ডোনাল্ড ট্রাম্প বৃহস্পতিবার মার্কিন প্রেসিডেন্টের পদে থেকে ফেডারেল সংস্থাগুলিকে অজানা আকাশীয় ঘটনা (UAP) ও ভিনগ্রহী জীবনের সম্পর্কিত নথি সনাক্ত করে প্রকাশের আদেশ দেন। তিনি উল্লেখ করেন, ব্যাপক জনসাধারণের আগ্রহের ফলে এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
ট্রাম্প তার নিজস্ব Truth Social প্ল্যাটফর্মে জানিয়ে বলেন, তিনি যুদ্ধ সচিব এবং অন্যান্য প্রাসঙ্গিক বিভাগকে এই কাজের দায়িত্ব অর্পণ করবেন। নির্দেশে স্পষ্ট করা হয়েছে, সংশ্লিষ্ট নথিগুলোকে চিহ্নিত করে জনসাধারণের কাছে তুলে ধরা হবে।
প্রকাশের আওতায় ভিনগ্রহী জীবন, বহির্জাগতিক সত্তা, অজানা আকাশীয় ঘটনা এবং অজানা উড়ন্ত বস্তু (UFO) সম্পর্কিত সব তথ্য অন্তর্ভুক্ত থাকবে বলে ট্রাম্প উল্লেখ করেন। তিনি যোগ করেন, এই বিষয়গুলো অত্যন্ত জটিল হলেও গুরুত্বপূর্ণ এবং আকর্ষণীয়।
তবে ট্রাম্প স্পষ্ট করেননি, গোপনীয় নথিগুলো সরাসরি জনগণের হাতে যাবে কিনা। তিনি কেবল বলেছিলেন, সব প্রাসঙ্গিক তথ্যের মধ্যে গোপনীয়তা সংক্রান্ত বিষয়গুলোও অন্তর্ভুক্ত হতে পারে।
একই দিনে ট্রাম্পের মন্তব্যে উঠে আসে, তার ডেমোক্র্যাটিক পূর্বসূরি বারাক ওবামা সাম্প্রতিক পডকাস্টে ভিনগ্রহী জীবনের অস্তিত্ব সম্পর্কে কিছু গোপনীয় তথ্য প্রকাশ করেছেন বলে অভিযোগ। ট্রাম্পের মতে, ওবামা এমন তথ্য শেয়ার করেছেন যা গোপনীয় হওয়া উচিত ছিল।
ওবামা তার পডকাস্টে উল্লেখ করেন, ভিনগ্রহী জীবনের অস্তিত্ব সত্য, তবে তিনি সেগুলো দেখেননি এবং সেগুলোকে নেভাডার গোপন সামরিক ঘাঁটি ‘এরিয়া ৫১’ এ সংরক্ষণ করা হয় না। তিনি আরও বলেন, কোনো ভূগর্ভস্থ সুবিধা নেই, যদি থাকে তবে তা একটি বিশাল ষড়যন্ত্রের অংশ হতে পারে।
ট্রাম্প ওবামার এই মন্তব্যকে গোপনীয় তথ্য প্রকাশের গুরুতর লঙ্ঘন হিসেবে চিহ্নিত করেন এবং বলেন, ওবামা বড় ভুল করেছেন। তিনি নির্দিষ্ট করে বলেননি, কোন অংশটি গোপনীয় ছিল, তবে ত্রুটির মাত্রা উল্লেখযোগ্য।
নিজের দৃষ্টিকোণ থেকে ট্রাম্প, যিনি ৭৯ বছর বয়সী, ভিনগ্রহী জীবনের সত্যতা সম্পর্কে অনিশ্চিত থাকেন। তিনি বলেন, “আমি জানি না তারা বাস্তব কিনা।” এভাবে তিনি ব্যক্তিগত বিশ্বাসকে প্রকাশের বাইরে রাখেন।
এ পর্যন্ত কোনো বৈজ্ঞানিক প্রমাণ প্রকাশিত হয়নি, যা পৃথিবীর বাইরে বুদ্ধিমান জীবনের অস্তিত্ব নিশ্চিত করে। আন্তর্জাতিক মহাকাশ সংস্থা ও বিভিন্ন গবেষণা প্রতিষ্ঠান এখনও এ বিষয়ে স্পষ্ট তথ্য প্রদান করেনি।
সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ভিনগ্রহী জীবনের প্রতি জনসাধারণের আগ্রহ পুনরায় উত্থান পেয়েছে, বিশেষ করে মার্কিন সরকার বহু অজানা আকাশীয় ঘটনার তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছে। এই তদন্তের পেছনে সম্ভাব্য প্রতিপক্ষের উন্নত প্রযুক্তি পরীক্ষা করার উদ্বেগ রয়েছে।
ট্রাম্পের এই সিদ্ধান্তের ফলে ভবিষ্যতে সরকারী স্বচ্ছতা ও গোপনীয়তা নিয়ে রাজনৈতিক বিতর্ক তীব্র হতে পারে। নথি প্রকাশের প্রক্রিয়া কীভাবে পরিচালিত হবে, তা পার্লামেন্টীয় তদারকি এবং জনমত গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।



