বাণিজ্য মন্ত্রী খন্দকার আবদুল মুকতাদির আজ সকালবেলা সিলেটের ওসমানি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করে রমজান মাসে বাজারের দাম স্থিতিশীল রাখা, রপ্তানি পণ্যের বৈচিত্র্য বৃদ্ধি এবং প্রযুক্তি‑নির্ভর কর্মসংস্থান সৃষ্টিকে মূল অগ্রাধিকার হিসেবে ঘোষণা করেন।
এটি মুকতাদিরের সিলেট‑১ নির্বাচনী এলাকা, যেখানে তিনি প্রথমবারের মতো বাণিজ্য, শিল্প, বস্ত্র ও জুট মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব গ্রহণের পর গমন করেন। রমজান শুরু হওয়ার ঠিক এক দিন আগে দায়িত্ব গ্রহণের ফলে মন্ত্রণালয়ের নতুন নীতি প্রয়োগের জন্য কোনো প্রস্তুতি সময় না থাকায় তিনি সীমিত সময়ের মধ্যে কাজ করতে বাধ্য হয়েছেন।
মন্ত্রীর মতে, রমজানের পূর্বে দায়িত্ব গ্রহণের ফলে নতুন কোনো ব্যবস্থা তৎক্ষণাৎ চালু করা সম্ভব হয়নি, তবে বর্তমান সরবরাহের পরিমাণ যথেষ্ট বলে তিনি আত্মবিশ্বাস প্রকাশ করেন। তিনি উল্লেখ করেন, বর্তমান সময়ে চাল, গম, তেল ইত্যাদি মৌলিক পণ্যের মজুদ পর্যাপ্ত, ফলে মূল্যের অস্থিরতা দেখা দেওয়ার কোনো কারণ নেই।
বাজারের স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে সরবরাহের পর্যাপ্ততা গুরুত্বপূর্ণ, এ কথা মুকতাদির জোর দিয়ে বলেন যে সরকার বাজারের দৃষ্টিতে নিবিড় নজর রাখবে এবং প্রয়োজনীয় ক্ষেত্রে হস্তক্ষেপ করবে। তিনি স্থানীয় ব্যবসায়ী ও ভোক্তাদের আশ্বাস দেন যে রমজান মাসে দাম বাড়ার ঝুঁকি কম থাকবে।
একই সময়ে রপ্তানি ক্ষেত্রের কাঠামোগত দুর্বলতা তুলে ধরে মন্ত্রী জানান, দেশের রপ্তানি পণ্যের ৮৫ % মাত্র একটি পণ্যের ওপর নির্ভরশীল, যা গত চার‑পাঁচ মাসে রপ্তানি বৃদ্ধিতে নেতিবাচক প্রবণতা সৃষ্টি করেছে। একক পণ্যের ওপর অতিরিক্ত নির্ভরতা আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের অস্থিরতা মোকাবেলায় বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
মুকতাদির রপ্তানি পণ্যের বৈচিত্র্যকরণকে দীর্ঘমেয়াদী অর্থনৈতিক উন্নয়নের মূল চাবিকাঠি হিসেবে উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, নতুন পণ্য শাখা উন্মোচন, মানোন্নয়ন এবং বাজার প্রবেশের সুযোগ বাড়াতে নীতি সমর্থন, প্রণোদনা এবং অবকাঠামো উন্নয়ন পরিকল্পনা করা হবে। এ ধরনের পদক্ষেপ রপ্তানি আয়কে একাধিক পণ্যের মধ্যে সমানভাবে বিতরণ করতে সহায়তা করবে।
সিলেটের উন্নয়ন দৃষ্টিকোণ থেকে মন্ত্রী প্রযুক্তি ও উদ্ভাবনের মাধ্যমে কর্মসংস্থান সৃষ্টির ওপর জোর দেন। তিনি আইটি‑সম্পর্কিত পেশা বৃদ্ধি, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI) কেন্দ্র স্থাপন এবং স্টার্ট‑আপ ইকোসিস্টেম গড়ে তোলার পরিকল্পনা ঘোষণা করেন। স্থানীয় যুবকদের জন্য প্রশিক্ষণ ও ইনকিউবেশন সুবিধা প্রদান করে সিলেটকে ডিজিটাল হাবে রূপান্তর করার লক্ষ্য তিনি তুলে ধরেন।
মন্ত্রীর মন্তব্যে উল্লেখ করা হয় যে প্রতিবেশী ভারত ইতিমধ্যে ডিজিটাল অবকাঠামোতে বিশাল বিনিয়োগ করেছে, যা আঞ্চলিক মানদণ্ড স্থাপন করেছে। বাংলাদেশ সরকারও একই দৃষ্টিকোণ থেকে দক্ষ কর্মশক্তি গঠন, বেসরকারি বিনিয়োগ আকর্ষণ এবং গবেষণা‑উন্নয়ন কেন্দ্রের মাধ্যমে প্রযুক্তি‑নির্ভর অর্থনীতির দিকে অগ্রসর হতে চায়।
সিলেটের ব্যবসায়ী ও যুবসমাজের সঙ্গে সংক্ষিপ্ত আলোচনার পর মুকতাদির রমজান মাসে বাজারের দাম স্থিতিশীল রাখা, রপ্তানি বৈচিত্র্যকরণ এবং প্রযুক্তি‑নির্ভর কর্মসংস্থান সৃষ্টির জন্য সরকারের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করে যান। তিনি ভবিষ্যতে নিয়মিত পর্যবেক্ষণ ও প্রয়োজনীয় হস্তক্ষেপের মাধ্যমে এই অগ্রাধিকারগুলো বাস্তবায়ন করবেন বলে প্রতিশ্রুতি দেন।



