হামাস গাজা, দখলকৃত পশ্চিম তট এবং সংগঠনের অন্যান্য সদস্যদের মধ্যে নতুন অন্তর্বর্তী নেতা নির্বাচন করছে। ভোটদান গাজা উপত্যকা, পশ্চিম তটের দখলকৃত অংশ এবং হামাসের বিদেশি শাখায় সমানভাবে চলছে। এই নির্বাচন গৃহযুদ্ধের পরবর্তী শাসন কাঠামো ও পুনর্নির্মাণের দিকনির্দেশ নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
ভোটদান গাজা উপত্যকা জুড়ে গোপনীয় পদ্ধতিতে সম্পন্ন হচ্ছে, যেখানে ভোটাররা গোপন কাগজপত্র বা ডিজিটাল পদ্ধতিতে তাদের পছন্দ প্রকাশ করছে। পশ্চিম তট ও অন্যান্য স্থানে ভোটের অগ্রগতি এখনও স্পষ্ট নয়, তবে গাজা থেকে ভোট সংগ্রহ শেষ হওয়ার কথা জানানো হয়েছে।
নতুন নেতা নির্বাচিত হলে তিনি এক বছরের জন্য দায়িত্ব পালন করবেন। এই মেয়াদ শেষের পর পুনর্চয়নের সম্ভাবনা রয়েছে, যা গাজার রাজনৈতিক পরিবেশে নতুন গতিপথ তৈরি করতে পারে।
হামাস গাজা উপত্যকার শাসন সংস্থা হিসেবে কাজ করে এবং সাম্প্রতিক বছরগুলোতে পশ্চিম তটে তার সমর্থন বাড়ছে। তবে ইজরায়েলি সামরিক বাহিনী এবং ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষের নিরাপত্তা বাহিনীর কঠোর নজরদারির কারণে সেখানে তার কার্যক্রম সীমিত।
অক্টোবর মাসে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সমর্থনে গাজায় একটি স্থগিত যুদ্ধের চুক্তি কার্যকর হয়েছে। এই চুক্তি অনুসারে যুদ্ধবিরতি বজায় রাখতে এবং মানবিক সহায়তা পৌঁছাতে আন্তর্জাতিক প্রচেষ্টা চালু রয়েছে। তবে চুক্তির পরবর্তী ধাপগুলো নিয়ে আলোচনার গতি এখনও ধীর।
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রস্তাবিত পরিকল্পনা অনুযায়ী ভবিষ্যতে গাজার শাসন থেকে হামাসকে বাদ দেওয়া হবে। শাসনকাজ শেষ পর্যন্ত ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষের হাতে হস্তান্তর করা হবে, তবে তা বাস্তবায়নের জন্য কর্তৃপক্ষকে সংস্কারমূলক পদক্ষেপ নিতে হবে।
হামাসের সর্বোচ্চ নেতৃত্বের শূন্যতা অক্টোবর ২০২৪-এ ইজরায়েলি সামরিক বাহিনীর আক্রমণে ইয়াহ্যা সিনওয়ারের মৃত্যুর পর শুরু হয়। একই বছর জুলাই মাসে ইজরায়েলি আক্রমণে ইসমাইল হানিয়েহ এবং সামরিক প্রধান মোহাম্মদ দেইফও নিহত হন। এই ধারাবাহিক হত্যাকাণ্ডের ফলে সংগঠনের শীর্ষস্থানীয় পদগুলো শূন্যে রয়ে যায়।
নেতৃত্বের শূন্যতা পূরণে হামাস একটি অন্তর্বর্তী কমিটি গঠন করে, যার প্রধান হিসেবে কাতারভিত্তিক মোহাম্মদ দরবিশকে নিয়োগ করা হয়েছে। দরবিশের নেতৃত্বে কমিটি সংগঠনের দৈনন্দিন কার্যক্রম এবং নির্বাচনের তদারকি করছে।
হামাসের অভ্যন্তরীণ নিয়ম অনুযায়ী নতুন নেতা নির্বাচন করার প্রক্রিয়া কঠোরভাবে গোপনীয় এবং নির্দিষ্ট সময়সীমার মধ্যে সম্পন্ন হয়। নির্বাচনের ফলাফল প্রকাশিত হলে তা গাজার রাজনৈতিক দৃশ্যপটে নতুন দিকনির্দেশনা প্রদান করবে।
এই নির্বাচনের ফলাফল গাজার পুনর্নির্মাণ, মানবিক সহায়তা বিতরণ এবং ভবিষ্যৎ শাসন কাঠামো নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলবে। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের দৃষ্টিতে গাজার স্থিতিশীলতা ও শান্তি বজায় রাখতে নতুন নেতৃত্বের ভূমিকা বিশেষভাবে লক্ষ্য করা হবে।
গাজার জনগণ দীর্ঘমেয়াদী সংঘাতের পরিণতিতে কষ্টসাধ্য অবস্থায় রয়েছে, এবং নতুন অন্তর্বর্তী নেতার নির্বাচনের মাধ্যমে তারা শাসন ও পুনর্গঠনের নতুন আশা পেতে পারে। তবে নির্বাচনের স্বচ্ছতা ও অন্তর্ভুক্তি নিশ্চিত না হলে রাজনৈতিক অস্থিরতা বাড়তে পারে।
হামাসের এই ভোট প্রক্রিয়া গাজার ভবিষ্যৎ গঠন, আন্তর্জাতিক আলোচনার দিকনির্দেশ এবং ফিলিস্তিনি-ইজরায়েলি সংঘাতের পরবর্তী পর্যায়ে কী ভূমিকা রাখবে তা নির্ধারণের মূল চাবিকাঠি হয়ে দাঁড়াবে।



