বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু গাজা অঞ্চলে পুনর্গঠন কাজ শুরু না করার শর্ত হিসেবে হামাসের নিরস্ত্রীকরণ দাবি করেন, যা ১৯ ফেব্রুয়ারি বৃহস্পতিবার ইজরায়েলি সরকারের একটি সামরিক অনুষ্ঠানে টেলিভিশনে সম্প্রচারিত ভাষণে প্রকাশ পায়। একই দিনে যুক্তরাষ্ট্রে গাজা‑সংক্রান্ত প্রথম “শান্তি পর্ষদ” বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়, যেখানে গাজার ভবিষ্যৎ নিরাপত্তা ও পুনর্নির্মাণের মূল দিকগুলো আলোচনা করা হয়।
নেতানিয়াহু টেলিভিশনে জানিয়ে বলেন, ইজরায়েলি সরকার এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে গৃহীত সমঝোতার ভিত্তিতে গাজা পুনর্গঠন কাজের আগে হামাসকে সম্পূর্ণভাবে নিরস্ত্র করা হবে না বলে কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হবে না। তিনি জোর দিয়ে বলেন, গাজার ধ্বংসাবশেষ পরিষ্কার করা, অবকাঠামো পুনর্নির্মাণ এবং মানবিক সহায়তা পৌঁছানোর আগে নিরাপত্তা নিশ্চিত করা প্রয়োজন।
শান্তি পর্ষদ বৈঠকটি যুক্তরাষ্ট্র, কাতার ও মিশ্রের মধ্যস্থতায় গত অক্টোবর মাসে গাজায় দুই বছরব্যাপী যুদ্ধবিরতি চুক্তি স্বাক্ষরের পর গঠিত হয়। এই বোর্ডের কাজ হল গাজার নিরাপত্তা, রাজনৈতিক ও মানবিক দিকগুলো সমন্বয় করা এবং পুনর্গঠন প্রক্রিয়ার জন্য একটি কাঠামো তৈরি করা। বৈঠকে গাজার নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে “আন্তর্জাতিক স্থিতিশীলতা বাহিনী” (আইএসএফ) গঠন ও পরিচালনার সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা করা হয়।
ইজরায়েলি সরকার ইতিমধ্যে গাজা অঞ্চলে কঠোর বিধিনিষেধের প্রস্তাব পেশ করেছে, যার মধ্যে হামাসের কাছ থেকে ছোট আগ্নেয়াস্ত্রসহ সব ধরণের অস্ত্র জব্দ করার ব্যবস্থা অন্তর্ভুক্ত। তবে গাজার দৈনন্দিন প্রশাসন পরিচালনার জন্য গঠিত ফিলিস্তিনি কারিগরি কমিটি কীভাবে নিরস্ত্রীকরণ প্রক্রিয়া পরিচালনা করবে, তা এখনো স্পষ্ট নয়। এই অনিশ্চয়তা গাজার পুনর্গঠন কাজের সময়সূচি ও বাস্তবায়নে বড় প্রভাব ফেলতে পারে।
গাজা প্রশাসন জাতীয় কমিটি (এনসিএজি) ১৫ সদস্যের একটি দল নিয়ে গঠিত, যা শান্তি পর্ষদের তত্ত্বাবধানে কাজ করবে। কমিটির প্রধান আলী শাআত বৈঠকে অংশগ্রহণ করে গাজার পুনর্গঠন ও নিরাপত্তা সংক্রান্ত ইজরায়েলি সরকারের চাহিদা সম্পর্কে তার দৃষ্টিভঙ্গি উপস্থাপন করেন। শাআতের উপস্থিতি গাজার ফিলিস্তিনি নেতৃত্বের আন্তর্জাতিক আলোচনায় সক্রিয় অংশগ্রহণের ইঙ্গিত দেয়।
নেতানিয়াহু ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সমঝোতা অনুসারে, গাজা পুনর্গঠন কাজের আগে হামাসের সম্পূর্ণ নিরস্ত্রীকরণ না হওয়া পর্যন্ত কোনো বড় অবকাঠামো প্রকল্প শুরু করা হবে না। এই শর্তটি গাজার ধ্বংসাবশেষ পরিষ্কার করা, বিদ্যুৎ, পানি ও স্বাস্থ্যসেবা পুনর্নির্মাণের আগে নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য প্রয়োজনীয় বলে বিবেচিত হচ্ছে।
ইজরায়েলি সরকারের প্রস্তাবিত বিধিনিষেধের মধ্যে হামাসের গোপন গুদাম, অস্ত্রশস্ত্র সংরক্ষণস্থল এবং ছোট আগ্নেয়াস্ত্রের জব্দ অন্তর্ভুক্ত। এই পদক্ষেপগুলো গাজার নিরাপত্তা পরিবেশকে স্থিতিশীল করতে এবং আন্তর্জাতিক মানবিক সহায়তা কার্যকরভাবে পৌঁছাতে সহায়তা করবে বলে দাবি করা হয়। তবে গাজার ফিলিস্তিনি প্রশাসন কীভাবে এই বিধিনিষেধ বাস্তবায়ন করবে, তা এখনও অনিশ্চিত।
শান্তি পর্ষদ বৈঠকে গাজার নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য আন্তর্জাতিক স্থিতিশীলতা বাহিনীর গঠন ও পরিচালনা পদ্ধতি নিয়ে বিশদ আলোচনা হয়। এই বাহিনীর কাজ হবে গাজার সীমান্তে নিরাপত্তা রক্ষা, অস্ত্রের প্রবাহ নিয়ন্ত্রণ এবং পুনর্গঠন কাজের সময় নিরাপদ পরিবেশ তৈরি করা। ইজরায়েলি সরকার ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মতে, এই বাহিনীর উপস্থিতি গাজার পুনর্গঠনকে দ্রুততর করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
গাজার পুনর্গঠন কাজের শর্ত হিসেবে হামাসের নিরস্ত্রীকরণ দাবি করা ইজরায়েলি সরকার ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে সমঝোতার ফলাফল। এই শর্ত পূরণ না হলে গাজার ধ্বংসাবশেষ পরিষ্কার, বিদ্যুৎ ও পানির সরবরাহ পুনরুদ্ধার এবং স্বাস্থ্যসেবা সুবিধা পুনর্নির্মাণে বিলম্ব হতে পারে। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের দৃষ্টিতে, গাজার মানবিক সংকটের সমাধানে এই শর্তটি একটি বড় বাধা হিসেবে দেখা হচ্ছে।
বৈঠকের পরবর্তী ধাপ হিসেবে গাজার নিরাপত্তা ও পুনর্গঠন পরিকল্পনা বাস্তবায়নের জন্য আন্তর্জাতিক সমর্থন ও তহবিল সংগ্রহের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরা হয়। ইজরায়েলি সরকার ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সমন্বয়ে গঠিত এই উদ্যোগ গাজার দীর্ঘমেয়াদী স্থিতিশীলতা ও মানবিক পুনরুদ্ধারকে লক্ষ্য করে। গাজার ভবিষ্যৎ নিরাপত্তা ও পুনর্গঠন প্রক্রিয়া কীভাবে এগোবে, তা আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সহযোগিতা ও গাজার ফিলিস্তিনি নেতৃত্বের সক্রিয় অংশগ্রহণের ওপর নির্ভরশীল।



