আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (IMF) বৃহস্পতিবার (১৯ ফেব্রুয়ারি) ভেনেজুয়েলা সরকারের বর্তমান অর্থনৈতিক ও মানবিক অবস্থা ‘বেশ ভঙ্গুর’ হিসেবে চিহ্নিত করেছে। সংস্থার মুখপাত্র জুলি কোজ্যাক স্থানীয় সময়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে একটি সংক্ষিপ্ত ব্রিফিংয়ে এই সতর্কতা প্রকাশ করেন।
সংস্থার বিশ্লেষণে উল্লেখ করা হয়েছে যে দেশটি বর্তমানে তিন অঙ্কের মুদ্রাস্ফীতি ও স্থানীয় মুদ্রার তীব্র অবমূল্যায়নের মুখোমুখি। এই দুইটি উপাদানই বর্তমান সংকটের মূল চালিকাশক্তি হিসেবে বিবেচিত।
জুলি কোজ্যাক জানিয়েছেন যে ২০১৯ সাল থেকে ভেনেজুয়েলা সরকারের সঙ্গে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের কোনো আনুষ্ঠানিক চুক্তি না থাকলেও, সংস্থা দেশটির অর্থনৈতিক সূচকগুলোকে ঘনিষ্ঠভাবে পর্যবেক্ষণ করছে। পুনরায় সম্পর্ক স্থাপনের সিদ্ধান্ত শেষ পর্যন্ত সদস্য দেশগুলোর সম্মতি ও আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সমর্থনের ওপর নির্ভরশীল।
২০২৬ সালের বর্তমান পরিস্থিতি বিশ্লেষণ করলে দেখা যায় ভেনেজুয়েলা অর্থনীতি গভীর কাঠামোগত সংকটে নিমজ্জিত। বহু বছর ধরে অব্যাহত উচ্চ মুদ্রাস্ফীতি এবং জিডিপি হ্রাসের ফলে দেশীয় বাজারে অস্থিরতা বেড়েছে।
গত মাসে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে অপহরণ করার পর রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন ঘটেছে। এই ঘটনা বিনিয়োগকারীদের আস্থা হ্রাসের পাশাপাশি আর্থিক বাজারে অস্থিরতা বাড়িয়ে তুলেছে।
আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের তথ্য অনুযায়ী ভেনেজুয়েলা সরকারের সরকারি ঋণ বর্তমানে জিডিপির প্রায় ১৮০ শতাংশে পৌঁছেছে। এই উচ্চ ঋণভার দেশের আর্থিক স্থিতিশীলতা ও ঋণ পুনর্গঠন প্রক্রিয়াকে জটিল করে তুলছে।
দ্রষ্টব্য, ২০০৪ সালের পর থেকে ভেনেজুয়েলা সরকারের কোনো আনুষ্ঠানিক আর্থিক মূল্যায়ন করা হয়নি এবং গত দুই দশকে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের সঙ্গে কোনো লেনদেন রেকর্ড করা হয়নি। এই দীর্ঘ বিরতি দেশীয় নীতি ও আন্তর্জাতিক সহযোগিতার ঘাটতি নির্দেশ করে।
বাজার বিশ্লেষকরা উল্লেখ করছেন যে উচ্চ মুদ্রাস্ফীতি ও মুদ্রা অবমূল্যায়ন স্থানীয় ব্যবসার লাভজনকতা হ্রাসের পাশাপাশি রপ্তানি সক্ষমতাকে ক্ষতিগ্রস্ত করেছে। একই সঙ্গে, ঋণভার বৃদ্ধি বিদেশি বিনিয়োগের প্রবাহকে বাধাগ্রস্ত করে, ফলে কর্মসংস্থান ও উৎপাদনশীলতা হ্রাস পায়।
অবস্থা উন্নয়নের জন্য ভেনেজুয়েলা সরকারকে আর্থিক শৃঙ্খলা পুনঃপ্রতিষ্ঠা, মুদ্রা নীতি স্থিতিশীল করা এবং সামাজিক সেবার ঘাটতি দূর করার জন্য ত্বরিত পদক্ষেপ নিতে হবে। আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের সঙ্গে পুনরায় সংলাপ শুরু করা হলে ঋণ পুনর্গঠন ও তহবিল প্রবাহে সহায়তা পাওয়া সম্ভব হতে পারে।
তবে, পুনরায় সংযোগের শর্ত হিসেবে সদস্য দেশগুলোর নীতি সমর্থন ও আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের আর্থিক সহায়তা নিশ্চিত করা প্রয়োজন। এই প্রক্রিয়া না হলে দেশের অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধার দীর্ঘমেয়াদে বিলম্বিত হতে পারে।
সংক্ষেপে, আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের সতর্কতা ভেনেজুয়েলা সরকারের অর্থনৈতিক ও মানবিক সংকটের তীব্রতা তুলে ধরেছে, যা বিনিয়োগ, মুদ্রা ও ঋণ বাজারে উল্লেখযোগ্য ঝুঁকি সৃষ্টি করছে। ত্বরিত নীতি সংস্কার ও আন্তর্জাতিক সমর্থন ছাড়া পরিস্থিতি আরও খারাপ হতে পারে।



