32 C
Dhaka
Friday, February 20, 2026
Google search engine
Homeরাজনীতিউত্তর কোরিয়া সরকার ঐতিহাসিক রাজনৈতিক সম্মেলন উদ্বোধন, কিম জং উন প্রধান ভাষণ...

উত্তর কোরিয়া সরকার ঐতিহাসিক রাজনৈতিক সম্মেলন উদ্বোধন, কিম জং উন প্রধান ভাষণ দেন

শুক্রবার উত্তর কোরিয়া সরকারের শাসনাধীন দল তার পাঁচ বছর পরপর অনুষ্ঠিত হয় এমন ঐতিহাসিক রাজনৈতিক সম্মেলন শুরু করেছে। এই অনুষ্ঠানের উদ্বোধনী ভাষণ শীর্ষ নেতা কিম জং উন পিয়ংইংয়ের বিশাল হাউস অব কালচার ভেন্যুতে প্রদান করেন। রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমের মতে, এই সম্মেলন দেশের নীতি‑নির্ধারণের প্রধান মঞ্চ হিসেবে কাজ করবে এবং পরবর্তী দিনগুলোতে গুরুত্বপূর্ণ ঘোষণার সূত্রপাতের সম্ভাবনা রয়েছে। সম্মেলনের সময়সূচি পাঁচ দিন পর্যন্ত বিস্তৃত, যেখানে অর্থনৈতিক, সামাজিক ও নিরাপত্তা সংক্রান্ত বিষয়গুলো বিশদভাবে আলোচনা হবে।

এই ধরনের সম্মেলন উত্তর কোরিয়া সরকারের শাসন কাঠামোর মধ্যে নীতি‑নির্ধারণের সর্বোচ্চ স্তর হিসেবে বিবেচিত হয় এবং প্রতি পাঁচ বছর পরপর অনুষ্ঠিত হয়। পূর্ববর্তী সমাবেশগুলোতে জাতীয় উন্নয়ন পরিকল্পনা, সামরিক কৌশল এবং পারমাণবিক নীতি সংক্রান্ত মূল সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়েছে। তাই এই বছরের সম্মেলনকে দেশীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকদের দৃষ্টিতে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

কিম জং উন উদ্বোধনী ভাষণে উল্লেখ করেন যে, বর্তমান সময়ে দলকে অর্থনৈতিক উন্নয়ন ত্বরান্বিত করা এবং জনগণের জীবনমান উন্নত করার জরুরি দায়িত্বের মুখোমুখি হতে হবে। তিনি দেশের সব ক্ষেত্র—শিল্প, কৃষি, শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসহ—দ্রুত পরিবর্তনের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেন এবং তা বাস্তবায়নের জন্য কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের দৃঢ় সংকল্পের কথা বলেন।

বক্তৃতার শেষে কিম জং উন স্পষ্টভাবে জানিয়ে দেন যে, এই সম্মেলনের মাধ্যমে উত্তর কোরিয়া সরকারের পারমাণবিক সক্ষমতা বৃদ্ধির জন্য নির্দিষ্ট কৌশল ও সময়সূচি উপস্থাপন করা হবে। পূর্বে কেবলমাত্র সাধারণ প্রতিশ্রুতি দেওয়া হলেও, এবার বিস্তারিত পরিকল্পনা প্রকাশের ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে, যা আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা বিশ্লেষকদের দৃষ্টিতে নতুন উদ্বেগের কারণ হতে পারে।

সম্মেলনের সমাপ্তি সাধারণত বিশাল সামরিক প্যারেড এবং সর্বাধুনিক অস্ত্রের প্রদর্শনীর মাধ্যমে হয়, যা দেশীয় গর্ব ও বাহ্যিক শক্তি প্রদর্শনের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। বিশেষজ্ঞরা আশা করছেন যে, এইবারও নতুন ধরনের রকেট, ট্যাঙ্ক এবং বিমানবাহিনীর প্রদর্শনী অন্তর্ভুক্ত হবে, যদিও সুনির্দিষ্ট তালিকা এখনো প্রকাশিত হয়নি।

উত্তর কোরিয়া সরকারের গোপনীয়তা ও বিচ্ছিন্ন নীতি বিবেচনা করে, এই সম্মেলনকে বিশ্বজুড়ে কূটনৈতিক ও নিরাপত্তা বিশ্লেষকদের জন্য একমাত্র সরাসরি জানার সুযোগ হিসেবে দেখা হয়। প্রতিবেশী দেশগুলো এবং যুক্তরাষ্ট্রসহ প্রধান শক্তিগুলো এই সময়ে দেশের অভ্যন্তরীণ নীতি ও ভবিষ্যৎ কৌশল সম্পর্কে সতর্ক দৃষ্টিপাত করছে।

উত্তর কোরিয়ান স্টাডিজ বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাক্তন সভাপতি ইয়াং মু-জিন উল্লেখ করেন যে, দীর্ঘমেয়াদী আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা সত্ত্বেও উত্তর কোরিয়া সরকার অর্থনৈতিক চাপের মুখে পারমাণবিক অগ্রগতি এবং চীন ও রাশিয়ার সঙ্গে দৃঢ় কূটনৈতিক সম্পর্ককে গর্বের বিষয় হিসেবে তুলে ধরছে। তিনি বলেন, এই ধরনের প্রকাশনা দেশীয় স্বনির্ভরতা ও আন্তর্জাতিক অবস্থান শক্তিশালী করার উদ্দেশ্য বহন করে।

সম্মেলনে শীর্ষ স্তরের পার্টি নেতারা সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করেন এবং আবাসন নির্মাণ, শিল্প আধুনিকায়ন, কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধি এবং সামরিক পরিকল্পনা সহ বিভিন্ন বিষয়ের ওপর নির্দেশনা প্রদান করেন। এ ধরনের সমন্বিত আলোচনা দেশের সামগ্রিক উন্নয়ন কৌশলকে একত্রিত করে একটি সমন্বিত নীতি কাঠামো গড়ে তোলার লক্ষ্য রাখে।

বিশ্লেষকরা অনুমান করছেন যে, সম্মেলনের ফলাফল উত্তর কোরিয়া সরকারের ভবিষ্যৎ অভ্যন্তরীণ নীতি এবং আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক সম্পর্কের দিকনির্দেশনা নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। বিশেষ করে পারমাণবিক পরিকল্পনার স্পষ্টতা আঞ্চলিক নিরাপত্তা সমীকরণে নতুন পরিবর্তন আনতে পারে এবং সম্ভাব্য আলোচনার ভিত্তি গঠন করতে পারে।

সম্মেলন শেষ হওয়ার পর কয়েক দিনের মধ্যে বিস্তারিত নীতি নথি প্রকাশের সম্ভাবনা রয়েছে, যা দেশীয় অর্থনৈতিক সংস্কার, সামাজিক কল্যাণ এবং নিরাপত্তা কৌশল সম্পর্কে স্পষ্ট দিকনির্দেশনা

৬৫/১০০ ১টি সোর্স থেকে যাচাইকৃত।
আমরা ছাড়াও প্রকাশ করেছে: বিডি প্রতিদিন
রাজনীতি প্রতিবেদক
রাজনীতি প্রতিবেদক
AI-powered রাজনীতি content writer managed by NewsForge
RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments