ইন্ডিয়ান সুপারস্টার যশের নতুন গ্যাংস্টার নাটক “টক্সিক: এ ফেয়ারিটেল ফর গ্রোন‑আপস” এর প্রথম টিজার ১৯ মার্চ ২০২৬ বিশ্বব্যাপী মুক্তির পূর্বে প্রকাশিত হয়েছে। টিজারটি ছবির মেজাজ, সময়কাল এবং মূল থিমের একটি সংক্ষিপ্ত ঝলক দেয়। এই প্রকাশের সঙ্গে সঙ্গে চলচ্চিত্রের প্রচারাভিযান তীব্র গতি পায়।
টিকিটের দায়িত্বে আছেন গীতু মোহনদাস, যিনি ছবির দিকনির্দেশনা ও শৈলীর জন্য পরিচিত। যশ চার বছর পর কেজিএফ: চ্যাপ্টার ২ এর পর আবার বড় পর্দায় ফিরে আসছেন। এই প্রত্যাবর্তনটি তার ভক্তদের মধ্যে বিশেষ উত্তেজনা সৃষ্টি করেছে।
প্রকাশিত টিজারটি মেঘলা ও গম্ভীর পরিবেশে গড়ে উঠেছে, যেখানে সমুদ্রতীরের ধ্বংসাবশেষ এবং উচ্চাকাঙ্ক্ষার ছায়া একত্রে ফুটে ওঠে। দৃশ্যগুলোতে রক্তাক্ত ক্ষমতার উত্থান এবং ভয়ঙ্কর সংঘর্ষের ইঙ্গিত দেখা যায়। টিজারটি ছবির সামগ্রিক টোনকে সূক্ষ্মভাবে প্রকাশ করে, যা দর্শকদের কৌতূহল বাড়িয়ে দেয়।
চিত্রটি গোয়ায় ১৯৪০ থেকে ১৯৭০ দশকের মধ্যে স্থাপিত, যেখানে উপনিবেশিক শাসনের অবসান এবং অপরাধী গোষ্ঠীর উত্থান একসাথে চিত্রিত হয়েছে। এই সময়কালে গোয়ার শান্তিপূর্ণ চেহারার পেছনে গোপন অন্ধকার জগতের উন্মোচন ঘটবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। ছবির নির্মাতা এটিকে “সাভেজ অ্যাকশন‑থ্রিলার সাগা” হিসেবে বর্ণনা করেছেন।
টিজার থেকে স্পষ্ট হয় যে যশের চরিত্র রক্ত, ভয় এবং বিশ্বাসঘাতকতার মাধ্যমে নিজের সাম্রাজ্য গড়ে তুলবে। ধীরে ধীরে উপনিবেশের ছায়া ম্লান হয়ে যায়, আর নতুন অপরাধী নেটওয়ার্ক গড়ে ওঠে। এই গতি ছবির মূল কাহিনীর ভিত্তি গঠন করবে বলে আশা করা হচ্ছে।
চিত্রে যশের সঙ্গে কাজ করছেন কিয়ারা আদবানি, নায়ন্তারা, হুমা কুরেশি, তারা সুতারিয়া এবং রুকমিনি বসন্ত। প্রত্যেক অভিনেতা তাদের নিজস্ব চরিত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে। ক্যাস্টের বৈচিত্র্য ছবির বর্ণনাকে সমৃদ্ধ করবে বলে বিশ্লেষকরা অনুমান করছেন।
প্রযোজনা দায়িত্বে আছেন ভেঙ্কট কে. নারায়ণ এবং যশ নিজেই, যারা কেভিএন প্রোডাকশনস এবং মনস্টার মাইন্ড ক্রিয়েশনসের অধীনে কাজ করছেন। দু’টি প্রোডাকশন হাউসের সমন্বয় ছবির আর্থিক ও সৃজনশীল দিককে শক্তিশালী করবে। এই সহযোগিতা চলচ্চিত্রের গুণমান ও বাজারজাতকরণে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে।
গত কয়েক সপ্তাহে ছবিটি মিডিয়ায় বেশ আলোচিত হয়েছে। যশের জন্মদিনে প্রকাশিত একটি চরিত্র প্রকাশ ভিডিওতে কিছু দর্শকের আপত্তি উঠে আসে এবং আইনি নোটিশের সম্ভাবনা তৈরি হয়। এই ঘটনাটি ছবির প্রচারকে একদিকে তীব্র করে, অন্যদিকে কিছু বিতর্কের সৃষ্টিকর্তা হয়ে দাঁড়ায়।
সাম্প্রতিক সময়ে ছবির সংযুক্ত ইউএই বিতরণকারী ফার্স ফিল্মের ওয়েবসাইটে একটি প্লট সংক্ষিপ্তসার প্রকাশ পায়, যেখানে গল্পের সময়কাল ও মূল থিমের বিশদ বিবরণ দেওয়া হয়েছে। এই প্রকাশনা ছবির গোপনীয়তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে, তবে একই সঙ্গে দর্শকদের মধ্যে আগ্রহ বাড়িয়েছে। বিতরণকারী প্রতিষ্ঠানটি ছবির আন্তর্জাতিক বাজারে প্রবেশের প্রস্তুতি নিচ্ছে।
টক্সিকের বিশ্বব্যাপী থিয়েটার মুক্তি নির্ধারিত হয়েছে ১৯ মার্চ ২০২৬ তারিখে, যা ঈদ, গুড়ি পাদওয়া এবং উগাদি উৎসবের সঙ্গে সমন্বিত। একই সময়ে আদিত্য ধরের “ধুরন্ধর: দ্য রেভেঞ্জ” নামের আরেকটি বড় ছবি মুক্তি পাবে, যা বক্স অফিসে তীব্র প্রতিযোগিতা সৃষ্টি করবে। উভয় ছবির মুক্তি দর্শকদের জন্য একাধিক বিকল্প নিয়ে আসবে।
চিত্রের টিজার এবং সাম্প্রতিক ঘটনার আলোকে শিল্পবিশারদরা আশা প্রকাশ করছেন যে টক্সিক একটি শক্তিশালী গল্প ও ভিজ্যুয়াল অভিজ্ঞতা প্রদান করবে। যশের পুনরায় বড় পর্দায় প্রত্যাবর্তন এবং গীতু মোহনদাসের দিকনির্দেশনা ছবিটিকে বিশেষ আকর্ষণ দেবে। দর্শকরা মার্চের শেষের দিকে এই গ্যাংস্টার মহাকাব্যকে বড় পর্দায় উপভোগ করার জন্য প্রস্তুত।



