিছু উজ্জ্বল মুহূর্ত আছে, তবে সামগ্রিকভাবে ছবির গতি ও রসিকতায় তা যথেষ্ট সমর্থন দিতে পারেনি।
চিত্রের সাউন্ডট্র্যাক ও ভিজ্যুয়াল স্টাইল আধুনিক সায়েন্স ফিকশন ও পুরনো ক্লাসিকের মিশ্রণ, তবে তা গল্পের মূল থিমের সঙ্গে পুরোপুরি সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। কিছু দৃশ্যে রঙের ব্যবহার আকর্ষণীয় হলেও, তা সামগ্রিক বর্ণনাকে শক্তিশালী করতে ব্যর্থ হয়েছে।
‘হাউ টু মেক এ কিলিং’ এর রেটিং R হওয়ায় প্রাপ্তবয়স্ক দর্শকদের জন্য উপযুক্ত, তবে রেটিংয়ের কারণে তরুণ দর্শকদের অংশগ্রহণ সীমিত হতে পারে। ছবির রিলিজের সময়সূচি বিবেচনা করলে, এটি শীতের শেষের দিকে বাজারে প্রবেশ করেছে, যখন দর্শকরা নতুন শো ও সিনেমার সন্ধান করেন।
সামগ্রিকভাবে, গ্লেন পাউয়েলের প্রচেষ্টা প্রশংসনীয়, তবে ছবির হিউমার ও নাটকীয় গঠন যথেষ্ট শক্তিশালী নয়। ব্ল্যাক কমেডি শৈলীর প্রত্যাশা পূরণে ব্যর্থতা, পাশাপাশি গল্পের গতি ও চরিত্রের গভীরতার অভাব, ছবিটিকে মাঝারি রেটিংয়ে সীমাবদ্ধ করেছে।
যদি দর্শকরা গ্লেন পাউয়েলের ক্যারিয়ারের নতুন দিক দেখতে চান, তবে এই চলচ্চিত্রটি সীমিত সন্তোষজনক হতে পারে। ভবিষ্যতে আরও সুনির্দিষ্ট স্ক্রিপ্ট ও দৃঢ় পরিচালনার সঙ্গে তিনি নতুন ধারায় সফলতা অর্জন করতে পারেন।



