একজন চীনা সামাজিক মিডিয়া ইনফ্লুয়েন্সার সম্প্রতি লাইভ স্ট্রিমিংয়ের সময় প্রযুক্তিগত ত্রুটির শিকার হন, যার ফলে তার ব্যবহৃত বিউটি ফিল্টার অচল হয়ে বাস্তব মুখমণ্ডল প্রকাশ পায়। ঘটনাটি ঘটার সঙ্গে সঙ্গেই তিনি কয়েক সেকেন্ডের মধ্যে প্রায় এক লক্ষ চল্লিশ হাজার অনুসারী হারিয়েছেন বলে অনুমান করা হয়। যদিও এই সংখ্যার সঠিকতা নিশ্চিত করা যায়নি, তবু বিষয়টি নেটওয়ার্কে দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে।
ফিল্টারটি মূলত রিয়েল-টাইমে ত্বকের রঙ, মুখের গঠন এবং চুলের রঙ সামঞ্জস্য করার জন্য ব্যবহৃত হয়, তবে লাইভের মাঝখানে সফটওয়্যারের অস্থায়ী ব্যাঘাতের ফলে সেটি স্বয়ংক্রিয়ভাবে বন্ধ হয়ে যায়। এই মুহূর্তে ইনফ্লুয়েন্সারের মুখের প্রকৃত রঙ ও বৈশিষ্ট্যগুলো দর্শকদের সামনে প্রকাশ পায়, যা তার পূর্বের ডিজিটাল চেহারার থেকে উল্লেখযোগ্যভাবে ভিন্ন ছিল।
অনুসারী হ্রাসের তথ্যের কোনো সরাসরি প্রমাণ না থাকলেও, সামাজিক মিডিয়া বিশ্লেষণ টুলের মাধ্যমে কিছু অনুমান করা হয়েছে। কিছু ব্যবহারকারী মন্তব্যে উল্লেখ করেছেন যে, লাইভের পরপরই তাদের ফিডে ইনফ্লুয়েন্সারের পোস্টের দৃশ্যমানতা কমে গিয়েছিল এবং নতুন অনুসারী যোগ হওয়ার হার হ্রাস পেয়েছে। তবে এই ডেটা এখনও যাচাইয়ের পর্যায়ে রয়েছে এবং কোনো অফিসিয়াল সূত্র থেকে নিশ্চিতকরণ পাওয়া যায়নি।
ইন্টারনেট ব্যবহারকারীদের মধ্যে প্রতিক্রিয়া মিশ্র ছিল। কিছু নেটিজেন ঘটনাটিকে প্রতারণা হিসেবে চিহ্নিত করে, ইনফ্লুয়েন্সারের অ্যাকাউন্ট বন্ধের দাবি তুলেছেন। তারা যুক্তি দেন যে, ফিল্টার ব্যবহার করে ভক্তদের ভুল ধারণা তৈরি করা অনৈতিক এবং প্ল্যাটফর্মের নীতিমালার বিরোধী। অন্যদিকে, অধিকাংশ মন্তব্যকারী ইনফ্লুয়েন্সারের প্রকৃত চেহারাকে প্রশংসা করেছেন, উল্লেখ করেছেন যে ফিল্টার ছাড়া তিনি আরও প্রাণবন্ত ও স্বাভাবিক দেখাচ্ছেন।
একজন ব্যবহারকারী মন্তব্যে লিখেছেন, “ফিল্টার ছাড়া তার মুখের রঙ ও হাসি আরও উজ্জ্বল, প্রকৃত স্বভাবের ছাপ দেয়।” অন্য এক মন্তব্যে বলা হয়েছে, “এমন অবাস্তব ফিল্টারকে বাস্তব মনে করা কঠিন, আসল রূপে তিনি আরও আকর্ষণীয়।” এই ধরনের ইতিবাচক প্রতিক্রিয়া দেখায় যে, অনেক ভক্ত ডিজিটাল সাজসজ্জার চেয়ে স্বাভাবিক সৌন্দর্যকে বেশি মূল্য দেন।
বিউটি ফিল্টার ব্যবহার একটি বৈশ্বিক প্রবণতা, বিশেষ করে এশিয়ার তরুণ প্রজন্মের মধ্যে জনপ্রিয়। তবে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে এই প্রযুক্তির অতিরিক্ত ব্যবহার নিয়ে সমালোচনা বাড়ছে, কারণ এটি বাস্তব চেহারার সঙ্গে তুলনা করে আত্মসম্মান ও আত্মবিশ্বাসের সমস্যার সৃষ্টি করতে পারে। ইনফ্লুয়েন্সারদের ক্ষেত্রে, ফিল্টার ব্যবহার করে গড়ে তোলা আদর্শ চিত্র কখনও কখনও ভক্তদের প্রত্যাশা ও বাস্তবতার মধ্যে ফাঁক তৈরি করে।
এই ঘটনার মাধ্যমে ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে স্বচ্ছতার গুরুত্ব পুনরায় উদ্ভাসিত হয়েছে। ব্যবহারকারীরা এখন আরও সতর্কভাবে কন্টেন্টের সত্যতা যাচাই করতে চায় এবং ইনফ্লুয়েন্সারদের কাছ থেকে স্বাভাবিকতা বজায় রাখার আহ্বান জানাচ্ছে। সামাজিক মিডিয়া কোম্পানিগুলোরও দায়িত্ব রয়েছে যে, ফিল্টার ব্যবহারের ক্ষেত্রে স্পষ্ট নীতি নির্ধারণ করে ব্যবহারকারীদের জানাতে হবে কখন এবং কীভাবে এই প্রযুক্তি প্রয়োগ করা হচ্ছে।
অনলাইন উপস্থিতি বজায় রাখতে চাওয়া ইনফ্লুয়েন্সারদের জন্য এই ঘটনা একটি সতর্কবার্তা হতে পারে। ফিল্টার ছাড়া নিজের স্বভাবিক রূপে আত্মবিশ্বাসী হওয়া এবং ভক্তদের সঙ্গে প্রকৃত সংযোগ গড়ে তোলা দীর্ঘমেয়াদে বেশি টেকসই ফল দেয়। একই সঙ্গে, ভক্তদেরও উচিত অনলাইন কন্টেন্টকে সমালোচনামূলক দৃষ্টিতে দেখা এবং অতিরিক্ত সাজসজ্জা থেকে উদ্ভূত মানসিক চাপ থেকে নিজেকে রক্ষা করা।
সামাজিক মিডিয়ার দ্রুত পরিবর্তনশীল পরিবেশে, বাস্তবতা ও ডিজিটাল রূপের মধ্যে সঠিক ভারসাম্য রক্ষা করা সকলের জন্যই গুরুত্বপূর্ণ। ইনফ্লুয়েন্সারদের উচিত নিজের স্বাভাবিক চেহারাকে গর্বের সঙ্গে উপস্থাপন করা, আর ব্যবহারকারীদের উচিত কন্টেন্টের পেছনের প্রযুক্তিগত দিকগুলোকে বুঝে গ্রহণ করা। এভাবে ডিজিটাল জগতে স্বচ্ছতা, আত্মবিশ্বাস এবং সুস্থ মানসিকতা একসঙ্গে বিকাশ পাবে।



