ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশন (ডিএসসিসি) মশা নিধনের জন্য একটি বিশেষ কমিটি গঠন করেছে। কমিটি ২০ নভেম্বর বৃহস্পতিবার বিকাল ৩টা থেকে ৫টা পর্যন্ত ২০ নম্বর ওয়ার্ডের বিভিন্ন এলাকায় মাঠপর্যায়ে কাজের বাস্তবতা যাচাই করবে। লক্ষ্য হল মশা ওষুধের কার্যকারিতা এবং নিধন কর্মীর উপস্থিতি নিশ্চিত করা।
মশা নিধন ডিএসসিসির প্রধান দায়িত্বের মধ্যে রয়েছে। সাম্প্রতিক মাসে শহরের বিভিন্ন অংশে মশার সংখ্যা অস্বাভাবিকভাবে বেড়েছে, যা নির্দেশ করে যে পরিকল্পিত কাজগুলো প্রত্যাশিত ফল দিচ্ছে না। যদিও কর্পোরেশন দাবি করে যে নিয়মিত স্প্রে কাজ চলছে, তবে মশা কেন এখনও প্রচুর রয়েছে তা নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে।
এই উদ্বেগের প্রতিক্রিয়ায় ডিএসসিসি একটি স্বাধীন কমিটি গঠন করেছে। কমিটি মাঠে গিয়ে সরাসরি পর্যবেক্ষণ করবে, ওষুধের প্রয়োগের পর মশা মারা যাচ্ছে কিনা তা পরীক্ষা করবে এবং নিধন কর্মীরা নির্ধারিত সময়ে কাজ করছেন কিনা তা যাচাই করবে।
কমিটির কাজের অংশ হিসেবে ডিএসসিসি স্বাস্থ্য বিভাগ থেকে জানানো হয়েছে যে বর্তমানে মশা নিধনের জন্য মোট ১,০৩০ জন কর্মী নিয়োজিত রয়েছে। প্রতিটি ওয়ার্ডে সকালবেলায় সাতজন এবং বিকেলে ছয়জন কর্মী মশা নিধনের কাজ সম্পন্ন করার নির্দেশ রয়েছে। এই নিয়মিত কর্মসূচি অনুযায়ী, প্রতিটি ওয়ার্ডে দিনে মোট তেরজন কর্মী কাজ করা উচিত।
তবে মাঠে নাগরিকদের অভিজ্ঞতা এবং পর্যবেক্ষণ ভিন্ন দৃষ্টিকোণ প্রকাশ করে। অনেক এলাকায় স্প্রে কাজের সময়সূচি মেনে চলা দেখা যায় না, এবং মশা নিধনের জন্য নির্ধারিত কর্মী উপস্থিতি অনুপস্থিত। এই পার্থক্য কমিটিকে কাজের বাস্তবতা মূল্যায়নে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য সরবরাহ করবে।
ডিএসসিসির প্রশাসনিক কাঠামোতে সাম্প্রতিক সময়ে বেশ কয়েকবার প্রশাসক পরিবর্তন হয়েছে। নির্বাচিত মেয়র ও কাউন্সিলরের অনুপস্থিতি তদারকি ব্যবস্থাকে দুর্বল করেছে। এছাড়া, কিছু নিধন কর্মী রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে দায়িত্ব পালনে অনিচ্ছুকতা দেখাচ্ছেন, যার ফলে তাদের কাজের গুণগত মান হ্রাস পেয়েছে।
শহরে মশার সংখ্যা গত এক মাসে ৪০ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে বলে অনুমান করা হচ্ছে। তদুপরি, তিন ঘণ্টা আগে রিপোর্ট করা হয়েছে যে প্রতি ঘণ্টায় প্রায় ৮৫০টি কামড়ের ঘটনা ঘটেছে, যা জনস্বাস্থ্যের জন্য উদ্বেগজনক পরিস্থিতি তৈরি করেছে।
রিপোর্টার বৃহস্পতিবার বিকাল ৩টা থেকে ৫টা পর্যন্ত ২০ নম্বর ওয়ার্ডের অধীনে অবস্থিত জাতীয় প্রেসক্লাব, সেগুনবাগিচা, বিজয়নগর, নয়াপল্টন এবং কাকরাইল এলাকার প্রধান সড়ক ও গলিতে গিয়ে পর্যবেক্ষণ চালিয়ে গেছেন। এই সময়ে কোনো মশা নিধন কর্মীকে দেখা যায়নি।
ডিএসসিসি অনুযায়ী, রমজান মাসে বিকাল ৩টা থেকে ইফতারের আগে পর্যন্ত প্রতিটি ওয়ার্ডে ছয়জন কর্মী মশা নিধনের কাজ করবে। তবে ২০ নম্বর ওয়ার্ডের বিভিন্ন এলাকায় দুই ঘণ্টা ঘুরেও কোনো কর্মী পাওয়া যায়নি, যা পরিকল্পিত সময়সূচি ও বাস্তব কার্যক্রমের মধ্যে ফাঁক নির্দেশ করে।
অধিক তথ্যের জন্য ডিএসসিসি অঞ্চল‑১ এর সহকারী স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ফারিয়া ফয়েজের সঙ্গে কথা বলা হয়। তিনি জানান, সাম্প্রতিক সময়ে সেক্রেটারিয়েট এলাকায় মশা নিধনের কাজকে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে। ফলে ওই এলাকায় স্প্রে কাজ বেশি হয়েছে, অন্য কিছু এলাকায় তুলনামূলকভাবে কম স্প্রে করা হয়েছে। তবে তিনি উল্লেখ করেন যে, ওয়ার্ডভিত্তিক কাজের পরিকল্পনা এখনও চালু রয়েছে।
কমিটি এখন থেকে নিয়মিতভাবে মাঠপর্যায়ে যাচাই করবে, মশা নিধনের কার্যকারিতা এবং কর্মীর উপস্থিতি নিশ্চিত করবে। তদুপরি, পর্যবেক্ষণ ফলাফলের ভিত্তিতে ডিএসসিসি কর্তৃপক্ষকে কর্ম পরিকল্পনা পুনর্বিবেচনা এবং তদারকি শক্তিশালী করার সুপারিশ করা হবে।
মশা নিধন কাজের ধারাবাহিকতা এবং সঠিক বাস্তবায়ন জনস্বাস্থ্যের জন্য অপরিহার্য। কমিটির পর্যবেক্ষণ ফলাফল কীভাবে নীতি পরিবর্তনে প্রভাব ফেলবে, তা ভবিষ্যতে দেখা যাবে। নাগরিকদের নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করতে কী ধরনের পদক্ষেপ নেওয়া উচিত, তা নিয়ে আলোচনা অব্যাহত থাকবে।



